somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ধুসর গোধূলি
উদাসী ভাবনার বৈরাগী প্যাচাল

পিসি মিত্তিরের রহস্য উন্মোচন : পিয়ালীর বিয়ে!

১৬ ই মে, ২০০৭ রাত ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নাগরী বাজারের সেমেট্রির ওয়ালে বসে বসে বাদামের প্যাকেটের ভেতর অমনযোগী হাত চালাচ্ছেন গোয়েন্দা প্যারীচাঁদ মিত্তির। পিসি মিত্তির বলে যিনি এক নামে পরিচিত একেবারে সুউচ্চ ডন এলবাবাদমদম এর কাছেও।

হাতের ডানদিকে কতগুলো কাগজ, তার ওপর একটা আতশী কাঁচ। হাতের বাম দিকে আধো খাওয়া বাদামের প্যাকেট। এই নির্জন সেমেট্রির ওয়ালে পিসি মিত্তিরকে পা দুলিয়ে আয়েশী ভঙিতে পায়েস খাবার মতো মনে হলেও ঘটনা কিন্তু একদমই সেরকম না। এবারের 'কেইস'টা একটু বিখাউজ্যা। জটলা খুলতে গিয়ে গিট্টু আরো লেগে যাচ্ছে। সাসপেক্টসরাও ইয়্যুজুয়াল না। সবাইকেই মনে হচ্ছে পুকুরের কাঁদার কাছাকাছির। "দেয়ার মাস্ট বি সাম ওয়ে..." বলেই শ্যাওলা পড়া ওয়ালে ডান হাত দিয়ে একটা কিল মারে পিসি মিত্তির। হাতের কনুইয়ের খোঁচা লেগে আতশী কাঁচ সহ কাগজ গুলো পরে যায় মাটিতে।

সুন্দর জোছনা রাত। সাক্ষাত পূর্ণিমা। ইয়া বড় একটা চাঁদ মনেহয় কয়েকশো মিটার দূরেই আছে। এমন রোমান্টিক একটা পরিবেশে কিনা তাকে ভাবতে হচ্ছে একটা ঘিরিঙ্গি মার্কা কেইস নিয়ে! চার্চের দিকে তাকিয়ে পিসিমিত্তির দেখে ফাদার স্টিফেনের ঘরের বাতি এখনো জ্বলছে। ফাদারের সাথে দেখা করতে যাবে নাকি পানজোরা ফিরে যাবে এমন দোটানায় যখন সে দুলছে ঠিক তখনো কাছে কোথাও 'পতপত' শব্দ তুলে একটা প্যাঁচা উড়ে গেলো, ঠিক তার পরক্ষণেই ডেকে উঠলো ভয়ার্ত কণ্ঠে!

ডাকটাকে অনুসরণ করতে গিয়েই তার চোখ আটকে গেলো মাটিতে পড়ে থাকা কাগজ গুলোয়। চাঁদের স্পষ্ট আলোয় ঝলমলে মুখের ছবিটা দেখতে পেলো সে। হাতে তুলে নিয়ে দেখতে লাগলো সাসপেক্টসদের প্রোফাইলগুলো আবার...

সাসপেক্ট ১ : শরিফ বেগতিক
বয়স : ৩২ বছর ৩ মাস ৩ দিন
বাবার নাম : অজ্ঞাত,
বউয়ের নাম : অজ্ঞাত,
শালির পরিমান : সম্ভবত ১ টা (শিউর না),
শালির বয়স : অজ্ঞাত,
পেশা : ব্লগিং (ফুলটাইম)
স্পেশাল কোয়ালিটি : রমনীভাগানী;


সাসপেক্ট ২ : টাকশিক
বয়স : ৩৩ বছর ৫ মাস ৪ দিন
বাবার নাম : অজ্ঞাত,
বউয়ের নাম : অজ্ঞাত,
শালির পরিমান : ১টা,
শালির বয়স : বেশী না,
পেশা : ফাঁপড়বাজী,
স্পেশাল কোয়ালিটি : গালাগালি;

সাসপেক্ট ৩ : কামাল ডাঙ্গর
বয়স : ৩৫ বছর ৯ মাস ৬ দিন,
[সাসপেক্ট বড়ই ঘিরিঙ্গি। কোন রেকর্ড নাই]

প্রথম পাতা উল্টিয়ে পিসি মিত্তির যেইনা দ্বিতীয় পাতায় সাসপেক্ট ৪ -এর ডিটেইলসে চোখ বুলাতে যাবে ঠিক তখনি অদূরে কেউ যেনো সেমেট্রির ঝরা পাতায় খুব দ্রুত পা মাড়িয়ে পেছনের অপেক্ষাকৃত অন্ধকারের দিকে ছুটে গেলো। পিসি মিত্তিরও কাগজ গুলো রেখে ছুটলো পেছন পেছন। কালো গাউন পরা কেউ দৌড়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। সেমেট্রির প্রায় শেষ প্রান্তে এসে একটা ইঁদুরের গর্তে পা ফেঁসে গিয়ে ধপাস করে না পড়লে হয়তো ধরে ফেলতে পারতো গাউন পরা "ছায়া" টাকে। একটু পরেই একটা সাদা রঙের মাইক্রো বেড়িয়ে যেতে দেখলো মাটিতে ধপাস অবস্থাতেই।

"বাহ্‌, শুরু করতে না করতেই লেজে 'কোম্পানী' লেগে গেলো"! -ঠোঁটের কানায় হাসি ঝুলিয়ে পিসি মিত্তির উঠে পড়লো। হাত দিয়ে ঝাপ্টিয়ে জামায় লেগে থাকা ধূলা ঝেড়ে রওনা দিলো শ্যাওলা পরা ওয়ালের দিকে, যেখানে আধা খাওয়া বাদামের প্যাকেট আর কাগজগুলো পড়ে আছে।

ফিরে এসে কাগজগুলো হাতে নিয়েই কিছু একটা অসামঞ্জস্য ঠেকলো তার। কাজগগুলো উল্টে দেখলো ভেতর থেকে কয়েকটা মীসিং। সাসপেক্ট ১, ২, ৩, তারপরে ৪ আসার কথা। কিন্তু সেই এনটায়ার পাতাটাই গায়েব। এবার শব্দ করে হেসে ওঠে পিসি মিত্তির। ওভার কোটের ভেতর থেকে টিনের কৌটায় চুমুক দেবার পরপর সেই হাসিটাও মিলিয়ে যায় যখন সে টের পায় তার আধা খাওয়া বাদামের প্যাকেটটাও হতচ্ছাড়াটা নিয়ে পালিয়েছে।

পিসি মিত্তিরের এবার কান্নায় গলা ধরে আসে!



(-চলবে-)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৭ রাত ২:৫৬
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×