somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধূসর পৃথিবী

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কাঁটাবন থেকে মালিবাগ আসব। তরঙ্গ প্লাস বা রমজানের জন্য অপেক্ষা করছি। নীলক্ষেত গিয়েছিলাম। আসতে আসতে দেরি হয়ে গেছে। টিউশনি ধরতে হবে। তাই তাড়াহুড়ো ছিল।

বাস আসতেই ইশারায় দাঁড়াতে বললাম। দাঁড়ালও। দু’পাশ দেখে উঠতে যাব, হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম। জুতোর নিচে সম্ভবত পাথর পড়েছিল। এর মধ্যে একটা বাইক আমার শরীর ঘেঁষে দাঁড়াল। ব্রেক কষতে না পারলে হয়তো ওপর দিয়েই চলে যেত।

বাসে উঠতেই লোকজন জিগ্যেস করল, ব্যথা পেয়েছি কি না?

না, বললাম আমি।

সিটে বসে টের পেলাম হাত নাড়াতে পারছি না। বেশ চোট লেগেছে।


শমসের সাহেবের মতো আমারও চোখে বেশ সমস্যা। সবসময় ব্যথা করে। মাথাব্যথাও। ঠিকমতো কিছু দেখতে পারি না। ডাক্তার দেখাব, দেখাব করেও দেখানো হচ্ছে না। গত বছর শেষবারের মতো দেখিয়েছিলাম। অনেকদিন তো হলো। এবার চশমাটাও বদলানো দরকার।

চোখের ডাক্তার দেখালে একটু সমস্যাও আছে। এরা এমন ওষুধ দেয় যে, ১৫-১৬ ঘণ্টা ঘুমোলেও ঘুম অসম্পূর্ণ থাকে। এতক্ষণ ঘুমালে তো দীনদুনিয়া চলে না।

ডিউটি ৩টায়। ভাবছি সকালে উঠে আগারগাঁও চলে যাব। সকালে ঘুম থেকে উঠতেই পারলাম না।


মগবাজার মোড়ে হাঁটছি। একজন দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, ৫০টা টাকা দেবেন? মানিব্যাগ বাসায় রেখে এসেছি। আমি লোকটার দিকে তাকালাম। বয়স ৩০-৩৫ হবে। দেখতে সুদর্শন। জিগ্যেস করলাম, কোথায় যাবেন? ওনি জায়গার নাম বললেন।

৫০ টাকা বের করে দিতেই ওনি ধন্যবাদ দিয়ে সামনের দিকে হনহন করে হেঁটে চলে গেলেন। পেছনে একবারও তাকালেন না। মনে মনে হয়তো ভাবছিলেন, দুনিয়ায় এমন বোকা মানুষও হয়!


সরকারি একটা পরীক্ষা ছিল। সিট পড়েছিল সালনায়। স্কুলটার নাম নাসিরুদ্দিন মডেল হাইস্কুল। ১০ টাকার বিনিময়ে মোবাইল আর ব্যাগটা একটা দোকানে রেখে পরীক্ষা দিতে ঢুকলাম।

সিট খুঁজে পেতে সমস্যা হলো। পেলাম একবারে পরীক্ষা শুরুর আগে আগে। বসেছি, হঠাৎ দেখি ভার্সিটির এক ক্লাসমেট। কথা বলতে যাব, তারপর মনে হলো, থাক। সে হয়তো কথা বলবে।

পরীক্ষা শেষে দেখি সে নেই। সাড়ে ছয় বছর একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি আমরা, অথচ এখন কথা বলতেই জড়তা। দু’জনেই ভালো কিছু করতে পারিনি; এ হীনম্মন্যতা থেকেই হয়তো কথা বলা হলো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২৪ দুপুর ২:০৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×