somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন এমন হয়

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৫ ভোর ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজেকে নিয়ে কখনও গল্প লিখিব তা আমি চিন্তা অ করিনি। যাই হক আজ আমি আমার গল্পটা সবাইকে বলতে চাই। আমি লাজুক প্রকৃতির একটি ছেলে। আমি মেয়েদের সাথে কখন কথা বলতাম না। আমি সব সময় পড়াশুনা নিয়ে থাকতাম। আমার জগত ছিল খুব অল্প। আমি ছোটবেলা থেকে মেয়েদের এড়িয়ে চলতাম। আমি সবসময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে এবং নিজেকে নিয়ে থাকতাম। আমার বন্ধুদের প্রেমিকা ছিল কিন্তু আমার ছিল না তাতে আমার তেমন খারাপ লাগতো না মাঝে মাঝে খারাপ লাগতো ভাবতাম আমি মনে হয় দেখতে ভাল না তাই আমার প্রেমিকা নাই। তবে আমি আমার চাহেরা নিয়ে গর্ব করি আল্লাহ রহমতে আমি দেখতে খারাপ ছিলাম না। তার পর অ আমি কখন কোন মেয়ে কে প্রেমের প্রস্তাব দিতাম না। আমি এটা নিয়ে কোন চিন্তাই করতাম না। আমি পড়াশুনা নিয়ে থাকতাম। আমার নাম সাব্বির। আমি ভালবাসা কি জিনিস টা জানতাম না। কখন কাউকে ভালবাসবো টা আমি কখন চিন্তা করিনি। মেয়েদের থেকে সব সময় আমি দূরে থাকতাম। আমার চিন্তা ভাবনা ছিল শুধু পড়াশুনা। SSC পাস করে আমি কলেজ এ ভর্তি হই। আমার তখন ও কোন মেয়ে বন্ধু ছিল না। HSC পাস করার পর আমি ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হই। ঠিক তখন আমার এক বোন এর মাধ্যমে একটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। মেয়েটির নাম Taiyabha। মেয়েটা Khulna Collagiate Girls স্কুল এ পড়তো। Taiyabha আমার সাথে কথা বলতো ফোন এ। আমি তখনো চিন্তা করিনি কেউকে ভালবাসবো। আমি Taiyabha আর সাথে বন্ধু হিসেবে কথা বলতাম। একদিন মেয়েটা বলে ওকে একটা ছেলে অকে বিরক্ত করে। ওর যদি বয়ফ্রেন্ড থাকতো তাহলে কেউ অকে বিরক্ত করতো না। তাই আমাকে বল্লঃ তুমি যদি আমাকে ভালবাসতটা তাহলে আমাকে কেউ বিরক্ত করবে না। আমি বললাম চিন্তা করে দেখি। তারপর আমাদের কথা হত। ধীরে ধীরে আমি অকে ভালবেসে ফেলি। Taiyabha ও আমাকে ভালবেসে ফেলে। আমি Taiyabha কে বলতাম তুমি আমাকে ছেরে কখন চলে যাবা নাতো। Taiyabha ওর বাবার কসম করে বলত কখন যাবে না। ২০১৩ সালের ৩ মে আমাদের প্রথম দেখা হয় ঢাকা তে। পরে ২ মাস পর আমি ওর সাথে দেখা করতে খুলনা তে যাই। আমাদের অনেক রোমান্টিক মুহূর্ত অতিবাহিত হয়। আমাদের শারীরিক ভাবেও অনেক কিছু হয়। আমি অকে প্রতিজ্ঞা করি অকে আমি বিয়া করবো। Taiyabha র কোন ফোন ছিল না। আমি ওকে একটা ফোন কিনে দেই। সেই ফোন দিয়ে আমরা অনেক কথা বলতাম। একদিন ওর ভাই এর কাছে ফোন ধরা খায়। তার পর আমদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ও কিছু দিন পর পর যোগাযোগ করতো। আমি নিচিন্ত ছিলাম ও কখন আমাকে ছেরে যাবে না। কিন্তু ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ও কেমন জানি বদলে জেতে থাকে। আমার সাথে প্রায় যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আমি খুলনাতে আমার এক বোন ছিল তার মাধ্যমে ওর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। আমার সেই বোন ওকে একদিন রাস্তায় সেই ছেলের সাথে ঘুরতে দেখে এবং ওকে হাতে নাতে ধরে আমাকে ফোন দেয়। আমি ওকে জিজ্ঞাস করিঃ তুমি আমাকে ভালবাস না?
