বাংলাদেশের রাজনীতি আমি বুঝি না।আমার মনে হয় না পৃথিবীর আর কোন দেশ জন্মের পর থেকে আমাদের বাংলাদেশের মত এমন বিশৃঙ্খল রাজনীতির শিকার হয়েছে।
৭১' পরে বাংলার সমগ্র মানুষ কবে এক হয়েছিল? সরি, আমার ভূল হয়েছে একাত্তরেও আমরা এক হতে পারি নাই।একটা বড় অংশই বাংলাদেশ গঠনের বিরোধিতা করেছে।এবং তারা এবং তাদের অনুসারীররা একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়েই জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে বলে আমার মনে হয়।তবুও বলতে হয় বাংলায় সর্বোচ্চ মানুষের সাপোর্ট সেই একাত্তরই।
বঙ্গবন্ধু চার বছর দেশ চালানোর পর তাকে হত্যা করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা কেড়ে নেয়।রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে ক্ষমতা নিজের হাতে নেওয়া নিকৃষ্ট কাজ সন্দেহ নেই।
কিছুদিন পর দেখা গেল বাংলার মানুষ অতীত ভূলে গিয়ে হত্যার মাধ্যমে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল কারিদের সমর্থন দিচ্ছে!
আবারো কয়েক বছরের বিরতি।এবং ইতিহাস ফিরে এলো।এবার আরেক নারকীয় হত্যার মাধ্যমে আরেক নায়কের ক্ষমতা দখল।আবারো বাংলার মানুষ ইতিহাস ভূলে নতুন নায়ককে সমর্থন দিল।
পরে এই জনসাধারনই সামরিক শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে ঐক্যজোট হয়ে আন্দোলনে রাজপথে নামলো।বস্তুত ঐক্যজোট দেখালেও আসলে ঐক্যজোট নয়,কারন তখন অলরেডি পল্লীকবির (পড়ুন পল্লীবন্ধু) জন সমর্থন কম না!
জনগন অনেক দিন পর একটি নির্বাচিত সরকার পেয়ে যেন হাফ ছাড়ল।সেই শান্তির হাফ দীর্ঘশ্বাসে পরিনত হতে সময় নেয়নি।জনগন যখন আরএকটি ল্যাব টেস্টে অন্যজনকে ক্ষমতায় এনে যাচাই করার চিন্তায় মগ্ন,ঠিক সে সময় নীল নকশার নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনসাধারনের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিল।
ক্ষনস্হায়ী সেই সরকারের পর জনগনের বহু আশা আকাঙ্খায় নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে দেশ পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখালেন।বস্তুত সাধারন জনগন সাধারনই রয়ে গেল।
আবার পালাবদল।নতুন সরকার পূর্বেকার দেশবিরোধীদের সাথে ঐক্যজোটে ক্ষমতায় এলেন! এসেই বিরোধী দল দমন পীড়ন আর সেই তথাকথিত সম্প্রদায় একাত্তরের না হওয়া কাজ শেষে মনযোগী হয়ে সেই সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস চরমে তুলে অনেক নাটকীয়তায় ক্ষমতা ছাড়ল।যার ফল ফখরু-মইন।এবং পূর্বের জোট সরকার সব কিছু কড়ায় গন্ডায় মিটয়ে দিল সেই দু-বছর সামরিক শাসনের সময়ই এবং যা কিছু বাকি ছিল বাকিটা দিল নির্বাচনে গো হারা হেরে!
আবারও আওয়ামী সরকার।এবার বিপুল ভোটে জিতে।চাপও বেশি।ঐ একই কাজ।একই মুদ্রা।শুধু উল্টা পিঠ।
সরকার পরিবর্তন হয়।বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না।দেশ দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।দেশের মধ্যবিত্ত গরীব হতে থাকে।আমাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে।পাল্লা দিয়ে জিনিস পত্রের দাম বাড়ে।দেশের মানুষের ভাগ্য বদলায় না কেন??
বার বার শুধু আমরা ভোট দিয়ে কি গুটি কয় রাজনৈতিক নেতা কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, অসৎ ব্যাবসায়ী দের ভাগ্য পরিবর্তন করব???
আমরা ভোট দিয়ে কি অনাহার অর্ধাহারে থাকা সেই সব বিরোধী দলের নেতাকর্মীর ভাগ্য বদলাতে শরিক হব।আসলে যারা কিছুই করে না শুধু দল ক্ষমতায় আসলে টেন্ডার বাজি চাঁদাবাজি করে।
তাহলে দেশে ভোটের দরকার কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

