একদিন বাসায় ফিরে দেখি কারেন্ট নাই। ভাবছেন সেটা তো নরমাল কথা ব্যাটা এইখানে কি পুরাণ বোতলে নতুন মদ বেচতে আইছস, যা ফোট এইহানতে। ... ... ভাইরে আমার কথাডা আগে শোনেন না, তো কি জানি বলতে নিছিলাম... হ মনে পড়ছে, গিন্নী বলে তেল নাই.... ধুর: কি কই। তো বাসায় নাই কারেন্ট খুবই স্বাভাবিক, কিন্ত আমার ইন্টার পড়ুয়া ভাইটারে যখন দেখলাম নামাজ পড়ে গোমড়া মুখে ঘরে ফিরছে, তখনই আমি বলি, কাম সাড়ছে। ভুতের মুখে রাম নাম শুনলে ম্যাংগো পিপল (মানে আম জনতা)-র যে অবস্থা হয় আরকি। আমি তো যত দোয়া কালাম ছিল সব পড়ে শেষ, আল্লাহ্ তুমি আমার পরাণের ল্যাপটপ টারে রক্ষা কইরো....।
কারেন্ট আসার পর পাকিস্তান আমলের বাঙ্গালী নায়িকাদের মতো দুরুদুরু বুকে ল্যাপটপ খানা চালু করলাম..... নাহ্ কিছুই হয়নাই, উফ ওম শান্তি....। কিন্ত যেইনা আমার ফাইল গুলো খুলতে গেলাম, হায়হায় একী..... আমার চোখ গুলো এলিয়েনের মতো বার কয়েক মাথার চারপাশে চককর দিয়ে আগের জায়গায় এসে স্থির হলো, মাথার চুল গুলো সজারুর কাঁটার মতো সোজা হয়ে উপরের দিকে রওনা দিল। ভাগ্যিস চুলের গোড়ায় আঠা ছিল তাই মাথার সাথে এতোদিনের 'রক্তের বন্ধন' একেবারে ছিন্ন করতে পারেনি। আর পায়ে রুপসা চপ্পল পড়েছিলাম বলে সেদিন চুলের টানে অজানায় উড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম (চপ্পলের ভার বলে কথা)। ঈশ কি বাচাডাই না বাচছিলাম, নাইলে আইজকা এই বস্তা পঁচা জিনিষ এইখানকার পাবলিক গো না খাওয়াইয়া ছয় পা ওয়ালা কোন এলিনের লগে ব্ল্লগিং করতে হইতো... ধন্যবাদ রুপসা চপ্পল।
আসলে ঘটনাটা ছিল সাধারণ। আমার স্নেহের ভাইখানা কি করিয়া যেন আমার 'অসাধারণ' সব ফাইল মুছিয়া দিয়াছিল। আর তাহার কৃত কর্মের "প্রায়শ্চিত্য" স্বরুপ মেজো ভাইয়ের ক্রোধাণল হইতে বাঁচার নিমিত্তে মসজিদে গমন এবং কাল ক্ষেপন তথা প্রার্থণা করণ। আমি সেদিন বুঝেছিলাম ব্যাক-আপ কতোটা উপকারী। নাহ্ আমি পারিনি হারিয়ে যাওয়া 'তাকে' মানে ফাইলগুলো উদ্ধার করতে।
সেদিন এখানে কাউকে দেখছিলাম নরটনের ভূতের ব্যাপারে কথা বলতে। আসলে এই ভূত নিয়েই আজকের লিখার উদ্দেশ্য কিন্তু বাঙ্গালী স্বভাব দোষে খানিক কেরদানি করে নিলাম। আচ্ছা এইখানে লিখতে গেলে যদি অক্ষর গুইনা পয়সা বসাইতো তাইলে কমন হইতো?....।
