somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতিতে সত্য ও মিথ্যার দোলাচল

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিভিন্ন কারনে এদেশের মানুষ রাজনীতিক ও সরকারী গোয়েন্দা বিশ্বাসই করতে চায়না। এর শুরু কবে থেকে সেটা বলা মুশকিল। তবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার সকল তথ্য ও বিশ্বাসকে ভুল ও মিথ্যা প্রমান করে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। গোয়েন্দা একটা ভুয়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসির উদ্রেক করে প্রতিষ্ঠা তখনই পেয়েছিল। তারপরে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পরে সেটি রীতিমত শত্রুতে পরিনত হয়। এর ধারাবাহিকতায় জিয়া হত্যাকান্ডে শত্রুতা স্থায়ীরুপ পেয়ে যায়। এরপরে প্রায় প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে তাদের জরিপ মিথ্যা বলে প্রমান হয়েছে। এমনকি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময়ে তাদের সহযোগীতার কথাও বিদিত রয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারেও তাঁরা নিরাকারই ছিল।
সরকার বাহাদুরের উপর আস্থা হারানোর শুরু কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি ও সংসদে পাস করানোর মধ্য দিয়ে। জঘন্যরকমভাবে খোদ সরকারের মিথ্যাচার ধরা পরে বাংলা ভাই নামক জঙ্গি সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব অস্বীকারের মাধ্যমে।
সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল সকলের অংশগ্রহণে 'জজ মিয়া' নামক নাটকের মধ্য দিয়ে চুড়ান্তভাবে আস্থাহীনতার নজির স্থাপিত হয়।
বিচ্ছিন্নভাবে হয়ত আরও অনেক ঘটনাই রয়েছে। যেগুলো মিথ্যাচার বা ষড়যন্ত্রের অংশ হলেও উপরোক্তগুলোর তুলনায় হয়ত নেহায়েতই উদাহরনের পাল্লা ভারী।
এসব কারনেই জনগন অনেক সত্য বিষয়েও তাঁরা কথা বললে বা তথ্য প্রকাশ করলে আগের মিথ্যাচারগুলোর রেফারেন্স দিয়ে অবিশ্বাস করে। একটি পক্ষ দাঁড়িয়েই থাকে সত্যকেও মিথ্যা প্রমান করতে আর সঙ্গে যদি উপরোক্ত বিষয়গুলো থাকে তাহলে তাদের কথাকে অবিশ্বাস করবে কেন? অথচ ষড়যন্ত্র রোধ করার পরে সেই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তথ্য দিলেও অনেকেই অবিশ্বাস করে এই বলে যে, সরকার তাদের কোন গোপন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই ষড়যন্ত্রের নাটক করছে। ঠিক এই কারনেই কিছুদিন আগে সেনানিবাস উত্তপ্ত হলে সেটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করা হলেও সেটা নিয়ে অনেকের অবিশ্বাস যেমন রয়েছে ঠিক তেমনি অতি সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যকেও অনেকেই মিথ্যাচার বলছেন। মোদ্দাকথা, মানুষ তাদের নিজস্ব স্বার্থ(রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক) ব্যতিরেকে অন্য কোন কিছুই মানতে বা বিশ্বাস করতে চায়না। হাজারবার সত্য হলেও সেটা তাঁরা অবিশ্বাসই করে।
বাস্তবতা হলো, সেনানিবাস ও কথিত তৃতীয় শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা নিজের জীবনের উপর চরম হুমকী নিয়েও মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। পর্যবেক্ষক মহলের ধারনা, এরূপ ভয়ংকর শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সরকার না হয়ে অন্য নেত্রী বা দলের সরকার হলে এতদিনে পালিয়ে বাঁচতো। সেটার নজির ১৯৯৬ সালে জেনারেল এ এস এম নাসিম এবং ২০০৭ সালে জেনারেল মইনের ঘটনাই প্রমান করে। কিন্তু শেখ হাসিনা বলেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আমার বিশ্বাস, এদেশে যেকোন অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে চাইলে তাদেরকে রাজনৈতিক দলের উপর নির্ভর করতেই হবে। সেটা যেকোন দলই হোক। তা নাহলে ক্ষমতায় আসা অসম্ভব। তাই রাজনৈতিক দলগুলো কোন ষড়যন্ত্রে অংশ না নিলে নির্বাচিত সরকারই আসা-যাওয়া করবে। এটা এজন্যই বলছি যে, আগের অবস্থা এখন আর নাই। রাজনৈতিক দলগুলো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে সেজন্যও না, কারনটা স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক। দেশের অর্থনীতির প্রায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রন করছে রাজনৈতিক দলের নেতা, শুভাকাঙ্ক্ষী প্রমুখেরা। কাজেই চাইলেই যে কেউ হুল ফোটাতে পারবে না।
বি.দ্র. এই লেখাটি লেখার সময়ে বহুল ব্যবহৃত দুটি প্রবাদকে মাথায় রেখেই লিখেছি। একটি হলো- যুদ্ধ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এতে শুধু জেনারেলদের উপরে নির্ভর করলে চলে না। আরেকটি হলো- কাউকে বিতর্কিত করতে চাইলে, আগে তার নামে কুৎসা রটাও, বদনাম করো।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×