somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক এবং গ্রেট ওশেন রোড

২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়,

-: আচ্ছা, আপনার সবচেয়ে স্মরনীয় ভ্রমনের স্মৃতি কোনটি?

আমি নিশ্চিত, 90 শতাংশ মানুষ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবেন তা নির্ধরাণ করতে গিয়ে। শেষে হয়তো একটা "আঙুর হাসি" দিয়ে বলবেন,

-: কেন, ওইযে যেবার মন্টুর বাপের সাথে থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম, সেটা। উফ্, হায় আল্লা, কী বলবো আর, আমিতো আনন্দে.....
ব্যাস শুরু হয়ে গেলো কাহিনী !

কিংবা-

-: আসলে দেশে বিদেশে এতো জায়গা ভ্রমন করেছি যে ঠিক এই মুহুর্তে বলতে পারছিনা সেরা কোনটা। তবে হঁ্যা, একবার সেই মিরপুর থেকে পুরান ঢাকায় গিয়েছিলাম হরতালের দিনে আমার প্রেয়সীকে জন্মদিনের "স্নেহ" জানাতে। স্নেহ কেনো বলছি জানেন?
এখন আমি বেচারা মাথা নাড়লেও যা, না নাড়লেও তা, উনি কাহিনী বলবেনই। ধরে নিলাম, মাথা নেড়েছি এবং ওনার বক্তব্য
-: আসলে তার সবে মাত্র 20 হয়েছে আর আমি 30ছাড়িয়ে উর্ধামুখী। সেই জন্যে জন্মদিনের স্নেহ বলছিলাম আরকি। ও কিন্ত বলেছিলো, বিয়ে করলে কেবল আমাকেই করবে। একদিন হলো কী.....

একদিন কী হলো তা দিয়ে আমি কী করবো? এখানেও শুরু হয়ে গেলো কাহিনী !... পাঠক সবুরের ফল মেওয়া খান, আমি এখনো গুলিয়ে ফেলিনি কী লিখতে যাচ্ছি

আমি নিজে এখনো সেই অবিস্মরনীয় ভ্রমনটা করতে পারিনি, কারণ সুযোগের অভাব। একদিন নিশ্চই লিখবো আমার স্বপ্নের সেই ভ্রমনটা নিয়ে...। কিন্ত এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তার কথা বলতে হলে বলবো,
মেলবোর্ণের Great Ocean Road ধরে গাড়ী চালানোর কথা। দুটা কারণে এই ভ্রমনটার কথা থাকবে আমার।

1. আমি জীবনে (এই পর্যন্ত) দুইটা এয়ার ফ্লাইট মিস করেছি, এর একটা ছিলো সেদিন।

2. Great Ocean Road ধরে যাবার সময় অসধারণ কিছু সৌন্দর্য অবলোকন করার সুযোগ হয়েছে, যার মধ্যে Port Campbell National Park ও ছিলো।

এই ভ্রমনের বীজটা খানিক আগেই বোনা হয়েছিলো আমার মাঝে, ইন্টারমিডিয়েটে থাকার সময় আমার ঘরে টানানো একটা ক্যালেন্ডারে Port Campbell National Park এবং গ্রেট ওশেন রোড-এর ছবি দেখে।

ওয়ান টেল কোম্পানীর মোবাইল নিয়ে একটা সৌজন্য টিকেট জিতেছিলাম লটারীতে। হয় ব্রিসবেন নয় মেলবোর্ণ.... ঠিক করলাম মেলবোর্ণ। কারণ ছিলো, বন্ধুদের হাতছানি এবং আগেরবারের ভ্রমনে "মহা বাঁশ" খাওয়া।

