somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রূপক বিধৌত সাধু
Our sweetest songs are those that tell of saddest thought (Shelly).

বেলা, অবেলা ও কালবেলাঃ টিউশন

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েদের কলেজটার পাশেই বাসাটা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে। তুহিন এসে দেখে দরজায় তালা দেওয়া। পাশের ঘরের দরজাটা অবশ্য ভেজানো। ডাক দিতে গিয়েও দিল না। এ সময়ে কাউকে বিরক্ত করা বোধহয় ঠিক হবে না।

গতকালও এসেছিল সে। আজ দ্বিতীয় দিন। এ সময়েই আসার কথা তার। মোবাইল বের করে ফোন দেওয়ার কথা ভাবল। হঠাৎ মনে হলো, আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে ক্ষতি কী?

ছেলেটার নাম আলিফ। ভালুকা পাইলট স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সে। ছাত্র হিসেবে ভালো। তবে, কিছুটা অমনোযোগী -এই যা সমস্যা।

টিউশনটা দিয়েছেন নাজমা ম্যাডাম। মেয়েদের কলেজের অফিসিয়াল স্টাফ তিনি। মাঠ পর্যায়ে বিমার চাকরিও করেন তিনি, পাশাপাশি একটা কোচিং সেন্টারও দাঁড় করিয়েছেন। তুহিন সেখানে ইংরেজি পড়ায়। ডিসেম্বরে সব স্কুলে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় কোচিংটা আপাতত বন্ধ আছে। ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় শুরু হওয়ার কথা।

কোচিং করিয়ে ঠিকমতো চলত না। মাস শেষে যে টাকাটা আসত, সে টাকায় কোনোমতে বাসা ভাড়াটা চলত। খাওয়ার টাকার জন্য বন্ধুদের কাছে হাত পাততে হতো; এরই মধ্যে এ কয়েকমাসে বিশ হাজার টাকা ঋণ হয়ে গেছে।

গতমাসের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সে শহরে আসে। এতদিনে চলার জন্য দু-চারটে টিউশনও জুটাতে পারেনি। ডিসেম্বরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী একজনের পড়তে আসার কথা ছিল, সে আর আসেনি।

পাশের ঘরের যে ছেলেটাকে তুহিন পড়ায়, তার মা সারা মাসে মাত্র পাঁচশো টাকা দেন। কিছু বলাও যায় না, যদি এটাও চলে যায়। কম শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। মানুষের বিচার দেখে সে পাথর হয়ে গেছে।

বাড়ি থেকে এসেছে গতকাল। তাকে আর্থিক সমর্থন দেওয়ার সাধ্য পরিবারের নেই। বাবা অসুস্থ, মা-ও ঠিকমতো চলতে-ফিরতে পারেন না। তাঁদের চিকিৎসা দরকার। ছোটোবোনটা ডিগ্রিতে পড়ে। তারও অনেক খরচ। এত টাকা কোথা থেকে আসবে?

জমি থেকে যে ফসল আসে, তাতে কোনোমতে চলে যায়। ওটাকে বড়ো জোর টিকে থাকা বলে, বেঁচে থাকা বলা যায় না। মোটামুটি রকম বেঁচে থাকতে হলেও ন্যূনতম কিছু অবদান রাখা প্রয়োজন। নিজেই যেখানে চলা যায় না, আর অবদান রাখা!

পাশের ঘরের দরজাটা খুলে বৃদ্ধা মতন একজন বেরিয়ে এলেন। তুহিনের দিকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “কাকে চাও?”
“আলিফকে পড়াতে এসেছি,” বলল তুহিন।
“তারা তো বাসায় নেই।”
“কোথায় গেছে?”
“বেড়াতে। তোমাকে কিছু জানায়নি? কী আশ্চর্য!”

তুহিন একটু অবাক হলো। বৃদ্ধা তার দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তুহিন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। অপমানে লাল হয়ে গেছে সে। কী করবে ঠিক বুঝতে পারছে না।

বৃদ্ধা তার অবস্থাটা আঁচ করতে পারলেন মনে হলো। জিজ্ঞেস করলেন, “কী ভাবছো? আলিফের মাকে একটা ফোন দিতে পারো।”
এ-ই বলে তিনি কোথাও চলে গেলেন।

দুঃসময়ে অপমান গায়ে মাখতে নেই। তুহিন ফোন দিল আলিফের মাকে। দু’বার বাজল, তিনবারের সময় ধরলেন। তুহিন কিছু বলার আগেই মহিলা বলা শুরু করলেন, “স্যার, কিছু মনে করবেন না। তাড়াহুড়ো করে চলে আসায় আপনাকে কিছু জানানো হয়নি। আলিফ তার এক স্যারের কাছে পড়া শুরু করেছে। আপনি তো মাত্র একদিন পড়িয়েছেন। আর আসতে হবে না।”

“ঠিক আছে” বলে তুহিন মোবাইল রেখে দিল। একটা দীর্ঘশ্বাস বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে এলো। অলক্ষে কেউ একজন ব্যাপারটা লক্ষ্য করলেন বোধহয়।

৮ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
গাজীপুর।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:৩১
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×