somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তানী

২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিসেম্বর ২০১৩ সালে আমার প্রবাস কর্মক্ষেত্রে যোগদান করে দেখি ১৬ জনেরর ভেতর তিনজন পাকিস্তানি! আমি কিঞ্চিত মনঃক্ষুণ্ণ হলাম।সাথে সামান্য বিরক্ত।আমি যুদ্ধ দেখিনি। আমি পাকিস্তানি শাসন দেখিনি,তবে ইতিহাস পড়ে যা জেনেছি তাতে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই।

আমি তাদের এড়িয়েই চলি।প্রয়োজন ছারা কথা বলি না।ওরা উর্দু ভাষা ব্যবহার করে।কিছু বাংলাদেশি হিন্দিতে কথা বল্লেও আমি দু-একটি কথা ইংরেজিতেই বলি।তিন জনের একজন ছিল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাকি দুই জন কর্মচারী।

তার মধ্যে একজন এর নাম ছিল রাশেদ।রাশেদ মাঝেমধ্যে আমাকে সালাম দিত।আমি ওলাইকুম বলে সরে যেতাম।যারা এত বড় গনহত্যা,নির্যাতন, ধর্ষন এর জন্য একবার সরি পর্যন্ত বলে নাই,তাদের সাথে কেমনে কি? এজন্যই দূরে দূরে থাকা।

আমরা সবাই ভিনদেশি খাবার খাই।কুক বিদেশী।কয়েকজন আলাদা রান্না করে খায়।তাদের মধ্যে পাকিস্তানীরাও আছে।আমার কষ্ট হলেও খাই।এত কাজের পর আর রান্না করতে ইচ্ছে করে না।আর ওদের সাথে একজোট হয়ে খাবার ইচ্ছা আগ্রহ কোনটাই আমার নাই।

একদিন রাশেদ আমাকে উর্দুতে বল্ল" জনাব আপনার খেতে খুব কষ্ট হচ্ছে,আমি আজ আপনার জন্য কিছু তরকারি রেখেছি,আপনি খাওয়ার সময় ফ্রিজ থেকে নিয়ে একটু গরম করে খেয়ে নেবেন"। আমি একটু বিরক্ত হলাম।আমি একটু রেগে আমার জন্য এগুলো রাখতে নিষেধ করলাম আর বল্লাম আমার খেতে কোন অসুবিধা হয় না।আমার জন্য চিন্তা করতে হবে না।

একদিন প্রায় বাধ্য হয়েই আমার রাশেদ এর রান্না খেতে হল।অসাধারন রান্না করত রাশেদ।আমি রাশেদ এর সঙ্গে দু-একটি কথা বলা শুরু করলাম এটা ভেবে যে সবাইতো আর খারাপ না,একটু মিশে দেখি তাহলে ওদের আমাদের সম্পর্কে ধারনাটা জানা যাবে।এদিকে সেই পাকিস্তানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে আমার প্রথমে মতবিরোধ থেকে রেষারেষি শুরু হয়েছে।

আপরদিকে রাশেদ আমার মন জয় করে নিয়েছে।এত সহজ সরল অসাধারন ব্যাবহার। একদিন আমি ফাজলামো করে বলেই ফেল্লাম"তুমি আসলেই পাকওস্তানি তো?" রাশেদ আমার কথা শুনে মৃদু হাসল।এবং আমার কথাটা ধরতে পারল।বল্ল" আমাদের দেশের লোক আপনাদের অনেক অত্যাচার করেছে।আমরা অল্প অল্প শুনেছি।বিস্তারিত জানি না।আমি রাশেদকে বিস্তারিত জানালাম,নেট থেকে ছবি ভিডিও নামিয়ে দেখালাম।রাশেদের মুখ অন্ধকার হয়ে গেল।আমাকে খুব করে সরি বল্ল।রাশেদ জানালো সব পাকিস্তানি খারাপ না,পাঞ্জাব অঞ্চলের লোকজন খুবই খারাপ।এবং বাংলাদেশে সে সময় বেশিরভাগ পাকিস্তানি সৈনিক অফিসার ছিলো পাঞ্জাব এর।আমি তথ্যটি যাচাই করে দেখি নাই।কারন ছিল দুইটি।রাশেদ এর সাথে আমি প্রায় দুবছর কাজ করেছি আমি ওকে কোনদিন মিথ্যা কথা বলতে দেখিনাই।দুই.সে একজন কর্মচারী।

এর মধ্যে সেই পাকিস্তানি কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক খারাপের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছল।সে রাশেদ কে ডেকে আমার জন্য খাবার বানাতে বা দিতে নিষেধ করে দিল।

এর পর ঘটল অবিশ্বাস্য ঘটনা।রাশেদ আমার জন্য চুরি করে খাবার বানাতে লাগল এবং চুরি করে সরবরাহ করতে লাগল!
আমি রাশেক কে ডেকে বল্লাম দেখ,এগুলো বাদ দাও আমার জবের কন্ডিশন ভাল না।যে কোন সময় দেশে চলে যেতে পারি।তোমাকে পরে ওদের সাথে কাজ করতে হবে।তুমি ওদের সাথে মিল দিয়ে চলো।কে শোনে কার কথা।

এর কিছুদিন পরই হটাৎ শর্ট নোটিসে আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

রাশেদের কথা বলতে গেলে আজ সারা রাতেও শেষ হবে না।আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক এখনও আছে।কিছুদিন অাগে বিয়ে করেছে।আমি বাংলাদেশ থেকে শুভকামনা জানিয়েছি।

যদি রাশেদ এর মত মানুষ দিয়ে পৃথিবী টা ভরা থাকত।তাহলে হয়ত একাত্তর দেখতে হত না।আফসোস রাশেদরা সংখ্যায় খুবই কম.........

ধন্যবাদ

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৩:২৩
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×