somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিনেমাটিক ডাক্তারী ঘটনা সমূহ ও তার বাস্তব ব্যাক্ষা

১১ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সিনেমা বা রুপালী জগৎ আমাদের অনেকেরই বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। একসময় যখন ছোট ছিলাম তখন প্রায়ই ভিসিআর এ হিন্দি সিনেমা দেখার চল ছিলো। এমনও হয়েছে পাশের বাসায় ক্যাসেট আনসে আমরা বাচ্চা পার্টি হাজির.............। আর একটা বিনোদন ছিলো-শুক্রবার বিকাল ৩ টার বাংলা সিনেমা গুলো।কত ছোট ছোট আবেগ তখন নিজেদের মধ্যে ঢুকে যেত.ভিলেন নায়ককে পিছন থেকে মারতে আসলে চিৎকার-পিছনে দেখ ,পিছনে দেখ। আবার শেষ দৃশ্যে নায়ক নায়িকা মারা গেলে কেমন জানি দুঃখ দুঃখ ভাব।

সে সময় আরও একটা বিষয় আমাদের মজ্জা গত হয়ে যায় আর তা হলো নায়ক নায়িকার ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া বা নায়ক নায়িকার ব্লাড ক্যান্সার হওয়া।প্রায় সিনেমা তেই কারো না কারো ব্রেন টিউমার বা ব্লাড ক্যান্সার হচ্ছে।এখন বুঝি ব্যাপার গুলো অতটা রোমান্টিক না বেশ ভয়াবহ ব্যাপার । ব্লাড ক্যান্সারের নায়িকা কেমোথেরাপী পেয়ে চুল ছড়িয়ে মাঠে ঘাটে গান গেয়ে বেড়াচ্ছে বাস্তবে এটা সম্ভব না।

২য় ঘটনা - প্রায়ই নায়ক গাড়ী চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে মাথায় আঘাত পেয়ে সব ভুলে যায়,পরে আবার সেই একই জায়গায় আঘাত পেয়ে সব কিছু মনে আসে..............।কি ভয়াবহ ব্যাপার ।হেড ইনজুরী তে বেশীর ভাগ রোগীর জ্ঞান থাকেনা..।আর কয়েক দিন পর যদি জ্ঞান ফিরে তাহলে সাধারনত সব কিছু মনে করতে পারে।হয়ত বিছ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ভুলে যেতে পারে কিন্তু কখনও দেখিনি বাড়ী সুদ্ধ সবাই কে চিনছে না।আর এমন ব্যাপার ত নেই ই যে সে জায়গায় আঘাত লাগলে স্মৃতি ফেরৎ আসবে।

৩য় ঘটনা- নায়কের বাবার ২টা কিডনীই নষ্ট হয়ে গেছে। আকাশ জুড়ে বিদ্যুৎ চমক কারন তখনই কিডনী না দিলে বাবাকে বাচানো যাবেনা ।
বিশ্বাস করুন এখনও যদি কাউকে সি আর এফ বুঝাতে যাই তাহলে শুনতে হয় ওনার কি ২টা কিডনী ই নস্ট? আমি বলি হ্যা কারন ১ টা কিডনী কখনও ফেল করেনা .............।রেনাল ফেইলর মানেই ২ টা কিডনী নস্ট আর সি আর এফ যদি ও দুরারোগ্য রোগ কিন্তু ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে মানুষ ভালো ভাবে বেচে থাকে(সি আর এফ নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট দিবো)

আরও অনেক বাস্তব বিবর্জিত ঘটনা দেখা যায় যেমন এক ভাই অসুস্হ আরেক ভাই রক্ত দিবে..।পাশাপাশি বেড এ ২ জন শুয়ে একজনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে স্যালাইন ব্যাগের মাধ্যমে রক্ত চলে যাচ্ছে......।বাস্তবে এটা কখনও ই সম্ভব না ।ব্লাড ট্রান্সফিউশনের বেশ কিছু স্টেপ আছে গ্রুপিং,ক্রস ম্যাচিং তার পর স্ক্রিনিং তার পর ট্রান্সফিউশন।যারা নিয়মিত রক্ত দান করেন তারা জানেন সিনেমাটিক ব্লাড ট্রান্সফিউশন আসলে বাস্তবে সম্ভব না ।

৫ম ঘটনা - সিনেমার সাইড নায়ক নায়িকা বা ভিলেন বা বা গুলি খেয়ে বা বিষ খেয়ে তৎক্ষনাৎ মারা যান কিন্তু তার আগে বিশাল বয়ান দিয়ে নায়ক নায়িকার বিয়ে দিয়ে যান । এখানে কয়েকটা অবাস্তব ঘটনা ঘটে যেমন হার্টে বা ব্রেনে গুলি না খেলে মৃত্যু তৎক্ষনাৎ হয়না,বিষ খেলে ত নয়ই. আবার মৃত্যুর আগে কোন মানুষ ই এভাবে কথা বলেনা---- আর কিছু রোগে বললেও সেটা হয় অসংলগ্ন।

আবার দেখা যায় হাসপাতালে স্যালাইন চলছে বা মাস্কে অক্সিজেন চলছে ভিলেন এসে স্যালাইন বা মাস্ক খুলে দিলো আর রোগী মারা গেল আসলে এটাও সম্ভব না ।

আসলে সিনেমা একটা বিশাল মাধ্যম আর আমরা আমরা ছোট থেকে এর মাধ্যমে কতই না ভুল ধারনা নিয়ে বড় হই..................।কোন বিষয়ে ধারনা না থাকা ভালো কিন্তু এত দিনের ভুল ধারনা গুলো লালন করা আসলেই ঝুকিপূর্ন আর তাও যদি স্বাস্থ্যগত বিষয়ে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:১৮
২১টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×