মেলবোর্ণ পৌঁছানোর পরদিন প্ল্যান ঠিক করা হলো। অ্যাভিস থেকে লাল রঙের একটা টয়োটা ভাড়া করা হলো। খুব ভোরে উঠে লেবানীজ রুটি আর ডিমভাজি পেটে পুরে রওনা হলাম। আমাদের কারোর মধ্যেই পোটলা-পুটলির উৎসাহ নেই, বিধায় "যা পারি, স্টোর করি" স্টাইলে সবাই খেলো। রুবেল চালাচ্ছিল গাড়ী। শহর থেকে বের হয়ে Geelong এর কাছাকাছি এসে স্টিয়ারিং আমার হাতে এলো। এক পাশে উচু রক্স আরেক পাশে বিস্তীর্ণ মহাসাগর, মাঝখান দিয়ে প্রায় 260 কিলোমিটার দীর্ঘদুই লেনের রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে ড্রাইভ করার সময় চোখের সামনে ভেসে উঠছিল অপরূপ সব দৃশ্য। মনে হচ্ছিলো বিশাল ক্যানভাসে অাঁকা, সুনিঁপুন হাতের কোন কারুকাজ.... একেবারে জীবন্ত।

Lorne নামের একটা ছোট্ট শহরে (নাকি গ্রাম) থেমেছিলাম নিজেদের ডি-এবং রি-হাইড্রেট করার জন্য। Lorne ছাড়িয়ে এসে কয়েক জায়গায় নেমে ফটোসেশন হলো আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে নীলকে প্রাধান্য দিয়ে। সারা পথে অনেক হাসি-ঠাট্টা, পোংটামী, ফাইজলামী, চেংটামী, বিটলামী শেষে সকাল প্রায় সাড়ে 10টার দিকে পেঁৗছালাম পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক। এখন কেউ যদি আমাদের গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কের সাথে এর তুলনা করে ফেলেন তাহলে আমার থলতি-ফুলতি গুছিয়ে দৌড় দেয়া ছাড়া গতি নেই

12 Apostles এর সাথে অনেকেই পরিচিত। প্যাসিফিকের পাড় ঘেঁষে দাড়িয়ে থাকা কিছু স্তম্ভ। [প্রধান ছবি দ্রষ্টব্য]
এই 12 Apostles হলো পোর্ট ক্যাম্পবেল এর প্রধান আকর্ষন গুলোর একটা। পার্কিং লটে গাড়ী রেখে হেঁটে গেলাম সমুদ্্রের পাড় ধরে। নিজের চোখকে বিশ্বাস হয়না, এমন সৌন্দর্য, এমন জায়গাতে আমি আসতে পারবো, যা কাল পর্যন্ত কেবল ছবি হয়েই আমাতে বিরাজ করেছে !

12 Apostles, London Bridge - এ পুটুস, পাটুস ছবি তোলা হলো আমাদের। যা দেখি, তারই ছবি তুলতে ইচ্ছে করে, বাদ দেব কি? চোখ জুড়িয়ে, মন ভরে দেখে নিলাম সেই সৌন্দর্য কয়েক ঘন্টা ধরে। এর মধ্যে কত শত খুনসুটির মধ্য দিয়ে সময়টা কেটে যাচ্ছিলো।.... তাড়া দিলাম বন্ধুদের, "যাওয়া উচিৎ", সাতটার মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে হবে তো!

যাবার পথে রেইন ফরেস্টের ভেতর দিয়ে একটা রাস্তা ছিলো। পাহারী পথে সীনিক ড্রাইভ। সেটা দিয়ে চলার সময় হলো বড় রকমের একটা ভুল। 70 সাইন দেখে গাড়ীর স্পিড সবে 80তে তুলেছি, ঠিক এর পরেই দেখলাম স্পিড লিমিট দেয়া আছে 30, সামনে এক্সট্রিম বাঁক। তাড়াহুরা করে ব্রেক কষে বাঁক নিতে গিয়ে পেছনের চাকা রাস্তা ছেড়ে নুড়িতে.... গাড়িটা পুরো ফ্রন্ট সাইড ব্যাক ঘুরে স্থির.... সবাই চুপ, রুবেল বল্লো, সাইড করো। তাই করলাম। গাড়ী থেকে নামলে রুবেল সান্তনা দিল, its okay mate বলে.....।


চলবে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×