এক শনিবার সকালে আমার স্বভাব বিরুদ্ধ হয়ে ভোর (!) 10 টার দিকে উঠে ম্যাক্সিমিলিয়ান স্ট্রাসে ধরে হেঁটে যাচ্ছি ।
উজ্জ্বল সকাল, ঝলমলে রোদ... ভালোই লাগছিলো। হঠাৎ খেয়াল করলাম কেউ ডাকছে। দাড়ালাম, ভদ্্রলোক কাছে এসে ইংরেজীতে জিজ্ঞেস করলেন আমি বাঙালী কিনা। হঁ্যা বোধক উত্তর পেয়ে হাত মেলালেন, নিজের পরিচয় দিলেন।
স্থায়ী ভাবে আছেন জেনেভা। এখানে এসেছেন ইউনাইটেড নেশন্স এর এক মিটিং-এ। আমাকে অনুরোধ করলেন, সময় থাকলে যেনো ওনাকে খানিক সঙ্গ দেই, শহর দেখবেন উনি।
মুহুর্তের মধ্যেই বেশ খাতির জমে গেলো আমাদের। ছোট্ট শহর, ঘন্টা খানেক ও লাগলো না সব গুলো রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে। মাঝে মাঝে কয়েকটা দোকানে ঢুঁ মারলেন, ব্রান্ডেড কিছু জিনিষের মূল্য পার্থক্য বুঝালেন দু-দেশের মাঝে। "বেথোফেন স্কয়ার" আর "মার্কট প্লাৎস" এসে বল্লেন, এরকম খালি জায়গা জেনেভা-তে কল্পনাই করা যায় না।
হাঁটাহাঁটির এক পর্যায়ে উনি পীড়াপীড়ি শুরু করলেন আমাকে কিছু খেতে। আমি যতই বলি এসময় আমি কিছুই খাই না, দুপুরের পর খিধে পেলে হয়তো কিছু খাবো। উনি নাছোর বান্দা। অন্তত এক গ্লাস কোক হলেও খেতে বল্লেন।
ভাবলাম, বেচারা এতো করে বলছেন, চাচার বয়সী মানুষ, কয়েকবার মুখের উপর না করেছি... ঠিক আছে হয়ে যাক এক গ্লাস কোক! সম্মতি পেয়ে সাথে সাথেই ঢুকে গেলেন পোস্ট স্ট্রসের NordSee-তে। আমি হইহই করে না করলেও উনি শুনলেন না।
বেশ ভালোই অর্ডার প্লেস করলেন, মাছের কাটলেট, আলু, এস্পারাগাস আর তার সাথে কোক। আমাকে একরকম বাকহীন করে রাখলেন। বিল দেবার জন্য যখন কাউন্টারে গেলেন, তখন হয়তো বুঝতে পারলেন আমার হইহই করে মানা করার কারণ।
NordSee হলো দামী খাবারের দোকান গুলোর একটা। গুনে গুনে তিরিশ টা ইউরো বের করে দিলেন, ভদ্্রলোকের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি আগের সেই উল্লাস টুকু যেনো মিইয়ে গেছে। কষ্ট লাগলো, ওনার "জোর করে আতিথেয়তা" করতে গিয়ে বাঁশ খাওয়া দেখে। বল্লাম, আপনি গেস্ট, আমাকে পে করতে দিন। উনি দিগুন বেগে আমার হাত ফিরিয়ে দিলেন। দ্্বিতীয় বার করাটা সিনক্রিয়েটের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে ক্ষ্যামা দিলাম।
টেবিলে খেতে বসে আবার উনি বল্লেন, খাবার টা তার প্রাইস ডিজার্ভ করে। আমি মনে মনে বলি, "উরু খই গোবিন্দায় নমঃ"। বল্লাম, অন্তত আধেক পোর্শনটা আমাকে পে করতে দিন। রাজী হলেন না। আমি আশা ছেড়ে দিয়ে গপাগপ গিল্লাম আর সুযোগ মতো আড়চোখে ওনার বাংলা 5 হয়ে যাওয়া মুখটা দেখছিলাম....।
আজকে দুপুরে পোস্ট স্ট্রাসে দিয়ে হেঁটে যাবার সময় দেখলাম NordSee দোকানটা উঠে গেছে। ছবি তুল্লাম। আরেকটা কারণ ও আছে, একটা ঝলমলে দিন, সুন্দর আবহাওয়া, কারো সাথে শেয়ার করার কথা ছিলো। ছবিগুলো দিয়ে দিলাম এখানে....।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



