somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাণিজ্য ও শাখামৃগ!

০৬ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক গাঁয়ে একদিন এক আগন্তুক তার সাগরেদ সমেত আসিয়া বলিল,

"ওহে গ্রামবাসী, আমি এক ব্যবসায়ী। শুনেছি তোমাদের এ গাঁয়ে নাকি প্রচুর শাখামৃগ পাওয়া যায়? আমি প্রতিটির জন্যে ১০০ টাকা করে দিতে রাজি আছি!"

গ্রামবাসী ভাবিল, বাহঃ! এ তো জব্বর প্রস্তাব! এ আর এমন কি, গাঁয়ে তো আর বানরের অভাব নেই...যেমন ভাবনা তেমন কাজ। চাষবাস বাদ! কাচা মেরে সবাই লেগে গেল বানর ধরিতে। কেউ ১০খানা, কেউ ২০খানা, কেউবা ৩০খানার মত বানর আনিয়া ব্যবসায়ীর কাছে প্রতিটি ১০০ টাকার বিনিময়ে বেচিয়া দিল।

এর ফলে গাঁয়ে বানরের সংখ্যা পড়তির দিকে আর গ্রামবাসীও পর্যাপ্ত মুনাফা করে ক্ষণকাল ক্ষান্ত দিল।

২দিন বাদে আবার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘোষণা আসিল-

"এবার শাখামৃগ প্রতি ২৫০ টাকা!"

এই ঘোষণা শুনিয়া গ্রামবাসী পুনরায় মহাউদ্যমে চাষাবাদ বাদ দিয়া বানরের পিছে ছুটতে লাগিল। ধৃত বানরের সংখ্যা পূর্বের ন্যায় না হলেও বানর প্রতি অর্থের পরিমাণ দেড়গুণ হওয়ায় বেশ তোফা মুনাফা হতে লাগিল।

যেরূপ বানরের পরিমাণ হ্রাস হইতে থাকিল সেরূপ বানর প্রতি অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পাইতে থাকিল। এক সময় ওই গাঁয়ে বানর বলিয়া আর কিছু রইল না। কিন্তু তাতেও গ্রামবাসীদের কে আটকায়? পড়শি গ্রাম, কুটুম গ্রাম, এগ্রাম-সেগ্রাম ঘুরিয়া, বানর ধরা চলিল। একসময় আশপাশের দশ গাঁয়ে বানর বলিয়া চোখে পড়িবার মত কিছু রইল না।

এমতাবস্থায় ব্যবসায়ী বানর প্রতি দর হাঁকিলেন হাজার টাকা থেকে এক লম্ফে ৫ হাজার টাকা! কিন্তু বানর কই? গ্রামবাসী আফসোসে হস্ত কামড়ায় নিজেদের নির্বুদ্ধিতায়, "ইশ! কেন যে ৫-১০খানা এমন সময়ের জন্য নিজেদের কাছে রাখলুম নে। তোফা মুনাফা হত!"

সে যাই হোক, এরই মাঝে একদিন ব্যবসায়ী বাবুকে জরুরি কাজে শহরে যেতে হয় এবং তিনি তার সাগরেদকে বানর ক্রয়ের ভার দিয়ে যান।

এই মোক্ষম সুযোগে সাগরেদ গ্রামবাসীদের ডাকিয়া খাঁচা ভর্তি বানর দেখাইয়া বলিল, "দেখুন মশাইরা, আপনারা এতদিন যে শাখামৃগগুলো বেচেছেন সেগুলো এখানেই আছে। আপনার এগুলো আমার কাছ থেকে প্রতিটি ২০০০ টাকা করে কিনিয়া নিন আর ব্যাপারী শহর থেকে ফিরিলে তার কাছে ৫০০০টাকা করে বেচিয়া দিবেন! এতে বানর প্রতি আপনাদের ৩০০০টাকা করিয়া মুনাফা হইবে!"

এমন প্রস্তাবে গ্রামবাসীরা যেন সোনার খনি পাইল। যে যেভাবে পারিল অর্থের বন্দোবস্ত করিল। কেউ, জমানো টাকা দিয়া কিনিলো, কেউ কিনিলো গিন্নীর স্বর্ন বেচিয়া, আবার কেউবা জমি বন্ধক রাখিয়া সে টাকায় বানর কিনিলো। সবার মনে আশা, এবার
কয়েকগুণ মুনাফা হইবে!

পরদিন ভোর হইতে গ্রামবাসী সেই ব্যবসায়ী সাগরেদকে আর দেখিতে পাইলো না। এদিকে ব্যবসায়ীও আর শহর থেকে ফিরে না।

এখন গ্রামবাসীর কাছে না রইল অর্থ আর না রইল সম্পদ।

শুধু রয়ে গেল গাঁও ভর্তি দুঃখ আর বানর!

একদিন গ্রামবাসীর নামে একখানা বেনামি চিঠি আসিল আর তাতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা ছিল-



"Welcome to Share Market!"


(অনুবাদকৃত)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×