somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেহভঙ্গি দেখে একটু সাইকোলজি এনালাইসিসের প্রয়াস

১১ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ মুম রহমান

আমাদের ছোটবেলায় আমরাও এমন অনেক বসেছি। জরুরী নয় যে, এনালাইসিস পুরোপুরি সত্য হয় বা মিলে যেতে হয়। কিন্তু মেলে বৈকি।

একদম বাম পাশে লাঠি হাতে যে মেয়েটা, তার বসার ভঙ্গিতে হাত-পায়ের বিন্যাস এবং তাকানোর ধরণ বলছে, সে 'জয়ী' টাইপ মেয়ে। স্বপ্নবাজ, আহ্লাদী, আত্মবিশ্বাসী এবং নানারকম কাজ করতে চাওয়া মেয়ে। এমন মেয়ে সাহসী এবং আবেগীও হয়। তার পাশে নীল জামা পড়া মেয়েটিকে দেখলে প্রথমে সবাই ভাবলেশহীন এবং অলস ভাববে। কিন্তু এই জাতীয় মেয়েদের মনে মনে প্রচুর কৌতূহল থাকে এবং ভাবলেশহীনভাবে চোখের দেখাতেই ওরা অনেক কিছু শিখে যায়। পরবর্তীকালে এমন সব কাজ করতে পারে, যা কেউ ভাবেইনা যে ওরা পারবে। প্রয়োজনে দুর্দান্ত সাহসী হতে পারে ওরা। তার পাশের চোখ ঢাকা মেয়েটিকে লাজুক মনে হতে পারে। কিন্তু এটা হল, ওর অবচেতনে নিজেকে সবার মাঝে ফোকাস করা। প্রকৃত লাজুক মেয়েরা এই বয়সে এভাবে চারপাশে আরও তিন বান্ধবীর মাঝে চোখ ঢাকবে না। সে সেনসেটিভ এবং অন্যদের তুলনায় আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে। এই জাতীয় মেয়েদের মাঝে দুটো ব্যাপার ঘটতে পারে। বড় হতে হতে সে আরও বেশি পুরুষ সংবেদনশীল তথা রক্ষণশীল মনোভাবের হতে পারে অথবা সে সবসময়ই তার আশেপাশের অন্যদের থেকে চতুর এবং যথেষ্ট পরিপক্কতা বা জ্ঞানের পরিচয় দেবে। সবচেয়ে ডানপাশের মেয়েটা হচ্ছে সমাজের দৃষ্টিতে ‘ভালো মেয়ে’ টাইপ তথা নিয়ম-কানুন মানা মেয়ে। সে অগোছালোভাবে থাকা বা জীবনের জন্য নিজের নিয়ম বানানোর কথা ভাবতেই পারে না। ওরা সহজ-সরল হয় এবং সাধারণত প্রতিবাদী নয়। অন্যরা কি করছে বা পাছে লোকে কিছু বলে, এই ভাবনায় তাড়িত থাকে।


দেহের ভাষা পড়ে মনের অনেক কিছু আন্দাজ করা, কিংবা আচরণ আন্দাজ করা অথবা এমনকি পেশা আন্দাজ করা খুব নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে যারা শার্লক হোমস, ফেলুদা ইত্যাদি অর্থাৎ গোয়েন্দা কাহিনী পড়েছেন তারা বেশ করেই বিষয়টা জানেন। এটা শুধুমাত্র সাহিত্যে নয়; বাস্তবেই এর প্রয়োগ আছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিশেষ করে গোয়েন্দা বাহিনীগুলোতেই এর প্রয়োগ বেশি। রাস্তার পুলিশেরও এই ব্যাপারে বেসিক কিছু ট্রেনিং থাকে। এর বাইরে সমাজ বিজ্ঞানীদের কাজে বিষয়টার বহুল চর্চা আছে। শিক্ষাবিদদের কাছে আছে। চিকিৎসাশাস্ত্রেও আছে। বিশেষ করে হোমিও প্যাথিতে তো এর চূড়ান্ত ব্যবহার। আরও অনেক ক্ষেত্রেই আছে। আর মনোবিজ্ঞানীদের তো গবেষণার বিষয়ই এটা। ব্যাপারটা এমন নয় যে, একবার কিছু দেখে আন্দাজ করলেই তা সত্য হয়। কিন্তু একাধিকবারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে প্রকৃত বা খুব কাছাকাছি সিদ্ধান্তেই আসা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৭
২১টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৩২



বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

রেডিওর ক্র্যাকল শব্দ ভেদ করে ভেসে আসা "আমার সোনার বাংলা", কিংবা কোনো বর্ষার সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলামের "কারার ঐ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিউস vs মুসা (আ.)

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



গ্রিক পুরাণে (Greek Mythology) কোনো একজন ঈশ্বর ছিল না , বরং অসংখ্য দেবদেবী ছিল। তবে জিউস (Zeus) হলেন গ্রিক পুরাণের প্রধান দেবতা , সমস্ত দেবদেবীর রাজা আকাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাক স্পর্শ (এটাকে সুর করে গান করার ইচ্ছে আছে)

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

কুয়াশার ভেতর ফিরে আসি চেনা সেই শহরের পথে,
বিবর্ণ আলো ঘুমিয়ে থাকে পুরোনো কোনো জানালাতে।
একটা নাম আজও কেন নিঃশব্দে ডাকে......
ধুলো জমা সেই পথটাতে পায়ের শব্দ থেমে যায়,
দেয়ালজুড়ে মুছে যাওয়া কত স্মৃতিরেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি রাজধানী ঢাকাকে মেরে ফেলছি ?

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৯

ঢাকাকে সব কিছুর কেন্দ্র বানিয়ে ঢাকার মাথায় আমরা যে দুর্বহ বোঝা তুলে দিচ্ছি তার ভার কি ঢাকা বইতে পারবে? আমরা যদি খুব চেনা কিছু দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×