somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার জন্য নীলচে তারার একটুখানি আলো...

১৩ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভায়োলিনের সুর আমার বরাবরই পছন্দ। বাঁশী আর ভায়োলিনের মধ্যে একটা ঠান্ডা-লড়াই ও জমে উঠতে পারে অবশ্য এনিয়ে। কিটারোর চাইতে শেরাটনে বাজানো বাঁশিওয়ালার প্রতি আমার আলাদা একটা টান অনুভূত হয়, সেটা বোধকরি সুরের আধুনিকতার সীমানা ছাড়িয়ে শিল্পীর আন্তরিকতার ছোঁয়ার কারনে। প্রবাস জীবনের শুরুর দিকে আমার কাছে একটা এ্যালবাম ছিলো, "রোমান্টিক ভায়োলিন"। সারাক্ষণ বুঁদ হয়ে থাকতাম ভায়োলিনে।

যখন বাঁশীর সুরে "ফ্লাই" শুনলাম প্রথম, মজে গেলাম সেটাতেও। একেএকে জড়ো করলাম সেই এ্যালবামের মনেধরা সুর গুলোও। সব ছাঁপিয়ে তখন ঘর উজার করে বাজতো ফ্লাই- ফ্লাই - আর ফ্লাই, মনের মধ্যে উড়িয়ে চলা ভাবনার উদ্্রেক করে।

যাযাবরী মনন লালন করি আমি, খালি উড়াল দিতে চায় ফাঁক-ফোঁকর পেলেই। বাঁধা-ধরা কোন কিছুই বেশীদিন ভালো লাগে না। সুযোগ পেলেই দে-দৌড়, ধনাধন দৌড়...।

এবারো দিলাম একটা দৌড়, না আপাতত উলটো না। সোজা সাপ্টা দৌড়, যে কারনেই ফেরার তাগিদটাও ততটাই বোধ করছি, যতোটা করেছিলাম দৌড় দেবার সময়ও। মাঝখান থেকে চারটা দিন আরো কিছু উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়তে হয়েছে। উপায় নাই গোলাম হোসেন- হয়ে মাথা কাত করে, ক্যাবলা কান্তের মতো নাক-মুখ খিঁচিয়ে নিম পাতার রসের মতো গিলতে হয়েছে।

শুরুটাই আসলে ভালো হয়নি! মোবাইলে নতুন নতুন ইন্টারনেট ব্যবহার করি। বড়ই তামশার জিনিষ। একবার নেট-এ ঢুকলে বের হবার আর রাস্তা খুঁজে পাইনা। ভাষা ইংরেজী করে চেষ্টা করেছি, নেটে ঢুকে না। বিদেশী ভাষায় কানেক্টেড হবার পরে, ডিসকানেক্ট ক্যামনে হয়- এইটা তো যাযাবর জানে না! ফলাফল, নেট চলে টিল দ্যা এন্ড অফ...

সেদিন মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকাইয়া ট্রেন থেকে নামতে গিয়া প্লাটফরমে খাইছি উষ্ঠা! ব্যাপার না, অনেকেই শুকনাতেও হোঁচট খায়, আমিও খাইছি, নম্মাল! কিন্ত আমার এইবার যাযাবরী যাত্রার শুরুতে - কোলন শহরের নয়মার্কট (নিউমার্কেট)- এর (সাবওয়ে) ট্রাম স্টেশনে নামতে গিয়া ঘটলো অঘটন টা।

চোখ আমার যথারীতি মোবাইলের সুন্দরী স্ক্রীনে। সিঁড়ি দেখলেই লাফায়া নামার নিয়ম। সেই নিয়ম পালন করতে গিয়াই...। নব্য টাইলস করা সোঁপানে ডান পা পড়লো প্রজেক্টেড জায়গাটার একটু তফাতে, খানিকটা ত্যাড়া হয়েই। চোখ তখনো মোবাইল থেকে সরে না। একটু পরে ধপাস শব্দ শুনে "কোন হালায় শুকনার মধ্যে আছাড় খাইলোরে" বলে বিরক্তি ভরে চারদিক তাকিয়ে বুঝলাম, উক্ত ব্যাক্তিটি আমিই।

সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখি সিঁড়িতে কাইজ হয়ে পড়ে আছি, ডান পা নাড়াতে পারছিনা। সবচাইতে যে অস্বস্তিকর ব্যাপার ছিলো তা হলো চারদিকে কম করে হলেও চারজোড়া ললনার আটজোড়া চোখ, এদিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসে। মোবাইলটা কিন্ত তখনো হাতে ধরা! "যাক বইছি যখন, পানডা খাইয়া লই" ভাব নিয়া টুইস্টেড ঠ্যাঙটা নিয়ে টেনে টেনে ট্রামে উঠলাম। কারন তখন ব্যাথার চাইতে অক্টেড ললনার চোখ গুলোই বেশী পীড়া দিচ্ছিলো ।

ভাইয়ের বাসায় আসলে সময়টা ভালোই কাটে। ইচ্ছেমতো, পাগলের মতো ঘুমাই। ভাবী বিদেশী হলেও রান্নাটা শিখে গেছে আগুন। আমি গরীবে-মুফতি, কি-না-কি খাই, এই দিকটা বেশ ভালোই চিন্তা করে। আর আমিও এখানে এলে আগামী এক মাসের খাওয়া উটের মতো করে স্টোর করে নিয়ে যাই! খাওয়া আর ঘুম ছাইড়া যাইতে শখ হয় না। কিন্ত যাইতে তো হইবোই, আইজ আর কাইল...।

[গাঢ়] শিরোনামটার সাথে লেখাটা গেলো কি? আসলে শিরোনামটার উদ্দেশ্য ছোট্ট তুমিন![/গাঢ়]-যার একটু শুভকামনা পাওনা আমাদের কাছ থেকে!

[link|http://www.esnips.com/doc/ffcd16c8-5cd3-4bb4-aaa1-2e9ff69aa77c/Arnob---tomar-jonno|MvbUvi Rb
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×