somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাক-ভারত (সম্ভাব্য) যুদ্ধ এবং এর পরিণতি

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাক-ভারত যুদ্ধ হোক বা না হোক, এক শ্রেণির প্রচার মাধ্যম ব্যস্ততার খোরাক পেয়েছে বোধহয়। সংবাদের ধরন দেখে মনে হয়, এতেই এদের লাভ। আগাম এবং সম্ভাব্য সেই যুদ্ধের ব্যাপারে দেশদ্বয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকদের চেয়ে এ নিয়ে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক অনেক বেশি। আবার পাক-ভারত সীমান্ত যেহেতু সদা উত্তাপপ্রবণ অঞ্চল, তাই তাদের সে সুযোগ বরাবরের মতোই আছে, থাকবেও হয়তো-বা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যি কি বাঁধতে যাচ্ছে সেই যুদ্ধ? অথবা মিডিয়া যেভাবে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার স্বপ্ন দেখছে, বা অন্যদের দেখাচ্ছে, তাতে কি পাক-ভারত নীতি-নির্ধারক মহলে যুদ্ধের উন্মাদনা তৈরি হবে, নাকি নিজের মতো করে ভাবার কোনো ফুরসত হবে তাদের? আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, উত্তেজনা থাকবে; বরং উত্তাপ আরো বাড়তে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ হবে না। আমার দাবির সমর্থনে ভারতের পক্ষ থেকে অনুমিত কারণগুলোর কয়েকটি হলো:

ক) এ পর্যন্ত একাধিকবার পাক-ভারত যুদ্ধ হয়েছে। এতে কোনো রাষ্ট্রই নিখাদ তৃপ্তি লাভের সুযোগ পায় নি। ৭১-এর কথা-ই ধরা যাক, সেখানে পাকিস্তান পরাজিত বটে। কিন্তু ভারতকেও কি কম মূল্য দিতে হয়েছে? অতি অল্প সময়ে কত সেনাকে তখন প্রাণ দিতে হয়েছে, তা কি ভুলে যাবার মতো? জয়-পরাজয়ের নিক্তিতে আবেগী চিন্তার বেলুন ফুলে উঠলেও প্রাণঝরানোর বেদনায় তা সত্যিই ম্লান! তাই ভারত এ ধরনের পথে এগুবে বলে মনে হয় না।

খ) ভারত তুলনামূলক বৃহৎ দেশ। এর ধারাবাহিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একে আজ উন্নত ও পরাশক্তির কাতারে নিয়ে গেছে। এখন অযাচিত যুদ্ধে তাদের যে ক্ষয়-ক্ষতি হবে, তাতে উন্নতির মহা সড়কে বিরাট রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে, তা বোকাও বুঝতে পারবে। তবে হ্যাঁ, অভ্যন্তরীণ জনগণকে একটু ফুলিয়ে রাখতে হয় বিধায় উত্তেজনা ধরে রাখতে হয়।

গ) ভারতের জনসংখ্যা প্রায় একশো তিরিশ কোটি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈষম্যও সমান হারে বাড়ছে। অধিকাংশ নাগরিকের জীবনের মান এখনো অনেক নিচে। জীবন-মান উন্নত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন সাধনার দরকার। আপতিক যুদ্ধ সে সাধনার অন্তরায়।

ঘ) অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ধর্মান্ধ বা ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিজেপি এখন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী। যুদ্ধের দামামা দেশের নানা ক্ষেত্রে, বিশেষত অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। এতে মসনদ ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই শেষপর্যন্ত তারাও যুদ্ধের দিকে যাবে না। তবে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার জন্য জনতা-মাতানো বক্তব্য চলতেই থাকবে।

অপরপক্ষে পাকিস্তানের দিক থেকে অনুমিত কারণগুলোর কয়েকটি হলো:

ক) একটা সময় পর্যন্ত পাকিস্তানের রাজনীতি অর্থাৎ ক্ষমতার স্বাদ সেনা অফিসার ও এলিট শ্রেণির মাঝেই সীমিত ছিল। তখন যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় যে রস গড়িয়ে পড়ত, তাতে অন্য কারো ভাগ বসানোর সুযোগ ছিল না। এখন আবার তাদের পরম্পরাগত নির্বুদ্ধিতার দরুণ ভয়ঙ্কর পিঁপড়ের জন্ম হয়েছে। আর তা হল পাক তালেবানসহ জঙ্গিবাদী অপরাপর গোষ্ঠীগুলো। এখন যুদ্ধের কোনো নিট ফল, বিশেষত কাশ্মীরের মতো জায়গার সুফল এককভাবে সেনা বা এলিট শ্রেণির কেউ ভোগ করার সুযোগ পাবে না। তাই প্রথাগত কোনো খেলায় মেতে ওঠে ক্ষমতার স্বর্ণ-আপেল খোয়াতে চাইবে না।

খ) অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের উপস্থিতি ও গুরুত্ব ভারতের তুলনায় এখন অনেক সংকোচিত। সীমান্ত প্রদেশগুলোতে সেই বিষ পিঁপড়ের দংশনের পর দংশনের কারণে পাকিস্তান এমনিতেই পর্যুদস্ত। এখন কোনো যুদ্ধ মানেই হলো সরকার বা সেনা সংস্থার দুর্বল হয়ে আসা। কিন্তু ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর শক্তি পূর্ববৎ থাকবে বা এই সুযোগে আরো চাঙ্গা হবে। কিন্তু কে নেবে এই ঝুঁকি?

গ) কাশ্মীরে যুদ্ধ করতে হলে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি থাকবেই। কারণ, এগুলো পাক সরকারের দুধ-কলায় পোষা গোষ্ঠী। নানা কারণে এরা এখন নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে পাক তালেবানরা এদের সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে। তখন যুদ্ধের লাগাম কোনোভাবেই পাক সরকারের হাতে থাকবে না। কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও সম্পৃক্তি মানেই হলো সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সমাজের অনীহা। তখন পাকিস্তানের পায়ের নিচে মাটি থাকবে না এই ভয়ে তারা সামনে এগুবে না।

ঘ) বেলুচিস্তান তো দীর্ঘদিন থেকে উত্তপ্ত। কিন্তু নানাভাবে পাক সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করছে। এবারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদিও বেলুচিস্তানের আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন। এতে বোঝা যায়, তাওয়া বেশ গরম। এখন শুধু রুটি শেকানোর পালা। কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান যদি ব্যতি ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে ভারতও বেলুচদের ব্যাপারে আরো সক্রিয় হবে। যুদ্ধব্যস্ত হয়ে পাক সরকার কতটা বেলুচ সমস্যাকে সামাল দিতে পারবে, তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।

শেষ কথা হল, যুদ্ধ-পরিস্থিতি আছে এবং থাকবে। কিন্তু এতে যদি বাইরের ইন্ধন এগিয়ে আসে তাহলে মোড় ঘুরতেও পারে। কারণ, এখন পরিস্থিতিটা শুধু পাক-ভারতকেই ভাবতে হচ্ছে। যে সমস্ত দেশ এই গরম অবস্থায় এদিক-সেদিক পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হলে তাদের লাভ বেশি। কারণ, তাদের অস্ত্র-বাজার চাঙা হবে। ক্ষয় হবে, ছাই হবে শুধু পাক-ভারতের মাটি ও মানুষ। নিজের স্বার্থ রক্ষায় পাক-ভারত কতটা সক্ষম ও সফল, তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×