somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের অস্ষ্হিতিশীল রাজনীতি, ভুক্তভোগী সাধারণ আমরা।

২০ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালোরাত কাটেনা,কাটেনা। এত ডাকি রোদ্দূর, রোদ্দূর এই পথে হাটেনা। এই পথ মানে ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের বাংগালী জাতির চলার পথ। বাংগালীজাতি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি, আনেক কষ্টে অর্জিত আমাদের স্বাধীণতা। দেশের কর্নধার আমাদের রাজনীতিবিদ গন গনতণ্ত্রের কথা বলে, সাম্য বাদের কথা বলে ।ধর্ম, জাতি নিরপেক্ষতার কথা বলে। দিনবদলের শ্লোগান দিয়ে মুখের ফেনা তুলে ফেলে। ব্যাস ঐপর্যন্তই সীমাবদ্ধ। এর আর কোনো অগ্রগতি নেই, নেই বাস্তব প্রদর্শন!!
তার প্রমাণ স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও এতসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা। বিডিয়ার পিলখানায় সামরিক অফিসারদের গণহত্যা, এখনো দেশের বিদ্যাপীঠ গুলিতে রাজনীতিবিদদের অশুভ ছায়া, অস্ত্রের ব্যবহার। দারিদ্রতাকে পরাজিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা নিরাপরাধ আবুবকরদের অকাল মৃত্যু। রক্তে সিক্ত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অংগন, পার্বত্য এলাকায় আদিবাসী ও বাংগালীর মধ্যে সহিংস ঘটনা আর প্রাণের মৃত্যু।
এই জাতি প্রাণ দিয়েছে ভাষার জন্য, স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য । কত প্রাণ, আর কত প্রাণের বলি হলে এই জাতির মুক্তি মিলবে জানিনা। কত প্রাণের অস্বাভাবিক মৃতু হলে দেশে একটা স্হিতিশীল রাজনৈতিক অবস্হা বিরাজ করবে, সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে!!
অসময়ে চলে যাওয়া এই মানুষগুলির স্বজনেরা কি অপরিসীম কষ্ট, যন্ত্রনা নিয়ে বেচেঁ থাকে তা একবারও অনূভব করেনা আমাদের বরেণ্য! রাজনীতিবিদ গন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু কাগজের নোট দিয়ে দায়িত্ব শেষ বলে মনে করে। ন্যুনতম নাগরিক সুবিধা দিতে যেখানে তারা ব্যর্থ, হাজারো সমস্যা অন্নহীন,বস্ত্রহীন,শান্তিহীন,স্বস্তিহীন,নিরাপত্তাহীন জাতির জীবন নিয়ে বেচেঁ থাকাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। এক ভয়াবহ আতংকের মধ্যে দিন কাটাতে হয়, কখন জানি কোন দিগন্ত থেকে ভয়ানক রুদ্রমূর্তিতে ভাগ্যাকাশে ঘনিয়ে আসে সর্বনাশের কালো মেঘ।
এতো যে অঘটন, অরাজকতা। এতো প্রাণের মৃতুর পরেও আমাদের রাজনীতিবিদদের তা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ দেখিনা। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সঠিক তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির শাস্তির নির্দেশ দেন। যদিও এই নির্দেশ খুব একটা ফলপ্রসূ হয়না ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের কারণে।

মজার ব্যাপার হলো, এতো ঘটনা, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তার জন্য আমাদের নৈতিকতা,সততা বিবর্জিত সরকার, বিরোধী দল কখনোই নিজেদের ব্যর্থতার কথা একটি বারের জন্যও স্বীকার করেনা!! কখনোই তাদের মধ্যে দায়বোধ অনুভূত হয়না। আফসোস!!! প্রতিবার কবার প্রতিটি ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষী, নিন্দা করার নোংরামিতে ন্যস্ত হয়ে পড়ে। এই অসুস্হ সাংঘর্ষিক আচরণ কোনদিন তারা প্রতহত করে দেশবাসীর দিকে তাকাবেন কে জানে। যে দলই ক্ষমতায় আসে, তারা পরিবর্তন ঠিকই করে তবে জনগনের ভাগ্য নয় পূর্বের সরকারের সব কাজ, নাম নিশানা যুক্ত ফলক । কোটি কোটি টাকা অপচয় করে তারা এই সব করে বিকৃত আনন্দ লাভ করে!!!

মানুষের লজ্জা নাকি চোখে অনুভূত হয়। আমাদের রাজনীতিবিদদের চোখের পর্দা এতই মোটা যে স্বজনহারা মানুষ গুলোর বেদনা, দিনেরপর দিন আবুবকরের মা চুলে তেল না দিয়ে ছেলেকে অধ্যাপক বানাবার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তাদের চোখে লজ্জা অনুভূত হয় না।
যে দেশে দুধের বাচ্চা ধর্ষন হয় সেই দেশের সরকারের বিবেক কতখানি জগ্রত হয়েছে আমার প্রশ্ন। নাকি বিকৃত ক্ষমতার লোভ তাদের বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে।
আজ আমাদের কাছে স্বপ্ন হয়ে দাড়ি্যেছে , কবে পাবো একটি সঠিক নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব আমাদের উপহার দিবে আদর্শ রাজনৈতিক অংগন। সুস্ঠু রাষ্ট্র ব্যবস্হা। যেখানে ব্যক্তি স্বার্থ নয় জনগনের স্বার্থই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। কারন, খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে হুশিয়ারী দিয়ে ফেলেছেন তারা ক্ষমতায় এলে এক এক করে এই সরকারের সব অপকর্মের হিসাব নিবে। তাদের এই পারষ্পরিক হিসেব নেয়ার যাতাকল থেকে মুক্তি পাওয়ার কি কোন উপায় নেই?????????????????
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×