somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেলিব্রিটিরাও খায়, ঘুমায়, বাথরুমে যায়

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চলচ্চিত্রের প্রতি তুমুল আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। তুমুল আগ্রহ ছিল নায়ক-নায়িকাদের প্রতিও। তাদের সৌন্দর্য যেমন আকর্ষণ করত, আকর্ষণ করত তাদের ব্যক্তিত্বও। জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন, সালমান শাহ, ওমর সানি, মান্নার চলচ্চিত্র মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখতাম। রাজ্জাক, আলমগীর, জসিমের চলচ্চিত্রও বাদ যেত না। নায়িকাদের মধ্যে বেশি ভালো লাগত, শাবনুর, শাবনাজের অভিনয়।

শুক্রবার ছাড়া তো সেসময় চলচ্চিত্র উপভোগের সুযোগ কম থাকত। সপ্তাহের এই একটা দিনের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম। বৃহস্পতিবার হলেই ক্ষণগণনা শুরু হতো কখন শুক্রবার হবে।

প্রতিটা বিজ্ঞাপন মুখস্থ ছিল, কোন বিজ্ঞাপনের পর কোন বিজ্ঞাপন আসবে- সেসব একদমে বলে দিতে পারতাম। একটা বিজ্ঞাপন দেখাও বাদ দিতাম না। সে সময় শুক্রবার চলচ্চিত্রের ফাঁকে ফাঁকে পনেরো-বিশ মিনিট করে বিজ্ঞাপন চলত। ক্লান্তিহীনভাবে দেখে যেতাম। মৌ-নোবেলের বিজ্ঞাপন পছন্দের শীর্ষে ছিল।

যে নায়ক-নায়িকাদের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ছিল, কৈশোর উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেসব আগ্রহ কেমনে যেন উবে গেল। একসময় বুঝতে শিখলাম নায়ক-নায়িকারাও আমাদের মতো মানুষ। তারাও খায়, তারাও ঘুমায়। এমনকি তারাও বাথরুমে যায়। রাগ হলে তারাও গালমন্দ করে।

ইদানীং অনেক নায়ক-নায়িকার কীর্তিকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। সেসব দেখে ভাবি এদের একসময় কত পছন্দ করতাম! ওমর সানির কথাই বলা যাক। একসময় তার সেসময়কার লম্বা চুলের মতো করে চুল বড়ো করতাম। এখন তার কাজকর্ম দেখে মনে হয় সে কেবলই মৌসুমীর স্বামী। তার নিজস্বতা বলে কিছু নেই।

রিয়াজ, ফেরদৌসের কাজকর্ম দেখে মনেই হয় না এরা একসময় দুই দুয়ারি, হাজার বছর ধরে, শাস্তি, হঠাৎ বৃষ্টি, খাইরুন সুন্দরী, গেরিলার মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ভাগ্যিস জাফর ইকবাল, সালমান শাহ মারা গেছেন। তারাও কি বেঁচে থাকলে এদের মতো হয়ে যেতেন? আবার নাও হতে পারতেন। ইলিয়াস কাঞ্চন, আলমগীরের মতো ওজন হয়তো ধরে রাখতে পারতেন।

বইমেলায় এসে জীবনের প্রথম অটোগ্রাফ নিয়েছিলাম কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের। আগ্রহ নিয়ে তার সঙ্গে ছবিও তুলেছিলাম। এরপর আর কখনও আগ্রহ হয়নি। বইমেলায় কখনও বিদ্যাপ্রকাশের সামনে গেলে মিলন, অপি করিম বা আরও অনেককে সেখানে দেখি। কথা বলা হয় না, ছবি তোলা হয় না।

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে একবার একা বসেছিলাম। হঠাৎ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল এসে আমার পাশে বসলেন। শূন্য জায়গাটা একসময় লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। সবাই অটোগ্রাফ নিচ্ছিল। ছবি তুলছিল। আমি চেয়ে দেখলাম। ছবি তোলা বা অটোগ্রাফ নেওয়ার কোনো আগ্রহই হয়নি আমার।

