
শৈশবের অবধারিত ছুটির দিনগুলোতে একটি নদী থাকতো। বয়ে চলা নদীর মাঝে একটা সরল বাঁক থাকতো। বাঁকের সেকি হাসি ঠাট্টা ছিল ! কখনো গোত্তা খাওয়া ঘুড়ির মত মাঝ পুকুরে ঝাপ, কখনো বা নিজেই বিলের সাপ। এসব চারণে আমার ডানা জুড়ায় না কখনো। শক্ত স্বাবলম্বীর মত ভেসে বেড়ায়। উড়ন্ত চোখে দুটি ফণীমনসা দেখতাম বট গাছের মগডালে। ওখানে তাদের জন্মাবার কথা নয়। নিজড় মায়ার অনুরণন। উন্নাসিক চাওয়ায় অবহেলার যৌবন প্রাপ্তি। কষ্ট হত কি কখনো ? ভেবে দেখিনি। তাহলে নিশ্চয়ই হত না। কিন্তু উপেনের জন্য খুব কষ্ট হত আমার। ওইটুকুন বয়সে কেঁদে রাত ভাসিয়েছি। এরপর আরও কত রাত কেঁদেছি ! এই তো সেদিনও ভাইকে শোনাতে গিয়ে গলা ধরে এসেছিল। আশৈশব চিন্তা ভালবেসেছি। আমৃত্যু তাকে চাই। পাখিদের অধিকার হারানো থেকে বানরের অধিকার হারানোর শোক কোন অংশেই কম ছিল না। তবু সবাই উড়তেই ভালোবাসে। আমার শৈশবের সফেদ আকাশে আমিও সেটা ভালবাসতাম। কিন্তু এখন বিবর্ণ যৌবন। মুহূর্তের বোধ অনেক পরিণত ভীতির জন্ম দিয়েছে। যে জন্ম নতুন শিশুর জন্ম ভয় পায়। অশ্লীলতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে দূরত্বের ব্যবধান ঘোচানো দরকার। শৈশবের সেই মিষ্টি গন্ধটি কই এখন!? কোথায় তার সুরভিত, মুকুলিত ফুল বাগান,ফল বাগান? ছাপ্পান্ন হৃদয়ে তিন বাহানার কড়িকাঠ চঞ্চল গুণতে শেখায়। নামতা পড়ি অ, আ চন্দনের ধূপ। অথচ তখন এত কিম্ভূতে ও কিছুতেও কিছুতেই হারাতো না বাল্যের সেই সারল্য। আমি অনড় প্রতীক্ষায় থাকতাম সেই স্রোতস্বিনী বাঁকের। কি দারুণ! কি দারুণ ! আজো লাগে শিহরণ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



