বিদায় শব্দটি খুবই বেদনাপুর্ন এবং সবক্ষেত্রেই। আজ আমাদের বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান।একদিকে যেমন ছিল বৃহত লক্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অন্যদিকে ছিল ৫ বছরের স্মৃতিময় দিনগুলো।অবশেষে ভবিষ্যতের জন্য অতীতকে কুরবানি করতে হলো।কত স্মৃতি জড়িত আমাদের এই বিদ্যালয়ের সাথে সেটা বলে বোঝানো যাবে না।যদিও আমরা কিশোর ;তাই ফুপিয়ে কান্না করাটা শোভা পায় না।কিন্তু আমি জানি সবাই যতই হাসিমুখে থাকুক না কেন তাদের মন টা ছিল বিষাদ পুর্ন। আর এই বিষাদের একমাত্র কারন যে কি সেটা সবার জানার কথা। ৫ বছর আগে যখন আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন আমরা কেবল প্রাইমারি সেকশন পার করে এসেছি।আমাদের মধ্যে ছেলেমানুষি থেকেই গিয়েছিল।আমরা এই ছেলেমানুষি নিয়েই বন্ধুদের সাথে ৫ টি বছর কাটিয়ে দিয়েছি।এই ছেলেমানুষির কোনো তুলনা হয় না।কোনো বস্তু দিয়ে সেটার উপমা হয় না।
৫ টি বছর। কম সময় নয়।কিন্তু এখনো দিনগুলো এমন স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেন মনে হয় সেই ২ দিন আগের ঘটনা৫ টি বছর এত তাড়াতাড়ি চলে গেল???...ভাবা যায়??..আসলে,বাস্তবতার নিরীখে আমাদেরবেচে থাকতে হয়। এই বাস্তব জীবনে আবেগের কোনো জায়গা নেই।যে এই আবেগ প্রদর্শন করবে তাকে নিতান্তই ছিচকাদুনে বলে গন্য করা হবে। কিন্তু,একটা কথা। আবেগ না থাকাটা কি ভালো জিনিস??.... আসলে যার বন্ধুবান্ধবদের প্রতি ভালোবাসা আছে তাদের আবেগ আছে।আর যার নেই সে কখনো মানুষ হতে পারে না।তাই আবেগ থাকাটা স্বাভাবিক।প্রাইমারি জীবনে বন্ধু ছিল অনেক কিন্তু বন্ধত্বের মর্যাদা বুঝতাম না।কলেজ জীবন হলো মাত্র ২ বছরের।তাই হাইস্কুল জীবনের বন্ধুত্বগুলা স্মৃতির মনি কোঠা থেকে কখনো মুছে যায় না।পরীক্ষা শেষ হবার পর সবাই হয়তো আলাদা হয়ে যাবো। কারো সাথে দেখা খুব ভালো করে নাও হতে পারে।জীবনযুদ্ধে আবার নতুন করে নামতে হবে এবং এই যুদ্ধে টিকে থাকতে হবে। এই যুদ্ধে অতীতের কথা ভেবে ইমোশনাল হওয়া যাবে না।কিন্তু অনেক বছর পর হয়তো আমরা দেখা করবো। তখন হয়তো আমরা সংসারী থাকবো। সামনাসামনি দেখা হবার পর হয়তো বুকটা ধক করে উঠবে। কান্নায় চোখ ভেংগে আসতে চাইবে।মনের ভেতরের অতীত স্মৃতি গুলা হয়তো ভেসে উঠবে। নির্জন নিরালায় বসে হয়তো আমরা আমাদের সেই সোনালি দিনগুলার স্মৃতিচারন করবো এবং দুঃখ করবো ইস, আবার যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলি! কিন্তু আমরা বাস্তবতা বুঝতে পারবো। জীবনের অনেক পথ চলে এসেছি এখন আরা back করা সম্ভব নয়।
আজ আমাদের যে বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি মানপত্র দেওয়া হয়েছে।কেউ মানপত্র গুলো ভালো করে পড়ে দেখেছে কিনা জানিনা কিন্তু আমি খুব মনোযোগ সহকারেই পড়েছি এবং মনে হয়েছে প্রত্যেকটি কথা এবং লাইন খুবই কষ্টদায়ক এবং অন্তর্ভেদি। মনে হচ্ছে বিদ্যালয়টি যেন আমাদের সাথে কথা বলছে:তোমাদের হারাতে চাই না। কিন্তু বৃহত আকাঙ্ক্ষার এই জীবনযুদ্ধে নামতে তোমাদের বাধাও দেবো না। ৫ বছরে বিদ্যালয়ের প্রতিটি জায়গায় জায়গায় তোমাদের স্মৃতি রয়েছে।আমি এগুলো ধারন করবো।
আসলে,বিন্দুবাসিনী একটা অনুভূতির নাম যা একমাত্র শুধু তারাই অনুভব করতে পারে যারা একে মনেপ্রানে ভালোবাসে।আমরাও ভালোবাসি।এই বিদ্যালয়কে। অন্তর দিয়ে অনুভব করি বিন্দুবাসিনীকে।আজ বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে আমাদের ৫ বছরের এই যাত্রার।যে যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে এবং সেটা শেষ হলো আজ ২৯ জানুয়ারি, ২০১৯ এ। কখনো হয়তো ভাবিনি যে এভাবে আমাদের ও একদিন বিদায় নিতে হবে। এই বিদায় যেমন সুখের তার থেকে বেশি হলো দুঃখের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


