somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দোস্ত, কে জানি গোলাপ জল ছিটাচ্ছে রে.....

২৯ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের বাইরে প্রথম বছর শেষ উদযাপন করার আনন্দ আর শিহরণে আকণ্ঠ উদ্্বেলিত ছিলাম সেদিন। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কোনক্রমে জায়হা করতে পেরেছিলাম "কী বারের" সামনের জায়গাটাতে, সার্কুলার কী থেকে হেঁটে অপেরা হাউসের দিকে গেলে যে জায়গাটা পড়ে। এখান থেকে মোটামুটি হার্বার ব্রীজ এবং নর্থ সিডনীর অনেকটা জায়গা দেখা যায়। ডার্লিং হার্বারের ও কিছু অংশ দেখা যাবে এই প্রত্যাশা নিয়েই ওখানে সদলবলে অবস্থান (যদিও 6 জনের মধ্যে 3 জনই মিসিং, মাত্র কয়েকমাস হলো সিডনী এসেছি আর তখন মোবাইল বলতে কেবল সবেধন নীলমনি আমারটাই, হারানো সাথীদের খুঁজতে যাওয়া বৃথা)। আমরা তিন বুদ্ধিমান (?) তাই "জান দিব তবু জায়গা ছাড়িবনা", নীতিতে অটল রইলাম, লম্বা লম্বা শ্বেতদের বিশাল ধাক্বা উপেক্ষা করেও...।

8টা থেকে 11টা 59, কেটেই গেলো, নিজের স্থান রক্ষার যুদ্ধে টেরই পেলাম না কত ধানে কত চাল হয়ে, ভাত হলো, সেই ভাতে মন্ডা হয়ে কতকিছু লন্ড-ভন্ড হয়ে গেলো। আমাদের অন্যকিছুতে খেয়াল করার টাইম নাই, ভালো কথায় "বেইল নাই"। কত সুন্দরী ললনা এলোগেলো, ধাক্বা খেলো, সরি বল্লো, কার কি, কোন হুঁশ নাই। আমরা বরং ব্যস্ত "....অই দোস্ত তুই সামনের রেলিংডা ছাড়িস না.... অই তুই আমার বেল্ট ধইরা রাখ শক্ত কইরা, দাঁত কিড়মিড়ি দিয়া.... অই হালা ভুসা কই গেলি...." টাইপের ক্ষিস্তি খেউরে।

12 টা বাজার সাথেই চারদিক আলোকিত করে আতশ বাজি জ্বলে উঠলো, আহা... কি নিদারুণ দৃশ্য! একটা মাত্র ক্যামেরা, রিল ছিল দুইটা, দেড় রিল অবশ্য পথেই শেষ। বাকী যে কয়টা ছিল তা আসল আতশ বাজি শুরু হবার আগেই ভুষা মিয়ার হাত ধরে খতম। কে কেমনে বসে আছে, সাথে কি কি নিয়ে এসেছে, এই ছিল তার সাবজেক্ট। যখন আতশ বাজি ফুটছে, দেখি ভুষা নির্বিকার,
: কিরে কি হলো, ফ্লাশ মার।
: কী দিয়া মারুম? সব শেষ....।

আমি বলি তাইলে আর কি, এক আঙুল মুখে দেও আরেক আঙুল পিছনে দিয়া বইসা থাক, আর একটু পর পর আঙুলের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাক...।

হঠাৎ দেখি শরীরে সিক্ত ফোঁটা পড়ছে, আমি নতুন দেশ ত্যাগী, দেশের মিলাদের অভিজ্ঞতা মন থেকে এখনো যায়নি। ভাবলাম, আহা... কে জানি গোলাপ জল ছিটাচ্ছে রে, ঈশ, ইহুদী-নাছারা হলে কি হবে, বছরের প্রথম দিনে গোলাপ জলের পবিত্রতায় সিক্ত করে নিচ্ছে নিজেদের, সাথে বেনিফিটেড আমরাও। আমি তখন নষ্টালজিয়ায়, দেশে, মিলাদ পড়ছি কোথাও, "ইয়া নবী সালামুআলাইকা, ইয়া রাসূল সালামুআলাইকা....." ভুষার হেঁচকা টান আর গদগদ আওয়াজ,
: রাখ তোর গোলাপ জল, ওই দেখ গোলাপ জলের মাহাত্য...।
নাহ্, এই ভুষাটার জন্য মিলাদের জিলাপীটাও নিতে পারলাম না। ওর টানাটানি আর ডাকাডাকিতে আমার নষ্টালজিয়া ভেঙে খানখান হয়ে মিলাদের জলসা থেকে আমি আবার সিডনী হার্বারে। জিলাপী হারিয়ে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে দেখি গোলাপি টপস পড়া এক তরুণী বিপুল উৎসাহে শ্যাম্পেনের ফোয়ারা বসাচ্ছে, আর সেই শ্যাম্পেনের উড়ে আসা ফোঁটাকে আমি গোলাপ জল মনে করে কত কিছু ভেবে ফেল্লাম....। হায়রে গোলাপ জল.....!

1টার দিকে যখন লোকজন পাতলা হয়ে গেলো, তখন খুজে পাওয়া গেলো হারানো বন্ধুদের একজনকে, ম্যাকডোনালডস থেকে বিগ-ম্যাক কিনে, পাশেই ক্যাফে সিডনী-র সামনে টুলে বসে আরামসে কামড় বসাচ্ছে। ব্যাটাকে দেখেই মাথায় গেলো রাগ চড়ে! বলা কওয়া নেই, প্রথমেই হারিয়ে যাওয়া, শ্যাম্পেন কে গোলাপ জল মনে করে ভুল তার ওপর ভুষার জন্য মিলাদের জিলাপী হতে বঞ্চনা, সর্বোপরি আমি ক্ষুধায় মরি আর উনি, এখানে টুলে বসে বিগ-ম্যাক খায়...। দিলাম খটাশ করে একটা চড় বসিয়ে-

: ব্যাটা ফাইজলামী করার আর জায়গা পাস না? কতদিন কইছিনা বিগ ম্যাক খাবি না। তোরে এটা খাইতে দেখলে আমার পিন্ডি জ্বলে...।

ঘটনার আকষ্মিকতায় হতভম্ব হয়ে নিউটনের তৃতীয় সূত্র ভুলে গিয়ে ও জিজ্ঞেস করে- দোস্ত কবে কইছিলি, আমার তো মনে নাই।

কথা না বাড়িয়ে গেলাম ম্যাকডোনালডসে, কিনলাম সবাই একটা করে বিগ-ম্যাক, পয়সা দিল, ভিকটিম... পেট পূজো হলো আমাদের...। ট্রেনে চড়লাম, সার্কুলার কী থেকে বারউড, আধা ঘন্টার মতো সময়, এর মধ্যে আমাকে এমন পঁচানোই পঁচানো হলো যে সেই পঁচানোর গন্ধ আমি এখনো পাই.... বদমাশ গুলো টপিক নিয়েছিলো,....

"দোস্ত, কে জানি গোলাপ জল ছিটাচ্ছে রে........"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×