"আজ নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে, বড় অচেনা মনে হচ্ছে এই ঢাকাকে"
ছোট বেলায় যখন বাবার কাছে বেড়াতে আসতাম ঢাকায়, তার ছোখের মনি হয়ে থাকতাম। সারাদিন বাবার কাছে হাজারো আবদার করতাম, বায়না ধরতাম অনেক কিছুর জন্যাই। নিজের কর্মব্যাস্ততার মাঝেও যখন সময় বের করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাতে নিয়ে যেত, এক মুহুর্তের জন্যেও হাতটা ছাড়তোনা যাতে আমি হারিয়ে না যাই। আর আমি নির্ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াতাম। যখন গাড়িতে উঠতাম তখন বাবার কোলে বসতাম। যত অন্যায়ই করতাম তিনি কাছে টেনে নিতেন, যত আবদারই করতাম সব পুরন করতেন। বড় ছেলের সবগুলো আবদার যেন তিনি যেকোনো মুল্যে পূরন করতে প্রস্তুত ছিলেন।
অনেক দিন পর দেখা হলো বাবার সাথে তাও তিনি অসুস্থ।
গিয়ে দেখি বিছানা থেকে উঠার শক্তিটুকুও নেই উনার গায়ে। এতো অসুস্থ হওয়ার পরেও বুঝতে দিলনা কাউকে। যখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলাম মনে হলো যেন যার হাত ধরে আগে এই রাস্তাগুলোতে হাটতাম, আজ যেন সে আমার হাতে ভর করে হাটছে। ডাক্তার যখন অনেকগুলো টেস্ট দিয়ে বলল যে ঊনার খুব জটিল কিছু হয়েছে, কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো আমার দেহটাই যেন প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। বাবার দিকে তাকিয়ে মনে হলো যেন তিনি আজো সান্তনা দিচ্ছে, "আমি শত বছর বাঁচব আর সারাজীবন তোদের খেয়াল রাখবো "। হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে আর চোখের অশ্রু ঝরে ঝরে পড়ছে কিন্তু বলতে পারিনি যে বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তাই তোমার এই অবস্থা মেনে নিতে পারছিনা। হৃদয়টা এতটাই শোকার্ত যে মনে হচ্ছে এতদিন একটা বড় বটগাছের ছায়া ছিল আমার উপরে, আজ যেন সেই গাছটির ডালপালা শুকিয়ে গেছে।
বাবার আদরের সেই মুহুর্তগুলো এতটাই মিস করছি যে নিজেকে বড় অভাগা মনে হচ্ছে।
আমি হারাতে চাইনা আমার বাবাকে, তাই খুব ভয় হচ্ছে।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




