8টা থেকে 11টা 59, কেটেই গেলো, নিজের স্থান রক্ষার যুদ্ধে টেরই পেলাম না কত ধানে কত চাল হয়ে, ভাত হলো, সেই ভাতে মন্ডা হয়ে কতকিছু লন্ড-ভন্ড হয়ে গেলো। আমাদের অন্যকিছুতে খেয়াল করার টাইম নাই, ভালো কথায় "বেইল নাই"। কত সুন্দরী ললনা এলোগেলো, ধাক্বা খেলো, সরি বল্লো, কার কি, কোন হুঁশ নাই। আমরা বরং ব্যস্ত "....অই দোস্ত তুই সামনের রেলিংডা ছাড়িস না.... অই তুই আমার বেল্ট ধইরা রাখ শক্ত কইরা, দাঁত কিড়মিড়ি দিয়া.... অই হালা ভুসা কই গেলি...." টাইপের ক্ষিস্তি খেউরে।
12 টা বাজার সাথেই চারদিক আলোকিত করে আতশ বাজি জ্বলে উঠলো, আহা... কি নিদারুণ দৃশ্য! একটা মাত্র ক্যামেরা, রিল ছিল দুইটা, দেড় রিল অবশ্য পথেই শেষ। বাকী যে কয়টা ছিল তা আসল আতশ বাজি শুরু হবার আগেই ভুষা মিয়ার হাত ধরে খতম। কে কেমনে বসে আছে, সাথে কি কি নিয়ে এসেছে, এই ছিল তার সাবজেক্ট। যখন আতশ বাজি ফুটছে, দেখি ভুষা নির্বিকার,
: কিরে কি হলো, ফ্লাশ মার।
: কী দিয়া মারুম? সব শেষ....।
আমি বলি তাইলে আর কি, এক আঙুল মুখে দেও আরেক আঙুল পিছনে দিয়া বইসা থাক, আর একটু পর পর আঙুলের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাক...।
হঠাৎ দেখি শরীরে সিক্ত ফোঁটা পড়ছে, আমি নতুন দেশ ত্যাগী, দেশের মিলাদের অভিজ্ঞতা মন থেকে এখনো যায়নি। ভাবলাম, আহা... কে জানি গোলাপ জল ছিটাচ্ছে রে, ঈশ, ইহুদী-নাছারা হলে কি হবে, বছরের প্রথম দিনে গোলাপ জলের পবিত্রতায় সিক্ত করে নিচ্ছে নিজেদের, সাথে বেনিফিটেড আমরাও। আমি তখন নষ্টালজিয়ায়, দেশে, মিলাদ পড়ছি কোথাও, "ইয়া নবী সালামুআলাইকা, ইয়া রাসূল সালামুআলাইকা....." ভুষার হেঁচকা টান আর গদগদ আওয়াজ,
: রাখ তোর গোলাপ জল, ওই দেখ গোলাপ জলের মাহাত্য...।
নাহ্, এই ভুষাটার জন্য মিলাদের জিলাপীটাও নিতে পারলাম না। ওর টানাটানি আর ডাকাডাকিতে আমার নষ্টালজিয়া ভেঙে খানখান হয়ে মিলাদের জলসা থেকে আমি আবার সিডনী হার্বারে। জিলাপী হারিয়ে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে দেখি গোলাপি টপস পড়া এক তরুণী বিপুল উৎসাহে শ্যাম্পেনের ফোয়ারা বসাচ্ছে, আর সেই শ্যাম্পেনের উড়ে আসা ফোঁটাকে আমি গোলাপ জল মনে করে কত কিছু ভেবে ফেল্লাম....। হায়রে গোলাপ জল.....!
1টার দিকে যখন লোকজন পাতলা হয়ে গেলো, তখন খুজে পাওয়া গেলো হারানো বন্ধুদের একজনকে, ম্যাকডোনালডস থেকে বিগ-ম্যাক কিনে, পাশেই ক্যাফে সিডনী-র সামনে টুলে বসে আরামসে কামড় বসাচ্ছে। ব্যাটাকে দেখেই মাথায় গেলো রাগ চড়ে! বলা কওয়া নেই, প্রথমেই হারিয়ে যাওয়া, শ্যাম্পেন কে গোলাপ জল মনে করে ভুল তার ওপর ভুষার জন্য মিলাদের জিলাপী হতে বঞ্চনা, সর্বোপরি আমি ক্ষুধায় মরি আর উনি, এখানে টুলে বসে বিগ-ম্যাক খায়...। দিলাম খটাশ করে একটা চড় বসিয়ে-
: ব্যাটা ফাইজলামী করার আর জায়গা পাস না? কতদিন কইছিনা বিগ ম্যাক খাবি না। তোরে এটা খাইতে দেখলে আমার পিন্ডি জ্বলে...।
ঘটনার আকষ্মিকতায় হতভম্ব হয়ে নিউটনের তৃতীয় সূত্র ভুলে গিয়ে ও জিজ্ঞেস করে- দোস্ত কবে কইছিলি, আমার তো মনে নাই।
কথা না বাড়িয়ে গেলাম ম্যাকডোনালডসে, কিনলাম সবাই একটা করে বিগ-ম্যাক, পয়সা দিল, ভিকটিম... পেট পূজো হলো আমাদের...। ট্রেনে চড়লাম, সার্কুলার কী থেকে বারউড, আধা ঘন্টার মতো সময়, এর মধ্যে আমাকে এমন পঁচানোই পঁচানো হলো যে সেই পঁচানোর গন্ধ আমি এখনো পাই.... বদমাশ গুলো টপিক নিয়েছিলো,....
"দোস্ত, কে জানি গোলাপ জল ছিটাচ্ছে রে........"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




