(সেই মোহাজের বিহারিরাই ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতার বিরুদ্ধে সব চেয়ে বেশি জঘণ্য অপকর্ম করেছে – এ জন্যেই মোহাজের বিহারিদের বিহারবাসিরা তাড়িয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস) ।
কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ হতে না হতেই শুরু হয়েছে নোয়াখালিতে - হিন্দুদের উপর মুসলমানদের আক্রমন। ঢাকায়তো দাঙ্গা লেগেই আছে । এর প্রতিক্রিয়ায় বিহারে ভয়াবহ দাঙ্গা । প্লা্যান করে মুসলমানদের হত্যা করা হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরুর তিন দিন পরে পাটনার উদ্দ্যেশে রওনা দিয়ে জাতির পিতা শেখ মুজিব পাটনায় পৌছে ভয়াবহ দৃশ্য দেখে রিতিমতো ভয় লাগতে লাগলো । হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি বলেছেন, ট্রেন ভরে রিফিউজিদের আসানসোলে পাঠালে বাংলার সরকার তাদের দায়িত্ব নেবে । জনাব আকমল (আই. সি. এস) বিশ্বাস করতে চাইলেন না । তাকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ফোন নাম্বার দিয়ে কথা বলার জন্যে বলা হোলো । সে দিন থেকেই আসানসোলে লোক পাঠানো শুরু হোলো । প্রথম ক্যাম্প খোলা হোলো ‘নিগাহ’ নামে এক গুদামে । সেখানে হাজার খানেক মানুষের সংস্থান হোরো । পরে পাকুন্দিয়া ক্যাম্প – সেখানে প্রায় দশ হাজার লোকের সংস্থান হবে। জাতির পিতা সে ক্যাম্পের নাম দিয়েছিলেন “হিজরতগঞ্জ” । জাতির পিতার সাথে সর্বক্ষন কাজ করতেন সহপাঠি মওলানা ওয়াহেদ – শাহজাদপুরের পির সাহেব। তাদের থাকা খাওয়ার কোনোই ব্যবস্থা ছিলো না। মুহাজেরদের যা কাওয়াতেন তা ই খেয়ে নিতেন। ছয় সাত দিন পরে বাংলা সরকার সলিমুল্লাহ ফাহমিকে নিয়োগ দিলেন । জাতির পিতা সলিমুল্লাহ সাহেবের সাথে পরামর্শ করে মোহাজেরদের থেকে সুপারিনটেনএডন্ট, সহকারি সুপারিনটেনএডন্ট, রেশন ইন চার্জ, দারোয়ান ও অন্যান্য কর্মচারি নিয়োগ করলেন । এক জায়গায় রান্না সম্ভব হচ্ছে না বিধায় প্রত্যেক পরিবারকে রেশন কার্ড করে চাল ডাল লাকড়ি, পেয়াজ মরিচ প্রভৃতি সাত দিনের দেয়া হোলো – এক দিন পর পর মাংশ দেয়া হোলো। মোহাজেররা খুব খুশি হলো । ময়রা ও মাধাইগঞ্জেও ক্যাম্প খোলা হলো – প্রায় দশ হাজার লোকে সেখানেও থাকতো। এই সময় বিহার থেকে জাফর ইমাম এলেন বাংলার সরকার কেমন রেখেছেন মোহাজেরদের দেকতে – তিনি ব্যবস্থাপনা দেখে খুব খুশি হলেন ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহকর্মিদের ভীষণ প্রসংসা করলেন। অনেক শিক্ষিত ও ভদ্র পরিবারের মোজাহের চিলেন। আসানসোলে সব সংকুলান না হওয়াতে বিষ্ণুপুর, অন্ডাল, বর্ধমানেও মোজাহের পাঠানো হোলো। দেড় মাস অনাহারে, অনিদ্রায়, জাতির পিতা শেখ মুজিব অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।
কোলকাতায় ফিরে আসেন মন্ত্রি মোহাম্মদ আলি ও এ এফ এম আব্দুর রহমানদের সাথে। ট্রপিক্যাল স্কুল অব মেডিসিনের ইউরোপিয়ান ওয়ার্ডে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির উদ্যোগে ভর্তি করা হয়। সে কারণে প্রিন্সিপাল প্রতিদিন দেখতে আসতেন।
(সেই মোহাজের বিহারিরাই ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতার বিরুদ্ধে সব চেয়ে বেশি জঘণ্য অপকর্ম করেছে – এ জন্যেই মোহাজের বিহারিদের বিহারবাসিরা তাড়িয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস) ।
( সূত্র : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবিুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজিবিনি : পৃষ্ঠা ৬৯ - ৭১)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


