somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যায়াম আমাদের শরিরে কিভাবে কাজ করে???

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যায়াম আমাদের শরিরে কিভাবে কাজ করে???
ব্যায়াম ( exercixe) মূলত চারটি ধাপে হয়ে থাকে। প্রথমে এই চারটি ধাপ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
১। warming up এইটি আসলে প্রথম ধাপ। এই ধাপে, স্ট্রেচিং এবং হালকা ব্যায়াম হার্ট রেট বাড়িয়ে দেয় যার ফলে শরিরে রক্ত প্রবাহ এবং পেশির তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
২। Jogging : যখন হালকা ব্যায়াম অথবা একটু লম্বা সময় ধরে দৌড়ানো হয় তখন শরিরের পেশি গুলো অক্সিজেনের মাধ্যমে তাতে অবস্থিত গ্লুকোজ কে ভেঙ্গে শক্তি উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যারবিক রেসপিরেশন ( aerobic respiration) ।
৩। Sprinting : দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর সময় পেশিতে প্রচুর পরিমানে শক্তির প্রয়োজন হয়। তখন পেশি গুলো অক্সিজেন ছাড়াই তাতে অবস্থিত গ্লুকোজ ভেঙ্গে প্রচুর পরিমানে শক্তি উৎপন্ন করে। এই শক্তি খুবই দ্রুত উৎপন্ন হয় এবং অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যানারবিক রেসপিরেশন। (anaerobic respiration)
৪। Fatigue: শরিরে অবস্থিত গ্লুকোজ দুই ভাবে ভেঙ্গে পেশিতে শক্তি সর্বরাহ করতে পারে। প্রথমত অক্সিজের ব্যবহার করে দ্বিতীয়ত কোন প্রকার অক্সিজের ব্যবহার না করে, যাকে আমরা anaerobic respiration বলে থাকি। এই অ্যানারবিক রেসপিরেশনের ফলে( অক্সিজেন ছাড়া গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তি উৎপন্ন করার ফলে) শরিরে অতিরিক্ত পরিমানের ল্যাকটিক অ্যাসিড নিসৃত হয় যা পেশির কে নিস্তেজ এবং দুর্বল করে দেয়।

আমাদের পেশি গুলো কিভাবে শক্তি রুপান্তর করে দৌড়াতে সাহায্য করেঃ
যখন আমরা বিশ্রাম কিংবা জগিং এর মত হালকা ব্যয়াম করি তখন আমাদের বডি অ্যারাবিক রেসপিরেশনের মাধ্যমে, অক্সিজের সাহয্য নিয়ে, আমাদের শরিরে যে গ্লুকোজ (জ্বালানি) রয়েছে তাকে ভেঙ্গে শক্তিতে পরিনত করে। এই শক্তি আমাদের পেশিতে অ্যাডেনসিন ট্রাইফসপেট (ATP) হিসেবে কাজ করে। অক্সিজেন ব্যবহার করে যখন এই শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয় তখন তার সাথে সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানিও উৎপন্ন হয়। যা ঘাম হিসেবে এবং শ্বাসপ্রশাসের সাথে আমদের শরির থেকে বাহির হয়। এক জন ব্যক্তি যখন সুগঠিত পেশি তৈরি করতে চান তখন তাকে এমন ভাবে ব্যায়ম বা কাজ করতে হয় যেন, গ্লুকোজ থেকে শক্তি উৎপন্ন করার সময় কম পানি উৎপন্ন হয়।
অন্যদিকে আমরা যখন নিশ্বাসের সাথে অক্সিজেন নেই তখন তা রক্তের মাধ্যমে গ্লুকোজের সাথে মিশে যায়। সেই অক্সিজে গ্লুকোজকে ভেঙ্গে শক্তি উৎপন্ন করে। যখন খুবই পরিশ্রমের কাজ অথবা স্প্রিন্টিং এর মত ব্যায়াম করা হয় তখন আমাদের হার্ট যে হারে পাম্প করে শরিরে রক্ত সর্বরাহ করে তার থেকে দ্রুত হারে শক্তি উৎপন্ন করতে হয়। তখন আমাদের পেশি গুলো রক্ত থেকে অক্সিজেনের ব্যবহার না করে সরাসরি গ্লুকোজ থেকে প্রয়োজনিয় শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে। এটাই অ্যানারবিক রেসপিরেশ নামে পরিচিত যেখানে অক্সিজের উপস্থিতি ছাড়াই গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তি উৎপন্ন হয়। যতক্ষন এই শক্তি উৎপন্ন অব্যাহত থাকে ততক্ষন আমাদের পেশি গুলো এই প্রচুর পরিশ্রমের কাজ গুলো করতে পারে। এবং সময়ের সাথে সাথে যখন অতিরিক্ত পরিমান বাই প্রডাক্ট (পানি এবং কার্বন ডাই অক্সাইড) উৎপাদন হতে থাকে তখন পেশি দুর্বল এবং নিস্তেজ হয়ে পরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:৪৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×