এই বান্দা সম্পর্কে দু কথা বলে নেই আগে। ভদ্্রলোকের নাম আক্রমউদ্দীন প্রধান। আমরা (বলতে কেবল আমরা তিন ভাই, সারা গ্রাম নয়) ডাকি "আক্রমন" নানা বলে। এই নামের একটা মাজেজা আছে...। একদিন আমার হাতে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি সদস্যদের সাক্ষরিত একটা নোটিশ এসেছিল ঘটনাচক্রে। সেখানে প্রায় সবগুলো নামই আমি বের করতে পেরেছিলাম, কেবল একটি ছাড়া...।
শয়তানের পশ্চাৎদেশে অলওয়েজ ডাংগুলী খেলা আমি একটি আতশী কাঁচ সহযোগে "সাক্ষর" টা আবিস্কার করার পর অল্পতেই তার দাতাকে সনাক্ত করতে পেরেছিলাম। আর সেই থেকে আক্রমউদ্দীন প্রধান আমাদের কাছে হয়ে উঠলেন, "আক্রমন নানা"। ভদ্্রলোক অবশ্য নেহায়েৎই ভালো মানুষ, কারণ এমন একটা নাম দেবার পরেও তিনি আমাকে প্রায়ই দোকানে ওনার পাশে বসিয়ে চা খাওয়াতেন, এটা ওটা নিয়ে কথা বলতেন...।
এবার আসি আবার মসজিদের ভেতর। ইমাম সাহেব দাড়িয়ে গেছেন, তারাবী শুরু হবে বলে। কিন্ত আক্রমন নানার এশা-তো এখনো শেষ হয়নি, তার উপর উনি দাড়িয়ে আছেন দ্্বিতীয় কাতারের একবারে মধ্যিখানে। ওনাকে পাশ কাটিয়ে সামনের কাতারে নামাজ পড়তে যাওয়া ধৃষ্টতা হতে পারে, এই ভেবেই কিনা অন্য এক মুসুল্লী নামাজে দাড়ানো আক্রমন নানাকে খুব আদবের সহিত সামনের কাতারে আসার জন্য বল্লেন। আমি আগেই আমার বৈশিষ্ট সম্পর্কে একটা লাইন লিখেছিলাম। যে কারণে এই ঘটনাটাও আমার চোখ এড়ালো না। তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটবেনা জেনে মনটা খানিক খারাপই হলো, কারণ উনি তো নামাজ পড়ছেন...।
নামাজ পড়ছেন ...! তো কি হয়েছে...! এতো শ্রদ্ধাভরে লোকটা সামনের কাতারে ডাকলো আর উনি চুপ করে থাকবেন.... কাভী নেহি! ইয়ে আলবৎ হো নেহি সাকতা....। আক্রমন নানা তাহ্রীমা ছেড়ে বিপুল উৎসাহে একটা হাত তুলে সেই "কমবখ্ৎ" মুসুল্লীকে ইশারা করলেন আর মাথা নাড়লেন যার অর্থ হলো, "তোমরা শুরু করো, আমার আর এক রাকাত বাকী আছে"।
সেই রাতে তারাবীহ্ আমার পড়া হয়নি....। এখনো মনে পড়লে প্রচন্ড হাসি পায়, আক্রমন নানার হাতের ইশারা আর মুখের সেই ভংগী....
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



