somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিলোত্তমার খোজে...........

১২ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুন্দরের উপমা দিতে গিয়ে বাংলা ভাষায় যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়, সেটি নি:সন্দেহে 'তিলোত্তমা'।
তবে তিলোত্তমা কি সব সময়েই আসলেই সত্যিকরের রূপসী ছিলেন?
সাহিত্যিক উপাদান কিন্তু সেকথা বলে না!
পদ্মপূরাণ অনুসারে তিলোত্তমার আসল নাম ছিল কুবজা। বিধবা কুবজা দেখতে খুবই কুৎসিত ছিলেন। সুন্দর হবার জন্য কুবজা আট বছর কঠোর তপস্যা এবং মাঘ পুজা করেণ। এর ফলে তিনি পরে সুন্দরী তিলোত্তমা রূপে জন্ম গ্রহণ করেন।


তিলোত্তমার পরবর্তী জীবনের কথা জানা যায় ব্রক্ষ্ম বৈর্বত পূরাণ থেকে।
অনেক অনেক কাল আগের দৈত্যরাজ নিকুম্ভের দুই ছেলে ছিল, তাদের নাম সুন্দ আর উপসুন্দ। ও আচ্ছা, এই দৈত্য কিন্তু বড় বড় দাঁত লম্বা লম্বা হাত পা'ওয়ালা ভুত 'দৈত্য' নয়। কশ্যপ আর দক্ষরাজ কন্যা দিতির গর্ভজাত বংশধররাই দৈত্য নামে পরিচিত। দেবতাদের সাথে এদের বিরোধ ও যুদ্ধ চিরন্তন, এদের প্রধান কাজই ছিল দেবতাদের যঙ্গ আর পুজা নষ্ট করা।
যাক সে কথা, এই সুন্দ আর উপসুন্দ ত্রিলোক (পৃথিবী, স্বর্গ আর পাতাল) বিজয়ের জন্য অমরত্ব চেয়ে বিন্ধ্য পর্বতে গিয়ে ব্রক্ষ্মার কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তাদের তপস্যায় ব্রক্ষ্মার কিছুটা মন গললেও তিনি তাদের পুরো অমরত্ব দিতে রাজি হননি। তবে তিনি এই বর দেন যে, স্হাবর জঙ্গম কোন প্রাণিই তাদের মারতে পারবে না। আর যদিওবা কখনো তাদের মৃত্যু হয় তবে তা শুধু পরস্পরের হাতেই হবে।
এই বর পেয়েতো সুন্দ উপসুন্দের পোয়াবারো, তারা বিপুল উৎসাহে দেবতা, যক্ষ, মানুষদের উপর অত্যাচার শুরু করে দেয়।
তখন সবাই প্রাণ রক্ষার জন্য ব্রক্ষ্মার কাছে এর একটা সমাধান প্রার্থনা করেন। ব্রক্ষ্মা তখন এদের মারার জন্য বিশ্বকর্মাকে এক পরমাসুন্দরী নারী সৃষ্টি করতে বলেন।
বিশ্বকর্মা ত্রিভুবনের সব ভাল জিনিস তিলে তিলে সংগ্রহ করে অতুলনীয় নারী সৃষ্টি করেন। তিলে তিলে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল এই জন্য ব্রক্ষ্মা তার নাম রাখেন তিলোত্তমা।
এখানে একটা কথা না বললেই নয়, পৌরণিক সাহিত্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সব সময় কঠিন শত্রু দমনে জন্য দেবতারা নারী শক্তির আশ্রয় নিয়েছে, যেমন মহিষাসুর দমনের জন্য দূর্গা।



সৃষ্টির পরে তিলোত্তমা দেবতাদের চারপাশে ঘুরতে শুরু করেন। তার রূপে দেবতার মোহবিষ্ট হয়ে পরে।
ঘুরতে ঘুরতে তিলোত্তমা যেদিকেই যান, তাকে দেখবার জন্য সেদিক থেকেই ব্রক্ষার একটা করে মুখ তৈরি হয়। এভাবে তিলোত্তমার অতুলনীয় রূপ দেখার জন্য ব্রক্ষ্মার চারদিকে চারটি মুখ আর ইন্দ্রের সহস্র চোখের সৃষ্টি হয়, যার করণে তার নামই হয়ে যায় সহস্র লোচন। শিব তাকে দেখে নড়াচড়া করতে ভুলে যায় বলে তার নাম হয় স্থানু।




তিলোত্তমাকে দেখে ব্রক্ষ্মা আর শিবের ভ্যাবাচেকা অবস্থা.....

দেখা যাচ্ছে দেবতারও মানবিক গুনাবলীর উর্ধ্বে ছিলেন না, নারীর রূপ এদেরকেও টলাতো :P
এরপর দেবতারা সুন্দ আর উপসুন্দকে প্রলুব্ধ করার জন্য তিলোত্তমাকে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেন।
তিলোত্তমা তাদের সামনে গিয়ে এমন নাচ শুরু করেন যে,তার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে পাবার জন্যে দুই ভাই পরস্পরের সাথে যুদ্ধ আরম্ভ করে। মারামারি করতে করতে এক সময়ে একে অন্যকে মেরে ফেলে। দেবতাদের ছলনা আর কুচক্রের কারণে এভাবেই সমাপ্তি ঘটে সুন্দ উপসুন্দ কাহিনীর।



এর কিছুকাল পরে তিলোত্তমা দৈত্য রাজা বলির (ইনি প্রহলাদের নাতি)পুত্র সাহসিকের সাথে খেলায় মত্ত হয়ে ঋষি দুর্বাসার ধ্যান ভঙ্গ করে ফেলেন।


তখন দুর্বাসা তার স্বভাব মতোন রেগে গিয়ে সাহসিকে গাধা বানিয়ে ফেলেন আর তিলোত্তমাকে অভিশাপ দেয় যে তার এরপরে মানুষ জন্ম হবে (এখানেও পক্ষপাতিত্ব)। এই শাপের কারণে তিলোত্তমা পরের জন্মে বাণের কণ্যা উষা রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

সেটা আবার এক অন্য ইতিহাস............

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:১৪
৬৫টি মন্তব্য ৬৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×