
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে
মানবের মাঝে বাঁচিবার সাধ হয়.....
কবিগুরুর এই কবিতার মত বলতে ইচ্ছে করে
নির্যাতন চাইনা এই সুন্দর ভূবনে! আমি সব সহ্য করতে পারি মানুষ পশু পাখি নির্যাতন সহ্য করতে পারিনা।মানুষ কিভাবে নির্যাতন করতে পারে??
না চাইতেও বেশ কিছু ভিডিও আমার দেখতে হয়েছে ফেসবুকে।ছেলের সামনে মাকে লাঠি দিয়ে পেটানও,প্রেমের অপরাধে স্কুলে পড়া বালক বালিকা প্রহার স্কুলের ড্রেস পড়া অবস্হায়,গ্রামের মাতব্বর কতৃক মধ্য বয়সী মহিলাকে প্রহার,প্রেমিক কতৃক প্রেমিকা প্রহার ইত্যাদি ইত্যাদি।
নিজের চোখের সামনে একবার চিটাগং এ দেখেছিলাম।চব্বিশ পচিশ বছরের একটি ছেলের সাথে উনিশ বিশ বছরের একটি মেয়ে।কোলে একটি বাচ্চাও আছে এক দেড় বছরের।রিকশায় করে ঝগড়া করতে করতে যাচ্ছে।মেয়েটির ডান চোখের পাশে কেটে রক্ত বের হচ্ছে।হটাৎ মেয়েটি আমার সামনে রিক্সা থেকে নেমে মাটিতে বসে পড়ল।কোলের বাচ্চাটিকেও মাটিতে বসিয়ে দিল।ছেলেটি বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে বউকে অনেক টানা টানি করে যখন রিক্সায় তুলতে পাড়ল না,তখন হাতের আঙ্গুল দিয়ে চোখের পাশে কাটা যায়গায় ঘসতে থাকল! আমি চিল্লিয়ে উঠলাম।আমাকে বাজে ভাষায় গালাগাল দিল।
একটি মেয়ে শারিরিক দিক থেকে পুরুষের চেয়ে কিছুটা দূর্বল হয়ে থাকে।সবাইকে লাঠিদিয়ে পিটিয়ে শাস্তি দিতে হবে কেন?শাস্তি দেওয়ার তো আরো অনেক মাধ্যম আছে।আর একটি মেয়ে কিইবা এমন অপরাধ করতে পারে যার জন্য লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শাস্তি দিতে হবে?
চুরি করতে পারে? ডাকাতি করতে পারে? ছিনতাই করতে পারে? কাউকে খুন করতে পারে?অন্য কাউকে পেটাতে পারে? কারো নামে খারাপ কথা বলতে পারে? কিছু ব্যাতিক্রম ছারা নারীরা এগুলো থেকে দূরে থাকে।পরকীয়া করতে পারে,অন্যকারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারে,প্রেমের সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে পারে,অথবা প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করতে পারে,সংসারে বেশিবেশি অভিযোগ দিতে পারে।
পরকীয়া, অন্যকারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক যেটা অনেক পুরুষ প্রায় সব সময় করে থাকে,কিন্তু নারীর বেলায় সেটা ট্যাবু হয়।শারীরিক নির্যাতন থেকে শুরু হয়ে সম্পর্কচ্ছেদে শেষ হয়।পুরুষের বেলাতেও তাই ওই নারীর উপর নির্যানত শেষে সম্পর্কচ্ছেদ।
বেশিরভাগ নারী বিয়ে করে পরিবারের ইচ্ছায়।তার পরও চলে নির্যাতন।আবার যারা সম্পর্ক করে বিয়ে করে তার উপরও চলে মেন্টালি ফিজিক্যালি নির্যাতন।পারিবারিক ভাবে বিবাহিত মেয়েরা বাবা মা আত্বিয় স্বজন কে পাশে পেলেও নিজের পছন্দে বিয়ে করা মেয়েরা কাউকেই পাশে পায় না।
আর যৌতুকের জন্যতো নির্যাতন খুন ঘটছে অহরহ।
একটা মেয়ে কি এমন অপরাধ করতে পারে যার জন্য হাত পা বেধে মাটিতে ফেলে পেটাতে হবে? হাত পা খোলা রেখে পেটালে কি মেয়েটা রাগান্বিত হয়ে একাই পুরো গ্রামবাসীকে সায়েস্তা করে ফেলার ক্ষমতা রাখে? নাকি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে?
যতই সরকারী আইন কানুন থাকুক,কবে আমাদের মাঝে মানবতা হবে?কবে আমরা মানুষকে সন্মান করতে শিখব? কবে আমরা মানুষের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হব?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