নরটন ঘোষ্ট আসলে কাজ করে স্বতন্ত্র ভাবে। তাই নরটনের অন্য কোন জিনিষ পিসি তে থাকলে এতোটাই গোস্বা করে যে আপনি দুই পা উপরে তুলে ক্রন্দ করলেও সে ইনষ্টল হবে না, এতোটাই পাষান সে। তাই নরটন ঘোষ্টের সেবা পাওয়ার আগে তার মতের বিরুদ্ধ সবাইকে "ৎচুস্" বা বিদায় বলে দিন সাহস করে। এবার আসেন সেবা আদায় করার প্রাথমিক ধাপে।
ইনষ্টলেশন প্রোসেসটা আমি ইচ্ছে করেই এখানে উল্লেখ করছিনা। নরটন ব্যবহার করে ব্যাকআপ করার আগে অবশ্যই শিওর (বাংলা আন্দোলন কারীরা বাচাও) হয়ে নিন আপনার পিসি তে কোন ভাইরাস, ব্যাাটিরিয়া কিংবা ছত্রাক নেই, সাথে সব গুলো ড্রাইভার মাশাল্লাহ্সঠিকভাবে কাজ করছে। এইবার আমার নাম নিয়া নরটন ঘোষ্ট রাণ করাণ। দেইখেন আবার, রাণ করাইতে বল্লাম বইলা ব্যাট-বল নিয়া মাঠের দিকে দৌড় দিয়েন না, তাইলেও কইলাম খবর আছে.... অই আমার কাছি গুলা আন দেহি। কওয়া যায়না আগে বাইনধা লই.....।
রাণ করানোর পর কয়েকটা ধাপ আপনাকে অতিক্রম করতে হবে। প্রথমে আপনাকে ব্যাকআপ ফাইলটা রাখার একটা জায়গা দেখাতে হবে আপনার গো-মুর্খ পিসিটাকে। এই ব্যাটা বড়ই বদ, 'সি' ড্রাইভে কোনমতেই সেভ করবেনা, তাই আপনাকে বাধ্য হয়ে 'ডি' বা অন্যকোন জায়গা পছন্দ করতে হবে। এখন আপনাকে দেখাবে আপনি কোন ড্রাইভের ব্যাকআপ নিতে আগ্রহী। চোখ বন্ধ করে 'সি' সিলেকট করে এগিয়ে যান সামনে নির্ভীক চিত্তে। এর মাঝে আপনি কিছু উদ্ভট ডায়ালগ বক্স পেতে পারেন। যার মধ্যে ইন্টারনের রেজিষ্ট্রশন একটি। এড়িয়ে যান..... এবং যখন দেখবেন 'আপনার পিসি নতুন চালু হবে' তখন বুঝবেন কাহিনী খাল্লাস মানে আপনি শেষ লেভেল এ আছেন। ওকে চেপে গেম ওভার করে দিন.....। এখন ডস্ মুডে আপনার পিসি চালু হবে আর স্ক্রী ণে আপনি দেখতে পাবেন ঘোষ্ট এর কেরামতি..... দেখতে থাকুন, এমন বড়ই সৌন্দর্যের জিনিষ খুব কমই দেখা যায়....। শেষ হইলে জায়গায় দাড়াইয়া আমারে আওয়াজ দিয়েন। রি-ষ্টোর কেমতে করা লাগে কইয়া দিমু নে....
প্রাসংগিক ভাবে অপ্রাসংগিক একজনের কথা মনে হইয়া গেলো গো.... আমাগো শ্রদ্ধেয় গোলাপ তালুকদার ভাই গেছেন কনে? (থুককু তালুকদার ভাইজান গরীবের অন্যায় নিয়েন না, আফনের পেয়ারের ফুল গোলাপ কিনা, তাই কইলাম আরকি...। মাইন্ড খাইয়েন না, আমি আবার খবর লওয়া টাইপের হুমকিরে ভীষন ডরাই)।
যাউকগা.... বাইরে সুন্দর বরফ পড়তাছে এহন ভূত নিয়া না চটকাইয়া বরং একটু ভাং মারতে পারলে জম্পেশ হইতো, কই যে পাই.....। আছেন নাকি কেউ দিল দড়িয়া..........।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



