এতটা পথ হেটে এসেছি,এতটা সময়,এতগুলো প্রহর।
নতুন রোদ্দুরের খোজে,ছুটে চলেছি দৃষ্টি থেকে দৃষ্টান্তর।
অসময়েরর গান,কল্পবিলাসীর আয়নায় সূক্ষ্ন সূচের তীব্র আর্তনাদের মতোই।স্বাধীনতার ছাপা সিল গায়ে লাগিয়ে,
ঘুরে বেড়িয়েছি এক কাপুরুষ,হীনমন্য,স্বার্থপরদের নরকরাজ্যে।আমার প্রকৃতিসৌন্দর্যই উপস্থাপিত হয়েছে গোটা বিশ্বের কাছে,আমার গরীব কৃষকের লাবন্যময় হাসির কথা দেখেছে বিশ্ববাসী।আমার ঐতিহ্য,ইতিহাস আর সংস্কৃতিতে গোটা পৃথিবীর কাছে আমার মাথা উচু,কিন্তু আমার শরীরে যে অনেক ক্ষত,পুঁজের গরল নামে সেই ক্ষত থেকে।সেগুলো দেখতে চায়না কেউ,আমি যে বাংলাদেশ......
আসলেই বাংলাদেশ মনে হয় নিজে নিজেই আত্নগ্লানিতে,অনুশোচনায়,তীব্র ঘৃনায় কেঁদে ফেলে।বাংলাদেশের যে অনেক কস্ট।সেই শুরুর কথা,কাপুরুষদের মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার জন্য,নতুনদের এক চিলতে স্বপ্নকুয়াশার চাঁদর দিয়ে জড়িয়ে রাখতে নিজের প্রায় চল্লিশ লক্ষ সন্তানকে ত্যাগ করেছিল,চল্লিশ লক্ষ্য শহীদের চল্লিশ লক্ষ্য রকমের রক্তে পবিত্র করেছিল এই আবাসভূমি।নিজের দুই লক্ষ্য মেয়ের সম্ভ্রম দিয়ে গড়েছিল একরাশ বিস্তৃত আশাভূমির,নতুন গর্ববৃস্টির অপেক্ষায় সজল করেছিল প্রত্যেকটা প্রান্তর,ভেন্টিলেটরের চড়ুই এর মতো খুজে নিয়েছিল নিজের মুক্তডানার অহংবোধ,কিছু অবিরত মুগ্ধতার সমাবেশ।
তাহলে কি বাংলাদেশের সেদিনের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল।এতগুলো মানুষের জীবনের কি কোনই দাম নেই,এই সম্ভ্রম বিকিয়ে দেয়ার কি কোন যথার্থতাই নেই।বেয়নেটের খোচা খাওয়া শরীরগুলো কি এমনি?যুবতী বোনের করুন চিৎকার কি আজও নাড়া দেয়না কাউকে,শারীর আচল নেতিয়ে পড়া ওই বীরাঙ্গনার মায়াবী অপলক চাহনি কি সত্যিই অর্থহীন,বাবামায়ের সামনে ছোট বাবুটার গলা টিপে মেরে ফেলার মুহুর্তটা কি শুধুই ইতিহাস।মাসের পর মাস পড়ে থাকা হাড়গুলোর দীপ্ত শপথ কি কেই অনুধাবন করেনা?সত্যিই বুঝি বাংলা মায়ের সেসময়ের আত্নত্যাগ গুলা মিছেমিছে কানামাছি খেলা ছিল,যদি তাই না হয় তবে আজ শরীরে বসন্তের মতো ক্ষতো নিয়ে কেন কুকড়ে থাকবে বাংলাদেশ,কেন?জানি সে প্রশ্নের উত্তর নেই,তবুও আজ উত্তরের কিছু লাইন শোনাতেই হবে।
আজও এদেশে আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে ফেলা হয় একবুক নতুন পথের দিশারীকে,সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্য অবাধ তরুনদের চোখমুখ ঝলসে দেয়া হয় পেট্রোল বোমার আড়ালে,মানুষ হত্যার পৈশাচিক আনন্দে মেতে উঠে একদল বিদেশী দালালৃ। দেশের কিছু সোনার ছেলেকে ইমিটেশন বানিয়ে নামিয়ে দিলো ধ্বংসযজ্ঞে।বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে,বড় হয়ে দেশ গড়ার জন্য যে ছেলেটা ইউনিভার্সিটি যাচ্ছিল,ছেলেটার শরীরের সাথে পুড়ে গেল স্বপ্নগুলো,মৃত বাবাকে দাফন করার জন্য মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে যাচ্ছিল,সেই চোখের জলটুকুনও পুড়িয়ে দিয়েছে সেই নরপশুদের নীল নকশা।যারা বোমা মেড়ে ১৭৪টা জলজ্যান্ত প্রান কেড়ে নিলো,অর্ধেক পঙ্গু মানুষ হলো প্রায় ৫০০।এদের বিচার তো সময়ের দাবি হওয়ার কথা।কিন্তু,ওই যে কপাল বাংলাদেশের,পোড়া কপাল।