Taiyabha বলেঃ না। কারন আমার পরিবার সব জেনে গেছে।
সাব্বিরঃ তুমি তাহলে ঐ ছেলে কে ভালবাস।
Taiyabha বলেঃ জানি না।
এর পর আমার আর কথা হয়নি। আমি ওর আম্মু কে বিষয় টা খুলে বলি। তারপর প্রায় ৪ দিন পর আমাকে ফোন দেয় এবং আমাকে বলে আমার বোন ওর নামে মিথ্যা বলছে এবং বলে ঐ দিন ঐ কথা বলার জন্য ও দুঃখিত। আমি তখন ও ওর কথা বিশ্বাস করি। আবার ওকে মন দিয়ে ভালবাসতে থাকি। এর পর প্রতিদিন আমার সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। ১ মাস পর আমার সাথে আবার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি ওকে ফোন দেই আর ফোন টা ও ধরে।
তখন আমাকে বলেঃ আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
আমি বল্লামঃ তুমি ত আমাকে ছারা কাউকে বিয়ে করবে না।
Taiyabha বলেঃ কি করবো বল। আমার মন অনেক খারাপ।
আমি ঐ দিন অনেক কাঁদলাম। এর পর আমি অনেক দিন যোগাযোগ করলাম না। পরে আমার বোন এর মাধ্যমে এবং ওর বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারলাম Taiyabha র কোন বিয়ে ঠিক হয় নি ও আমার সাথে নাটক করছে যাতে আমি ওর থেকে দূরে সরে যাই এবং ও ঐ ছেলের সাথে প্রেম করতে পারে। আমি এসব শুনে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। পা বাড়াই নেশার জগতে। আমি নেশার মধ্যে ডুবে থাকতাম শুধু ওকে ভুলে থাকার জন্য। আমার বন্ধুরা আমাকে অনেক বুজানোর পর আমি স্বাভাবিক জিবনে ফিরে আসি আজ ১ মাস হল আমি সুস্থ এবং আমি Taiyabha কে আজও ভালবাসি। জানি না কেন ও আমাকে ছেরে চলে গিয়েছে। তবে আমি নেশা ছেরে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি যে আমি আগের থেকে আর ভাল হব যাতে ও দূর থেকে দেখে আমার জন্য আফসোস করে। আজ হয়তবা আমারা মাঝে কোন কোন কষ্ট নাই তাই আমার মন বলে উঠে তুই হারিয়ে যাওয়ার পর আমি অনেক কেঁদেছিলাম আমি আমার সেই কান্নার মূহূর্তগুলো ফেরত চাই আমি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলাম আমাকে একটা কল করে খবর পর্যন্ত নিস নাই তোর এই অবহেলায় আমি যেই কষ্ট পেয়েছি সেই কষ্ট তুই আজকে আমাকে ফেরত দে তোর এই প্রতারনায় আমি যেই কষ্ট পেয়েছি সেই কষ্ট তুই আজকে আমাকে ফেরত দে ? আমি যে তোর কত আপন এটা তোর আম্মুকে বোঝাতে পারিস না তুই অবশ্য কোনোদিন সেই চেষ্টাও করিস নাই আমার চেয়ে তোর কাছে প্রথা অনেক বড়ো আমার চেয়ে তোর কাছে ঐ বিরক্ত করা ছেলে অনেক বড় যাকে তুই এখন ভালবাসস । আমার সাথে তুই কেন প্রতরনা করেছিস টা আমি জানি না।
আজ থেকে তুই আমার কাছে মৃত আমি আজকে আমার সমস্ত অনুভূতি ফিরিয়ে নিলাম। শেষ আমি ওর সম্পর্কে যেটা জানতে পারি ও এখন ঐ ছেলে কে অনেক ভালবাসে আর আমার নামে সবার কাছে মিথ্যা কথা বলে। ও আমাকে কোন কারনে ছেরে চলে গেছে টা আমি আজো জানি না। তবে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি ওর প্রতারিত ভালবাসার জন্য। আমি Taiyabha কে ঐ ছেলের থেকে ফিরে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কারন ঐ ছেলে ওর সাথে মিথ্যা প্রেম করে কিন্তু আমি পারিনি আমি পরাজিত। তবে আমি এখন ওকে ভালবাসি এখন ওর চলে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারি না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×