somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুইমবাড, আমার জলকেলী করার দিন.....

২৩ শে জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত তিনটা মাস চরম ওম:শান্তিতে ছিলাম। সকাল বেলা ঘুমের বারটা বাজানোর জন্য তেমন ডেফিনিট কেউ ছিলনা। এই উৎপাত আবার শুরু হয়েছে যখন ফুলি বেগম তার লন্ডনের ইন্টার্ণশীপ শেষ করে গেলো হপ্তায় ফিরে এসেছে।

ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে এসেছে, আনন্দের কথা। কিন্ত আমার জন্যে ও এখন "ডন মেয়ার" হয়ে দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে আমার হার্ডলী কোন সকাল গেছে যে সে ফোন করে নি।

সকাল বেলা কেউ আমার ঘুম ভাঙলে ইচ্ছা হয় তাকে চুবিয়ে মারি আমার বাঙলা গালির মহাসাগরে। সমস্যা হলো, এই বেটি তো এক বর্ণও বাঙলা বুঝে না। আমি এদিকে তার চার চৌদ্দ ছাপ্পান্ন জেনারেশন উদ্ধার করে যাই, আর ও থাকে নির্বিকার। এক পশলা গালি বর্ষন শেষ হলে পরে জিজ্ঞেস করে আমার ঘুম ভেঙেছে কিনা! ব্যাড... টু ব্যাড!!

গত শুক্রবারে প্ল্যান ঠিক করে রেখেছে আমাকে নিয়ে "শুইম বাড" যাবে। আমি বারকয়েক বাইম মাছের মতো পিছলা পিছলী, মোচড়া-মুচড়ী করেও পার পেলাম না।

"রবিবার হলো ফুলি বার" মনে থাকে যেন। আমি ঘাঁই ঘুঁই করছি দেখে বলেই ফেল্লো, "বন্ধুর জন্য এই টুকু করতে পার না, নিজের বউ বল্লে তো হন হন করে আগের দিন গিয়েই বসে থাকতা"!

'কথা সইত্য' কিনা যাচাই করার উপায় নাই, তবে বুঝলাম ইজ্জ্বত কা সাওয়াল। কোঁৎ-কাঁৎ করেও শেষে রাজী হলাম ওর প্যানপ্যানানীতে।

সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই ফোন, " কী কর"

"আমি এই যে রেডী হচ্ছি" - কিন্ত তখনো বিছানায়

"আমরা কি একটু পরে মীট করতে পারি"

"পারি মানে, অবশ্যই পারি। আর তুমি যদি আজকে না যেতে চাও তাহলে আমরা অন্য কোনদিন প্ল্যান করবো নে....."

"না না, আজকেই যাবো কোন সমস্যা নেই। ওয়েদার খারাপ হলেও ব্যাপার না, ওদের চমৎকার ইনডোর আছে..... আমি তোমাকে 10 মিনিট পর আবার ফোন করছি"।

ঘ্যাংঘ্যান করে রাখলাম ফোনটা। কী দরকার রে বাবা অত মানুষের মাঝে পানিতে গিয়া দাপাদাপি করার? নিজের ঘরেই করণা, বাথটাব টুবাটুবা করে যত খুশি। আমি গাইল পাড়ি আর কমেন্ট ঝাড়ি....।

আবারো ফোন, "আমি স্টেশনে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। জলদি চলে আসো"।

নাহ, এই মাইয়া আমারে শান্তি দিব না। কবে যে যাইবো আবার কে জানে। কোয়ার্টার প্যান্টের উপরে জিন্স চাপিয়ে দিলাম রওয়ানা। ব্যাগে নিলাম এক্সট্রা একটা টি-শার্ট আরেকটা শর্টস। 14 মিনিটের পথ যেতে লাগলো 45 মিনিট। গিয়েই দেখি তার এক এক্স কলিগের বি এম ডবি্লউতে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। জায়গা মতো নামিয়ে দিল ঐ চান্দুই।

"আমি তো সুইমিং কষ্টিউম আনি নি"
"কেনো আনোনি, এটা তো সবাই জানে যে জিন্স পড়ে কেউ সাঁতার কাটে না"।

"চলো কাউন্টারের মেয়েকে জিগাই"

মেয়েটার প্রতি বিজলী হাসি দিয়ে প্রশ্ন করে জানতে পারলাম প্যান্ট, পোন্ট, ট্রাইজার, ফাউজার পড়ে পানিতে নামা এখানে এলাউড না।

"এত ঝামেলার মধ্যে আমি সাঁতার কাটুম না, যামু গা। অনেক হাঙকী পাঙকি এদের, প্যান্ট পড়তে পারবানা, আবার জন্মদিনের পোষাকেও থাকতে পারবানা, ফাইজলামী নাকি"?

"তুমি কি ওয়েল সু্যটেড হয়ে সাঁতার কাটো নাকি"?