এরা তো দেশের উচ্চ শ্রেনীর রাজনীতিবীদ,এদের কেন বিচার হবে?এদের গায়ে তো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার লাগানো।এদের তো কিছু করা যাবেনা,এদের নামে মামলা দিলেই খুন হতে হয়।প্রশাসন নীরব,এই নীরবতার জন্যই কি সেদিন নিজের শরীরে বোমা বেঁধে পাক-রাজাকারদের ঘাটিকে নীরব বানিয়ে দিয়েছিল সেই দুঃসাহসিক বীরের দল।যে দেশে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও,সেসব বাঙলা বিরোধী রাজাকারদের বিচার শেষ হয়না,সে দেশে এসব সাধারন মানুষের বিচার চাওয়া রীতিমতো হাস্যকরই শোনায়।কেউ বুঝি শেখ মুজিবের এই কথাটা শোনেনি," "When you play with gentlemen, you play like a gentleman.But when you play with bastards, make sure that you play like a bigger
bastards.Otherwise you will lose"।শুনলে কিছু একটা হতো।
কিন্তু পরিবর্তনের ডাক এসেছে,এখনও চায়ের দোকানে কাজ করা ছোট রবিও বলতে পারে,"জামানা পাল্টায় গেছে সাব।"ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করা শুরু হয়েছে,তথ্য প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।অনলাইনে বিপুল সাড়া ফেলছে বাংলা মায়ের দামাল ছেলে।সকল অন্যায়,অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাড়িয়েছে তারা।লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশের শরীর থেকে সকল ক্ষত নিরাময় করা।আসুননা হয় আমরাও শুরু করি এক নতুন সম্ভাবনার।আপনার জেলাটাকে না হয় বানিয়ে ফেলুন উন্নয়নের একটি মডেল,যেখানে থাকবেনা কোন মাদক,থাকবেনা কোন অন্যায়,সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি,যেখানে প্রত্যেকটা শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিৎ হবে।জেলাটা যদি বড় মনে হয় তাহলে থানা,থানা সম্ভব না হলে মহল্লা,তানা হলে পাড়া।পাড়া সম্ভব না হলে নিজের পরিবার,সেই দায়িত্বটুকুনও যদি নিতে না পারেন,তাহলে নিজেকে পরিণত করুন একটা মডেলের।দেশ এগুবে,জাতি এগুবে,আমরা এগুবো।অপসংস্কৃতির বিপরীত স্রোতে বৈঠা হাতে সংস্কৃতির চেতনা ও অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আমাদের পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ,যে পথের শেষে দাড়িয়ে আছে আমার,আপনার সবার স্বপ্নের বাংলাদেশ।
আমি বাংলাদেশ,উদ্ধত শিরে নিরঙ্কুশ অহংকারে শত পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি আমার আপন আঙিনায়,শত বীরের প্রতিটা শব্দ,আর কাজে সাদা মেঘে ভরপুর আমার খোলা আকাশ,তুলতুলে কোমল শিশুর গালের মাধুর্যতায় ভরপুর,আজ আমার শরীরে কোন ক্ষত নেই,আমি ফিরে পেয়েছি আমার আমিকে।সে দিনের অপেক্ষায় পনের কোটি বাঙালির অশ্রুসিক্ত ত্রিশ কোটি চোখ...
-রুখসাদ প্রিয়।
-Rukhshad Priyoundefined

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



