somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাইস্কুল জীবনের বিদায় ঘন্টা

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিদায় শব্দটি খুবই বেদনাপুর্ন এবং সবক্ষেত্রেই। আজ আমাদের বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান।একদিকে যেমন ছিল বৃহত লক্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অন্যদিকে ছিল ৫ বছরের স্মৃতিময় দিনগুলো।অবশেষে ভবিষ্যতের জন্য অতীতকে কুরবানি করতে হলো।কত স্মৃতি জড়িত আমাদের এই বিদ্যালয়ের সাথে সেটা বলে বোঝানো যাবে না।যদিও আমরা কিশোর ;তাই ফুপিয়ে কান্না করাটা শোভা পায় না।কিন্তু আমি জানি সবাই যতই হাসিমুখে থাকুক না কেন তাদের মন টা ছিল বিষাদ পুর্ন। আর এই বিষাদের একমাত্র কারন যে কি সেটা সবার জানার কথা। ৫ বছর আগে যখন আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন আমরা কেবল প্রাইমারি সেকশন পার করে এসেছি।আমাদের মধ্যে ছেলেমানুষি থেকেই গিয়েছিল।আমরা এই ছেলেমানুষি নিয়েই বন্ধুদের সাথে ৫ টি বছর কাটিয়ে দিয়েছি।এই ছেলেমানুষির কোনো তুলনা হয় না।কোনো বস্তু দিয়ে সেটার উপমা হয় না।

৫ টি বছর। কম সময় নয়।কিন্তু এখনো দিনগুলো এমন স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেন মনে হয় সেই ২ দিন আগের ঘটনা৫ টি বছর এত তাড়াতাড়ি চলে গেল???...ভাবা যায়??..আসলে,বাস্তবতার নিরীখে আমাদেরবেচে থাকতে হয়। এই বাস্তব জীবনে আবেগের কোনো জায়গা নেই।যে এই আবেগ প্রদর্শন করবে তাকে নিতান্তই ছিচকাদুনে বলে গন্য করা হবে। কিন্তু,একটা কথা। আবেগ না থাকাটা কি ভালো জিনিস??.... আসলে যার বন্ধুবান্ধবদের প্রতি ভালোবাসা আছে তাদের আবেগ আছে।আর যার নেই সে কখনো মানুষ হতে পারে না।তাই আবেগ থাকাটা স্বাভাবিক।প্রাইমারি জীবনে বন্ধু ছিল অনেক কিন্তু বন্ধত্বের মর্যাদা বুঝতাম না।কলেজ জীবন হলো মাত্র ২ বছরের।তাই হাইস্কুল জীবনের বন্ধুত্বগুলা স্মৃতির মনি কোঠা থেকে কখনো মুছে যায় না।পরীক্ষা শেষ হবার পর সবাই হয়তো আলাদা হয়ে যাবো। কারো সাথে দেখা খুব ভালো করে নাও হতে পারে।জীবনযুদ্ধে আবার নতুন করে নামতে হবে এবং এই যুদ্ধে টিকে থাকতে হবে। এই যুদ্ধে অতীতের কথা ভেবে ইমোশনাল হওয়া যাবে না।কিন্তু অনেক বছর পর হয়তো আমরা দেখা করবো। তখন হয়তো আমরা সংসারী থাকবো। সামনাসামনি দেখা হবার পর হয়তো বুকটা ধক করে উঠবে। কান্নায় চোখ ভেংগে আসতে চাইবে।মনের ভেতরের অতীত স্মৃতি গুলা হয়তো ভেসে উঠবে। নির্জন নিরালায় বসে হয়তো আমরা আমাদের সেই সোনালি দিনগুলার স্মৃতিচারন করবো এবং দুঃখ করবো ইস, আবার যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলি! কিন্তু আমরা বাস্তবতা বুঝতে পারবো। জীবনের অনেক পথ চলে এসেছি এখন আরা back করা সম্ভব নয়।


আজ আমাদের যে বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি মানপত্র দেওয়া হয়েছে।কেউ মানপত্র গুলো ভালো করে পড়ে দেখেছে কিনা জানিনা কিন্তু আমি খুব মনোযোগ সহকারেই পড়েছি এবং মনে হয়েছে প্রত্যেকটি কথা এবং লাইন খুবই কষ্টদায়ক এবং অন্তর্ভেদি। মনে হচ্ছে বিদ্যালয়টি যেন আমাদের সাথে কথা বলছে:তোমাদের হারাতে চাই না। কিন্তু বৃহত আকাঙ্ক্ষার এই জীবনযুদ্ধে নামতে তোমাদের বাধাও দেবো না। ৫ বছরে বিদ্যালয়ের প্রতিটি জায়গায় জায়গায় তোমাদের স্মৃতি রয়েছে।আমি এগুলো ধারন করবো।

আসলে,বিন্দুবাসিনী একটা অনুভূতির নাম যা একমাত্র শুধু তারাই অনুভব করতে পারে যারা একে মনেপ্রানে ভালোবাসে।আমরাও ভালোবাসি।এই বিদ্যালয়কে। অন্তর দিয়ে অনুভব করি বিন্দুবাসিনীকে।আজ বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে আমাদের ৫ বছরের এই যাত্রার।যে যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে এবং সেটা শেষ হলো আজ ২৯ জানুয়ারি, ২০১৯ এ। কখনো হয়তো ভাবিনি যে এভাবে আমাদের ও একদিন বিদায় নিতে হবে। এই বিদায় যেমন সুখের তার থেকে বেশি হলো দুঃখের।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×