বিকেল সাড়ে তিনটে। হঠাৎ একটা টেলিফোন এলো। তমাল তখন আধোঘুমে। মাথাটা খুব ধরেছিল, চোখের সমস্যা তো আছেই। দুপুরে খাওয়ার পর দেয়ালে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিতে নিতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সে খেয়াল নেই।
সময় খারাপ গেলে খোঁজ-খবর নেওয়ার মতো কেউ থাকে না। এ যেন নির্মম সত্য! গত কয়েকদিন ধরেই কোনো ফোন-টোন আসছে না। অবশ্য মা ছাড়া তমালকে ফোন দেওয়ার মতো কেউ নেইও। একসময় যারা খোঁজ-খবর নিত, তাদের বেশিরভাগই কী এক অজানা কারণে দূরে সরে গেছে। তমালও কারও খোঁজ নেয় না। সে কারও খোঁজ নিলেই কী, আর না নিলেই কী! কাউকে তো দু’পয়সার উপকার করতে পারবে না। অযাচিত উপদ্রুব হতে কে চায়? সংসারে অর্থবিত্তহীনের কোনো মূল্য আছে?
কে ফোন দিতে পারে? নানান কথা ভাবতে ভাবতেই ফোনটা ধরল তমাল। “তমাল বলছেন?” সুরেলা একটা স্ত্রী কণ্ঠ জানতে চাইল।
অচেনা কণ্ঠে তমাল একটু আড়ষ্ট হলো। তারপর কণ্ঠে যথাযথ গাম্ভীর্য এনে বলল, “জি বলছি।”
“আপনি আমাদের কোম্পানিতে চাকরির জন্য একটা আবেদন করেছিলেন। আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য শর্ট লিস্টেড করা হয়েছে।”
তমাল মনে করতে পারল না সে কোন কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করেছিল। হঠাৎ খেয়াল হলো, বিডি জবসে তাকে একটা অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিল কলেজের বন্ধু পিয়াস; সে-ই কয়েক জায়গায় আবেদন করে দিয়েছে। এখানেও হয়তো সে-ই আবেদন করে দিয়েছিল।
“আগামী পরশু আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। আপনি কি সাক্ষাৎকারে আসতে ইচ্ছুক?” স্ত্রী কণ্ঠ বলল।
“চাকরিটা কি হওয়ার সম্ভাবনা আছে?” তমাল বলল।
“বুঝতে পারিনি, স্যার!”
“আচ্ছা, ঠিকানাটা টেক্সট করে দিন।”
Apparels Village Limited, 37, Khagan, Birulia, Savar, Dhaka (Beside City University), Time:9.30- সন্ধ্যে সাতটার দিকে টেক্সস্টটা এলো। বন্ধু আতাউর আর শিব্বির সাভারের দিকেই থাকে। তাদের কাছ থেকেই পথঘাট ঠিকমতো চিনে নিল তমাল। কিন্তু মুশকিল হলো, সকাল সাড়ে ন’টার মধ্যে সেখানে পৌঁছতে হবে। কীভাবে সম্ভব?
রাস্তায় জ্যাম হতে পারে। তাই আগেভাগেই রওনা হতে বলেছিল আতাউর ও শিব্বির। সকাল সাড়ে ছ’টায় রওনা দিল তমাল।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সোজা নবীনগর। নবীনগর থেকে সিএমবি। সেখান থেকে অটোতে চড়ে চারাবাগ। এর কাছেই সিটি ইউনিভার্সিটি। দারোয়ানকে জিগ্যেস করতেই সে পথ দেখিয়ে দিল। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ।
মোবাইলে সময়টা দেখে নিল তমাল। সাড়ে ন’টা বাজতে এখনও বিশ মিনিট বাকি। ভয়ের কোনো কারণই নেই। যথাসময়ে ঠিকানায় পৌঁছতে পারবে নিশ্চয়ই। গেইটে দাঁড়াতেই ‘তমাল’ বলে কেউ ডাক দিল। “এখানে আমাকে কে ডাকে?” এ-ই ভেবে পেছনে তাকাতেই মডেলকে দেখতে পেল তমাল। মডেল তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী। তাকেও সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। তাকে এখানে পেয়ে ভালো লাগল তমালের। কিছুক্ষণ সুখ-দুঃখের গল্প করা যাবে।
প্রার্থী মোটামুটি পঁচিশ-ত্রিশজন। একজনের পর আরেকজন আসছেই। আজ সারা দিনই বোধহয় পরীক্ষা চলবে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এদের আগমন। মডেল, তমাল আর মুন্নি নামের একজন একসাথে বসে আছে। মুন্নির সাথে এখানেই পরিচয়। সে একসময় গ্রামীণফোনে চাকরি করত। এখানে তাকেও ডাকা হয়েছে।
অস্বস্তি লাগছে তমালের। এই শীতেও সে রীতিমতো ঘেমে যাচ্ছে। উপস্থিত প্রায় সবাই কোথাও না কোথাও চাকরি-বাকরি করেছে, অনেকেই এখনও করছে। সকলেই মোটামুটি অভিজ্ঞ অথচ তার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। এ বাজারে অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি হয়?
নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা নেওয়া হলো, শেষে মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হলো। পরীক্ষা খুব বেশি ভালো হয়েছে বলা যায় না। অনেকদিন পড়ালেখার বাইরে থাকলে যা হয় আর কী! প্রশ্নপত্র সব নতুন মনে হলো।
বলা হয়েছিল পরে ফলাফল জানানো হবে। সপ্তাহ পেরিয়ে গেল, এখনও কোনো টেলিফোন আসেনি। তমাল অপেক্ষায় আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




