
ছবিঃ মুম রহমান
আমাদের ছোটবেলায় আমরাও এমন অনেক বসেছি। জরুরী নয় যে, এনালাইসিস পুরোপুরি সত্য হয় বা মিলে যেতে হয়। কিন্তু মেলে বৈকি।
একদম বাম পাশে লাঠি হাতে যে মেয়েটা, তার বসার ভঙ্গিতে হাত-পায়ের বিন্যাস এবং তাকানোর ধরণ বলছে, সে 'জয়ী' টাইপ মেয়ে। স্বপ্নবাজ, আহ্লাদী, আত্মবিশ্বাসী এবং নানারকম কাজ করতে চাওয়া মেয়ে। এমন মেয়ে সাহসী এবং আবেগীও হয়। তার পাশে নীল জামা পড়া মেয়েটিকে দেখলে প্রথমে সবাই ভাবলেশহীন এবং অলস ভাববে। কিন্তু এই জাতীয় মেয়েদের মনে মনে প্রচুর কৌতূহল থাকে এবং ভাবলেশহীনভাবে চোখের দেখাতেই ওরা অনেক কিছু শিখে যায়। পরবর্তীকালে এমন সব কাজ করতে পারে, যা কেউ ভাবেইনা যে ওরা পারবে। প্রয়োজনে দুর্দান্ত সাহসী হতে পারে ওরা। তার পাশের চোখ ঢাকা মেয়েটিকে লাজুক মনে হতে পারে। কিন্তু এটা হল, ওর অবচেতনে নিজেকে সবার মাঝে ফোকাস করা। প্রকৃত লাজুক মেয়েরা এই বয়সে এভাবে চারপাশে আরও তিন বান্ধবীর মাঝে চোখ ঢাকবে না। সে সেনসেটিভ এবং অন্যদের তুলনায় আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে। এই জাতীয় মেয়েদের মাঝে দুটো ব্যাপার ঘটতে পারে। বড় হতে হতে সে আরও বেশি পুরুষ সংবেদনশীল তথা রক্ষণশীল মনোভাবের হতে পারে অথবা সে সবসময়ই তার আশেপাশের অন্যদের থেকে চতুর এবং যথেষ্ট পরিপক্কতা বা জ্ঞানের পরিচয় দেবে। সবচেয়ে ডানপাশের মেয়েটা হচ্ছে সমাজের দৃষ্টিতে ‘ভালো মেয়ে’ টাইপ তথা নিয়ম-কানুন মানা মেয়ে। সে অগোছালোভাবে থাকা বা জীবনের জন্য নিজের নিয়ম বানানোর কথা ভাবতেই পারে না। ওরা সহজ-সরল হয় এবং সাধারণত প্রতিবাদী নয়। অন্যরা কি করছে বা পাছে লোকে কিছু বলে, এই ভাবনায় তাড়িত থাকে।
দেহের ভাষা পড়ে মনের অনেক কিছু আন্দাজ করা, কিংবা আচরণ আন্দাজ করা অথবা এমনকি পেশা আন্দাজ করা খুব নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে যারা শার্লক হোমস, ফেলুদা ইত্যাদি অর্থাৎ গোয়েন্দা কাহিনী পড়েছেন তারা বেশ করেই বিষয়টা জানেন। এটা শুধুমাত্র সাহিত্যে নয়; বাস্তবেই এর প্রয়োগ আছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিশেষ করে গোয়েন্দা বাহিনীগুলোতেই এর প্রয়োগ বেশি। রাস্তার পুলিশেরও এই ব্যাপারে বেসিক কিছু ট্রেনিং থাকে। এর বাইরে সমাজ বিজ্ঞানীদের কাজে বিষয়টার বহুল চর্চা আছে। শিক্ষাবিদদের কাছে আছে। চিকিৎসাশাস্ত্রেও আছে। বিশেষ করে হোমিও প্যাথিতে তো এর চূড়ান্ত ব্যবহার। আরও অনেক ক্ষেত্রেই আছে। আর মনোবিজ্ঞানীদের তো গবেষণার বিষয়ই এটা। ব্যাপারটা এমন নয় যে, একবার কিছু দেখে আন্দাজ করলেই তা সত্য হয়। কিন্তু একাধিকবারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে প্রকৃত বা খুব কাছাকাছি সিদ্ধান্তেই আসা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