একজন ব্লগারের লেখা খুব পছন্দের ছিল। তিনি প্রায়ই আমার লেখায় মন্তব্য করতেন। হঠাৎ কোনো এক ঝামেলায় তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। একবছর খোঁজে তার মোবাইল নাম্বার জোগাড় করে কল দিলাম। দুই মিনিট কথা বলে তিনি কল রেখে দিলেন। অনেকদিন পর ঢাকায় এসে হঠাৎ মনে হলো তার সঙ্গে দেখা করি। সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। শিডিউল পাওয়া যায় না। তাও তিনি একটা শিডিউল দিলেন। পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তার সঙ্গে দেখা হলো, কথাও হলো। একসঙ্গে রাতের খাবারও খেলাম। তাও একসময় মনে হলো তার সঙ্গে দেখা না হলেই ভালো হতো।

চাঁদ দূরে থেকেই সুন্দর। মর্ত্যলোকে নেমে এলে সে তার আকর্ষণ হারায়। সেলিব্রিটি বা আমাদের কল্পনায় বাস করা মানুষেরাও তেমনই। তাদের দূর থেকে ভালোবাসাই শোভা পায়, কাছে এলে তাদের প্রতি আমাদের যে প্রত্যাশা, তা অনেকসময় পূরণ হয় না।

এ সংক্রান্ত আরও একটি পোস্ট: দূরে বাধ্য মধুর শোনায় শূন্য হাওয়ায় সঞ্চরি (হুমায়ুন-গুলকেতিন প্রসঙ্গ)

ছবিসূত্র: এই সময়

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:১৩
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ জাতিসংঘেও পাঠাতে পারবো একটা স্মারক চিঠি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২৬



হৃদয়ে আবার কাঁপন - একটা ঠিকানার কি এক তৃষ্ণায়
মনে হয় আবার এসেছে ফিরে আরেক শীতকাল;
পশ্চিম আফ্রিকার সব তাপমাত্রা নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আমি কি এক প্রাণপণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্যা উসকে দেয় সবাই, সমাধান দেয় না

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৪


২০১৭ সালে আরাকানের সশস্ত্র গোষ্ঠী (আরসা) মিয়ানমারের সেনা চৌকিতে হামলা চালানোর পর এর প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে হামলা শুরু করলো, লাখে লাখে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ার গল্প ২০২৪-১

লিখেছেন শায়মা, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১১:০৮


২২শে ডিসেম্বর ২০২৩ প্লেনে উঠেছিলাম অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে। কুয়ালালামপুর হয়ে সিডনী কিংসফোর্ড। প্লেনের টিকেট সিলেক্ট করেছিলাম জানালার ধারে কারণ একা একা যাচ্ছি একপাশেই থাকি। জানালা দিয়ে ভোরের, দুপুরের রাতের আকাশ দেখবো!... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কবিতা ও ইসলামের বহু বিবাহে সম্মতি

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:১০



একত্বে অনন্য প্রেম

অনেক নারীর দেহে আস্বাদ পাবে না
খাঁটি প্রেম অমৃতের। শুন অনন্তর
একা এক নারী মন চিত্রাভ প্রান্তর
সেথা পাবে প্রীতিময় বহু অনুভূতি।
নারীর একান্ত কাম্য সুপ্রিয়া হবে না
সে ছাড়া অপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। বিদায় পঙ্কজ উদাস

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১৩



চান্দী জ্যায়সা রঙ্গ হ্যায় তেরা
সোনে জ্যায়সে বাল
এক তূ হী ধনবান হ্যায় গোরী
বাকী সব কাঙ্গাল


৭০ দশকের শেষে পঙ্কজ উদাসের এই গান শুনতে শুনতে হাতুড়ি বাটালের মূর্ছনা এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×