somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রুফিয়াস মিলেনিয়াম
আমি ৭০০ বছর ক্রায়োজেনিক টিউবে থাকার পর অতীতে সময় পরিভ্রমণ করতে গিয়ে বিকল্প বাস্তবতায় চলে এসেছি। আমার ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/rufiusmillennium

অ্যানিমে মুভি রিভিউঃ কিমি নো না ওয়া

২৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



Kimi no Na Wa

ইংরেজি নামঃ Your Name
জনরাঃ রোম্যান্স, সাইফাই, সুপারন্যাচারাল, স্কুল, ড্রামা
দৈর্ঘ্যঃ ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট
টাইপঃ মুভি, ১২+
সময়কালঃ ২০১৬

এইতো সেদিন ইউকে প্রিমিয়ারে দেখে আসলাম সাম্প্রতিক সময়ের বহুল জনপ্রিয় অ্যানিমে “কিমি নো না ওয়া”। ইংরেজিতে Your Name. মাইঅ্যানিমেলিস্ট ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত ৩ নম্বরে থাকা এই অ্যানিমে নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এটি কি আসলেই একটি মডার্ন অ্যানিমে মাস্টারপিস, যেমনটি অনেকে বলছে? নাকি মাস্টারপিস বলার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল অ্যানিমেটার মার্কেটিং সফল করা…
( স্পয়লার নেই )

কাহিনীঃ

ছোট্ট কান্ট্রিসাইডের সাদামাটা জীবনের সবকিছু হাইস্কুল ছাত্রী মিতসুহার কাছে একদম একঘেয়েমি লাগে। তার ছোটবোনকে নিয়ে সে তার নানীর সাথে থাকে। তার নানীর পরিবারের সাথে শিন্তো মন্দিরের সম্পর্ক আছে বলে তাকে এক প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে বিভিন্ন রিচুয়াল করতে হয়। এই ছোট শহরে সবাই সবাইকে চেনে, তাই সহপাঠীদের সামনে এসব নৃত্য, পার্থনা করতে তার খুব বিব্রত বোধ হয়। সে এই জীবন ছেড়ে টোকিয়ো চলে যেতে চায়।

একদিন সকালে মিতসুহা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেল সে অন্য এক অচেনা বেডরুমে। আয়নায় নিজেকে দেখে সে যা দেখলো তাতে এটা নিছক স্বপ্ন মনে হল। টোকিও শহরে তাকি নামের একটা ছেলের সাথে তার শরীর বদল হয়ে গেছে। তাকি ও ঘুম থেকে উঠে নিজেকে মিতসুহার শরীরে আবিষ্কার করলো। পরদিন আবার তারা নিজেদের শরীর ফিরে পেলেও, এরপর থেকে তারা একদিন পরপর সকালে ঘুম থেকে উঠলেই একে অপরের শরীরে আবিষ্কার করা শুরু করলো। আর শুরু হল তাদের জীবনে যত গণ্ডগোল।
আপাতদৃষ্টিতে, চমৎকার অ্যানিমেশন আর সেমি রিয়েলিস্টিক ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যার্টের সাথে বলা একটি রোমানটিক গল্প হল কিমি নো না ওয়া । মাকোতো শিঙ্কাইয়ের সিগ্নেচার একগাদা ট্রেইন, সাইডসিন আর ডিস্ট্যান্ট লাভের গল্পে যখন সবাই মগ্ন ছিল তখন আমার মনে ছিল অন্য কিছু প্রশ্ন। এবং সেগুলোর উত্তরও আমি পেয়েছি।

দা ফল্ট ইন ইওর নেইমঃ


কেন তাদের শরীর অদল বদল হচ্ছে? আকাশে হাজার বছরে একবার দেখতে পাওয়া যায় এমন একটা ধুমকেতুর তাৎপর্য কি? বুড়ি নানির দার্শনিক সব কথার মানে কি? এগুলো আসল প্লটের সাথে কিভাবে যায়? এসব নিয়ে ভেবেছি, এবং উত্তরও পেয়েছি। এই অ্যানিমেতে সাটেলটি বলছে খুব জিনিষ আছে। তাই ওয়েস্টার্ন নতুন অ্যানিমে ফ্যানরা এগুলো সহজে হজম করতে পেরেছ। নিজের ঐতিহ্যকে বহন করার গুরুত্বের মেসেজটাও চোখের সামনে বার বার নাড়াচ্ছিল অ্যানিমেটা। যারা ধরতে পারেনি তারা শুধু রোমান্স গিলেছে। মানে সবার জন্যেই কিছু না কিছু ছিল এখানে। তাই এর জনপ্রিয়তা খুব তারাতারি বেড়েছে। আর হ্যা অবশ্যই, মার্কেটিঙএর জন্য ইন্টারনেট সাহায্য করেছে।

অ্যানিমেটাতে গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস অ্যানিমের একটা চরিত্রকে দেখা যাবে। ক্রসভার করে কি শিনকাই তার নিজের ইউনিভার্স বানাতে চাচ্ছেন? জানিনা।

অ্যানিমের ওপেনিং সিন এবং মাঝখানের একটা দৃশ্যে মিউজিকের সাথে ট্রাঞ্জিশন করা হয়েছে। ঐ দৃশ্য দুটি চমৎকার লেগেছে। কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে গানের ওভারস্যাচুরেশনে বিরক্ত হয়েছি। স্পেশালি একটা ইমোশনাল দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে গান গেয়েই চলছিল। সেখানে একটু নিরবতার দরকার ছিল।

