somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মপরিচয়-৩

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাচীনকালে হিন্দু জনগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংঘাত শাসকের মতা লিপ্সার কারণে তৈরি করা হয়েছে। মধ্যযুগে খ্রীষ্টিয় ধমান্তরণ ও ধর্মযুদ্ধ সর্বত্র বিদিত। জেরুজালেমে রোমান শাসক ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়েছিলেন যীশুর প্রচারে। এবং তাকে ক্রুশ বিদ্ধ করা হলো। এগুলো মতা লিপ্সারই প্রতিফলন মাত্র। তারও হাজার বছর পরে আরব দেশে নব্য ইসলামকে ধ্বংস করার জন্যে অত্যন্ত হিংস্র ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সেটাও তখনকার মতাসীন গোষ্ঠীগুলোর মতাকে রা করার জন্যেই।
ষোড়শ সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতক জুড়ে যখন ইউরোপীয় উপনিবেশগুলো স্থাপিত হচ্ছিল তখনও খৃষ্টান মিশনারীদের সমূহ তৎপরতা ল্য করা যায়। তৎকালীন চার্চ মতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় ও এমনকি তাদের মূখ্য ভূমিকায় উপনিবেশগুলোতে ধর্ম প্রচার করেছিল। ধর্মকে রাষ্ট্রীয় মতায়নে ব্যবহার একেবারেই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ আদান প্রদান ব্যবসা বাণিজ্য যত বাড়তে থাকে ততই বুঝতে পারা যায় যে মানুষের ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন হলেও সব মানুষের শারীরিক, মনস্তাত্বিক ও দার্শনিক ভূমিকা একেবারেই এক। সব ধর্মেও মানুষই দু:খ পায়, বেদনার্ত হয়, আনন্দে উচ্ছ্বল হয়ে ওঠে বিষাদে বিষণœ হয়। এবং নরনারী পরষ্পরকে ভালোবাসে। মানুষের যোগাযোগের ও আদান প্রদানের উন্নত স্তরে তাই দেখা যায় বিভিন্ন ধর্মের নরনারীর মধ্যেও ভালোবাসার উদয় হয়। এবং তারা একত্রে বসবাস করতে পারে। তাহলে মানুষের যে মৌলিক অস্তিত্ব তাকি সম্পূর্ণভাবে ধর্ম ভিত্তিক? এই প্রশ্নটি মনে উদিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আধুনিককালে এসে তাই জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের বিচ্ছেদ ঘটেছে। উন্নত সমাজে তাই রাষ্ট্র ধর্ম নিরপে হয়েছে। একই রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মের জনগোষ্ঠী স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে। যেখানে তা পারে না সেখানেই মানবতা লাঞ্ছিত হয়।
এই উপমহাদেশের সা¤প্রতিক ইতিহাসে যখন থেকে রাজনৈতিকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে তখন থেকেই মানবতা লাঞ্ছিত হয়ে চলেছে। এর বড় উদাহরণ ১৯৪৭ সালের ঘটনা। ধর্মান্ধতা দুই প্রধান জনগোষ্ঠীকে তখন এমনভাবে মোহগ্রস্ত করেছিল যে ১৯৪৭ সালের মধ্য আগস্টের পরবর্তী সময়ে সমস্ত উপমহাদেশ জুড়েই রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল এবং বহি:প্রকাশ ঘটেছিল মানুষের চরমতম নৃশংসতার ও নিকৃষ্টতম চরিত্রের। সাতচল্লিশের ঐ ঘটনার অব্যবহিত পরে, প্রকৃতপে সঙ্গে সঙ্গে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রধান পুরুষ মোহম্মদ আলী জিন্নাহ রাষ্ট্রটি যে সকলের সকল ধর্মাবলম্বীর সেকথা বললেও তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি। মানুষের পশু শক্তিকে নিগড় থেকে ছেড়ে দিলে তাকে আবার প্রশমিত করা সহজে সম্ভব হয় না। ভারতবর্ষের খণ্ডিত পাকিস্তান ও ভারত দুই রাষ্ট্রেই পরবর্তীকালের ধর্মান্ধতা ও তার কারণে রক্তপাত বার বার সংঘটিত হয়েছে। দূর্ভাগ্যবশত এই সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের মূল যে প্রকৃতপে ধর্ম নয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তা চলে গেছে দৃষ্টির আড়ালে। আমাদের বাংলাদেশে যে জনগোষ্ঠীর বসবাস তার অতীত ও বর্তমান সামান্য পর্যবেণ করলে দেখা যাবে যে, ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান দারিদ্র্য বৈষম্য ও ক্ষমতালোভীদের ধর্মকে ব্যবহারের অপচেষ্টার সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×