" না তা করি নাই। পুকুর পাড়ে গেছি, লুঙ্গীর গিঁঠ ধইরা টান মারছি, পানিতে লাফ দিছি। ভেজাল শেষ। টিকেট ও কাটতে হয় নাই, স্পেশাল ড্রেস কোড ও মানতে হয় নাই। তত্তোসব ফাইজলামী! লও যাইগা......"

এমন নাছোড় বান্দা মানুষ আমি অনেকদিন দেখি নি। "তোমার কোয়ার্টার প্যান্ট শুড বী ফাইন। চলো..."। গেলাম ভিতরে....

চোখ জুড়িয়ে গেলো ঢুকেই। কি সুন্দর সুন্দর অল্প জামা পড়া লোকজন। আরো আগে কেন আসলাম না! জলকেলী সেরে দুই তরুণী বিকিনী পড়ে সামনে দিয়ে হেঁটে গেলো, আমি তাই দেখে 'ওয়াও' বলতেই ফুলি বল্লো, "এই বুড়িদেরকে দেখে তুমি ওয়াও বল্লা"?

"আমার চোখে সমস্যা আছে। বুড়ি-ছুড়ি বুঝিনা, বুঝি কেবল সৌন্দয"!

কোয়ার্টার প্যান্ট টা পড়ে গায়ে একটা টি-শার্ট চাপিয়ে বেরিয়ে এলাম চেঞ্জ রুম থেকে। চারপাশে যেদিকে তাকাই, ততোই মুগ্ধ হই। সৃষ্টির কী অপার মহীমা! হঠাৎ পিছনে থেকে ভিলেন ফুলির আগমন-

"তুমি এই বেশে পানিতে নামবা নাকি"?

"হুঁ, তোমার কোন সমস্যা? আমার শরম করে এতো মানুষের সামনে জামা কাপড় খুলতে"।

" না আমার কী সমস্যা? তবে কোয়ার্টার প্যান্ট টা ঠিক ই আছে। শুধু পানিতে নামার আগে টি-শার্ট টা খুলে ফেলো দয়া করে। শুধু শুধু ওটা ভিজিয়ে লাভ কী বল"!

রৌদ্্রে খানিক্ষন গা পুড়িয়ে পানিতে নামলাম। পাছে লোকজন বুঝে ফেলে আমি একটা ক্ষেত, তাই যতোক্ষন পানিতে ছলাৎ ছলাৎ করলাম, খালি গায়েই করলাম। ডাইভ দিলাম, সাঁতার কাটলাম, ললনা দেখলাম.... আরো কত কী!

একটা সময় দেখলাম সবকিছুই সয়ে গেলো, কেউ কারো দিকে তেমন দৃষ্টি দিচ্ছে না। বার কয়েক কয়েকজন ললনার কৌতুহলী দৃষ্টি পড়ছিল কেবল সাদা ফুলির পাশে কালো ধুসর কে দেখে।

আমি এখন কি করে বুঝাই, ধুসরের মাঠের জমিন ধুঁ ধুঁ ফাঁকা। লাইন খালি, সীট খালি, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্লট দেয়া হবে! লাভ হলো না। মন না ভরুক, চোখ তো ভরছে, ওতেই শান্তি আমার!!

ঘন্টা দেড়েক জলকেলীর পর ফেরার পথে ফুলি বল্লো, "আমি ডাইভিং পারি না। তুমি কি আমাকে শেখাবা......?"

মর জ্বালা, তার মানে আরো একদিন! ভুং ভাং করতে গিয়ে ও করলাম না। ভালোই তো, চোখের ব্যায়ামটা ভালো মতো করার সুযোগ আরেকটা পাবো তাহলে...।


-[ আসল ফটুক দিতে পারিনি কারণ মোবাইলটা সাথে নেই নি। আর এটা তো ফেয়ার এনাফ যে মোবাইল নিয়ে কি আমি পানিতে ছলাৎ ছলাৎ করবো নাকি? তবে নেক্সট টাইম এই সুযোগ আর মিস করবো না ]-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেটিকুলাস ডিজাইনের নিজেরা নিজেরা নির্বাচন

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩৬

বাংলাদেশের জামাতের সমর্থন কতটুকু?
এযাবৎ পাকিস্তান আমল থেকে ৭৫ বছরের ইতিহাসেএ দেশে বর্তমানে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোন নির্বাচনে জামাত ৪ - ৫% এর বেশি ভোট পায়নি।
২০০৮ এর ফটো আইডি ভিত্তিক ভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

ছবি সংগৃহিত।

টানা ১৮ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাতানো নির্বাচনের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফ্যাসিবাদের পতনের পরে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(৩) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৫




এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (নোয়াখালী ৬ হাতিয়া) জনাব হান্নান মাসুদের স্ত্রী'র উপর বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা। ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তার উপর লোহার রড দিয়ে আক্রমণ করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×