তিনতলায় বসেছিলাম
এক ম্যাডামের কাছে,
তার সাথে আমার অনেক
জরুরি আলাপ আছে।
আলাপ-সালাপ কিছুক্ষণ
কাজ-কারবার নিয়ে,
বিব্রত করলেন ম্যাডাম
হাজার প্রশ্নে খুঁচিয়ে।
আলাপের একফাঁকে যে-ই
তাকিয়েছি বামপাশে,
খেয়াল হলো এক সুন্দরী
হুদাইহুদি-ই হাসে।
সে হাসিটা ঠিক হাসি নয়,
কীসের ছলচাতুরী;
ক্ষণেক্ষণেই বুকের মাঝে
দিয়ে যাচ্ছে সুরসুরি।
আশপাশের কোথাও যেন
লেগে গিয়েছে আগুন,
ভেতর ভেতর আমি বুঝি
হয়ে যাচ্ছি এই খুন।
সুমিষ্ট অতি মনোহারিণী,
চেহারায় তার মায়া;
কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম
হয়ে নিলাজ-বেহায়া!
ম্যাডাম যে-ই পাশের রুমে
কী জানি কাজে গেলেন,
সাহস করে জিজ্ঞেস করি,
"কী কারণে এসেছেন?"
জানালো আমায় মৃদু হেসে,
"একটা ট্রেনিং আছে;
আজ আমার দ্বিতীয় দিন
এই ম্যাডামের কাছে।"
বললাম তাকে নিচে যেন
আমার জন্য দাঁড়ায়,
তার সাথে কিছু কথা আছে
কাজ নিয়ে এ পাড়ায়।
নিচে নেমে এলো সে রূপসী,
আমি তখনও আছি;
ম্যাডামের সাথে আলোচনা
শেষটা হলেই বাঁচি।
আলাপ-সালাপ শেষ করে
ত্বরিত এলাম নিচে,
সে নিশ্চয়ই আমার জন্য
বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
এদিক-ওদিক দৌঁড়ালাম
তার দেখা পাবো বলে,
পেলাম না তার দরশন-
ইতিমধ্যে গেছে চলে।
মনটা আমার খারাপ হলো
তার দর্শন না পেয়ে,
অনেকক্ষণ উদাস হয়ে
রইলাম দূরে চেয়ে।
তার কাছে হলো না আমার
মনের কথাটা বলা,
আমি এখন কী করি হায়,
হৃদয় বড়ো উতলা!
ভালো লাগার দাম দেয় না,
সুন্দরীরা অহঙ্কারী-
কেউ কখনো খুঁজে পায় নি
তাদের মনের বাড়ি!
আমি কোন হরিদাশ পাল,
বুঝবো তাদের মন;
জ্বলে জ্বলুক বুকের মাঝে
কামনার হুতাশন।
অপেক্ষাতেই দিন কাটাই,
যদি দেখা হয়ে যায়;
গোপন কথাটা বলে দেবো-
আমি যে অনন্যেপায়।
গৃহীত হই আর না হই,
নেই তাতে মনোযোগ;
বলতে যদি পারি তবেই
হালকা হবে এ বুক।
৩ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
গাজীপুর।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