মিতসুহা আর তাকির রোম্যান্সটা কেন জানি কিছুটা মেলোড্রামাটিক লেগেছে। যদিও ফ্যানেরা অজুহাত হিসেবে বলছে যে, একে অপরের শরীরে গিয়ে তারা দুজন দুজনাকে খুব ভালো ভাবে চিনতে পেরেছে বলেই এই রোম্যান্স তার পরেও আমি এটা মানতে পারবো না। কারন অ্যানিমেটাতে দুজনের জীবনের কঠিন সময়গুলো দেখানো হয় নি। দৈনন্দিন নিজ নিজ জীবনের প্রতিবন্ধকতাগুলো যদি তুলে ধরা হত তাহলে চরিত্রগুলি আরো ভালো করে ফুটে উঠতো। “নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বা্স, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস” - এই প্রবাদটির কথা অ্যানিমেটাতে ভালো মতই দেখানো যেত। কিন্তু তা দেখানো হয়নি। কেন তারা একে অপরকে অ্যাপ্রিশিয়েট করে তার ধারনাটা খুবই ইনার্ট লেগেছে।

অ্যানিমের আসল প্লট টুইস্টটা রিভিল হবার অনেক আগেই আমি বুঝতে পেরেছি। এটা অত কঠিন টুইস্ট না, কিন্তু আনকনভেনশনাল বটে। স্টেইক যখন মানবিক থেকে জাগতিক হয়ে গেছে, তখনই অ্যানিমের প্রতি আবেগ কিছুটা সরে যাবার আশঙ্কা করেছিলাম, কিন্তু সেটা ভালো ভাবেই এক্সেকিউট করা হয়েছে।

তবে মিতসুহার আর তার বাবার সম্পর্ক নিয়ে সাবপ্লটটা একদম কাঁচা রেখে দেয়া হয়েছে। যেটা আরেকটু ফুটিয়ে তুলতে পারলেই হত।
মুলত অনেকগুলো ভালো কন্সেপ্ট আছে মুভিটাতে কিন্তু সেগুলো আধাপাকা রেখেই মুভি এগিয়ে গেছে মেলোড্রামাটিক ডিস্ট্যান্ট-লাভ রোমান্সের দিকে।



ওয়েস্টার্ন টিনেজ দর্শকরা তাদের মুভিগুলোতে যেরকম ভালোবাসার গল্প দেখে অভ্যস্থ,তার থেকে ইয়োর নেইম এর গল্প আলাদা, তাই তাদের কাছে এই নতুন রোমান্স অবশ্যই ভালো লাগবে। কিন্তু, যারা অনেক অ্যানিমে দেখেছেন তাদের কাছে এটা তেমন স্পেশাল মনে হবে না। আমি নিজে রোম্যান্স অ্যানিমের ফ্যান না। কিন্তু তারপরেও আমি এরচে উত্তম সাইফাই রোম্যান্স এর নাম বলে দিতে পারবো। আর এ পর্যন্ত যত রিভিউ দেখেছি তাতে মনে হচ্ছে এর আগে কেউ মনে হয় জীবনেও bodyswap সাবজনরার মুভি কখনো দেখেনি।
থাক, হয়তো একটু হার্শ হয়ে যাচ্ছি, অ্যানিমেটার উপর। আসলে হয়েছে কি, অ্যানিমেটা আসলেই ভালো। কিন্তু যেভাবে এটার মার্কেটিং করা হয়েছে, আর অ্যানিমেলিস্ট গুলোতে রিভিউ দেয়া হয়েছে, তাতে অনেক বড় এক্সপেক্টেশন নিয়ে দেখলে আশাহত হতে হবে। অ্যানিমেটা ওভারহাইপড, এবং কিঞ্চিত ওভাররেটেড। মানুষের ভালো লাগা আমি বদলাতে চাচ্ছি না। আমারো ভালো লেগেছে। কিন্তু অতটা না যতটা সবাই দাবী করছে।

মাস্টারপিস না হলেও, এই মুভিটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখার মত মুভি, তবে অস্কার নমিনেশনের যোগ্য না। এর এত জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর গল্পটা না, বরং সহজলব্ধতা। আমি লন্ডনের একটি সিনেমায় গিয়ে দেখে এসেছি, সেখানে এর আগে জিবলি মুভি ছাড়া আর কোনো অ্যানিমে স্ক্রিনিং হয় নি। আর সেখানেই অ্যানাউন্স হবার কয়েক ঘন্টার মাঝেই অনলাইনে ফুল বুকড হয়ে গেছে। পরে যেখানে ২ দিন দেখানোর কথা ছিল, সেখানে একসপ্তাহ জুড়ে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইন হাইপ আর বিজ্ঞাপন এই অ্যানিমের বাণিজ্যিক সফলতার জন্য কতটা সাহায্য করেছে। আশা করি ভবিষ্যতে এরকম আরো অনেক অ্যানিমে মেইনস্ট্রিম সফলতার সুযোগ পাবে। কারণ এই নেটফ্লিক্স আর সিজিআই অ্যানিমের যুগে জাপানি স্টুডিওগুলির অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য কয়েকটি অসাধারণ অ্যানিমে মুভির বড়ই প্রয়োজন।

পার্সোনাল রেটিংঃ
গল্পঃ ৭.৫/১০
অ্যানিমেশনঃ ৯.৫/১০
সাউন্ডট্র্যাকঃ ৯/১০
ওভারঅলঃ ৮/১০


সিমিলার রেকমেন্ডেশনঃ The Girl Who Leapt Through Time, Garden of Words, A Silent Voice, Hotarubi no Mori e, Patema Inverted and other Makoto Shinkai movies.
স্পয়লারঃ মুভির কোথাও আমার নামটা খুঁজে পাইনি।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৪৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×