somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সেলিব্রেটির আত্মকথন

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগার! ব্লগার! ব্লগার!
প্রথম যখন শব্দটা শুনি তখন বোধহয় ক্লাস এইট বা নাইনে পড়ি। এরপর বাংলাদেশে এই ব্লগার শব্দটা প্রচুর জল ঘোলা করেছে। থেকেছে আলোচনায়-সমালোচনায়। প্রথমে আমি জানতাম, ব্লগে মানুষ লেখালেখি করে। শিল্প, সাহিত্যের বিভিন্ন দিকের চর্চা করে। পরে ২০১২-১৩'র দিকে জেনেছি ব্লগে নাস্তিকতা প্রচার হয়। এরা ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে। ধর্মীয় অনুভুতির ক্ষেত্রে যেহেতু আমি আরো আগে থেকেই অসাড়, তাই ব্লগ-বিদ্বেষ আমার কাছে পাত্তা পায়নি। ব্লগ দেখতে কেমন, খাওয়া যায় কিনা, গন্ধ আছে কি না, গায়ে মাখলে আরাম লাগবে কি না, এইসব কৌতুহল থেকে ব্লগে ঢুকি ঢুকি করি তখন থেকেই। কিন্তু আইলসামি আর হাবিজাবি কাজ এর কারণে ব্লগ জিনিসটা চেখে দেখি দেখি করেও চাখা হয় নাই এতোদিন। এরপর দুমদাম যখন ব্লগার মারা শুরু হইলো, তখন কিছুদিন ফেসবুকে ঢুকতেও ভয় লাগতো। ব্লগ চেখে দেখা তো দূরের কথা। ব্লগ মানেই মৃত্যুকূপ মনে হইতো। ঢুকলেই ডাইরেক্ট জবাই। কি দরকার সাধের জীবন অকালে হারানোর!
জীবনের থেকে কোন মতাদর্শকে আমি বড় করে দেখি না। আমি মরে যাওয়ার পর কে আমার জন্যে কি করলো তা দিয়ে আমার কি! আমি বাঁচতে চাই। জীবনের সব রস নিংড়ে, দুনিয়াডারে ছিবড়া করে, সেই ছিবড়ার মধ্যে ভবিষ্যত প্রজন্ম মহান কোন আর্টপিস খুঁজে পাবে সেই আশায় চোখ বুজতে চাই। আমার ভবিষ্যত প্রজন্ম না থাকলে বা আমার ফেলে যাওয়া বর্জ্য আর্টের মর্যাদা না পাইলেও আমার আফসোস নাই। আশা করার সময় যে লোক সেই আশা সত্যি হবে বইলা মনে করে, সে নিজেরে বাস্তববাদী, চালাক, জ্ঞানী যা ভাবার ভাবতে থাকুক, আমি তারে ভাববো বোকার হদ্দ। আশা হবে আকাশ-কুসুম। তবেই না আশা। আমার এক স্যার আমারে কইছিলেন, স্বপ্নে যখন খাবা, তখন ব্যালচা দিয়া খাবা, চামচের মত ছোটমোট জিনিসে খাবা কি জন্যে?
আমি খালি কথার খেই হারায়া ফালাই। এই যে দেখেন, কইতে বসছি কি? আর কইতেছি কি! মাফ করবেন, আজাইরা দর্শন ছাড়লাম।
প্রায় ৫-৬ বছর ধরে ব্লগের ব্যাপারে কৌতুহল আমার। কত জল্পনা, কত কল্পনা, সব কিছু অবসান ঘটিয়ে আজ আমি ব্লগে ঢুকলাম। আমার ব্লগের বয়স শেষ যখন দেখেছি, তখন ১৩ মিনিট মতো। ব্লগে ঢুকে এখন আমার মনে হচ্ছে, আমার চারিদিকে ঢোল তবলা বাজতেছে। সব মানুষ আমার নাম ধরে চিল্লাইতেছে, আর্তনাদ করতেছে। আমার চেহারা দেখার জন্য, আমারে একবার ছুঁয়ে দেখার জন্যে, আমার মুখের কথা শোনার জন্যে চারিদিকে হৈ চৈ পইড়া গেছে। ব্লগে আইডি খুলে আমার নিজেরে সেলিব্রেটি মনে হচ্ছে।
আপনার কি মনে হচ্ছে আমি মজা নিতেছি? আমি মোটেই মজা নিতেছি না। আর আপনাদের আমার কথা কেন কৌতুক মনে হবে সেটাই বুঝতে পারছি না। ব্লগের রক্তাক্ত, গৌরবময় সাহসিকতার ইতিহাস কি আপনাদেরকে রোমান্টিক নস্টালজিয়ার অনুভূতি দেয় না? আমারে তো দেয়। এবং আমার ধারণা প্রত্যেক বাংলাদেশি মানুষ ই এই অতীত নস্টালজিয়ার উপরে বেঁচে আছে। শুধু বাংলাদেশি মানুষ বলা ভুল, সব মানুষ ই এইডা অনুভব করে। আপনার কি কখনো মুক্তিযুদ্ধের বই পইড়া, জাদুঘরের হাবিজাবি জিনিস দেইখা গর্ব হয় নাই? আচ্ছা জাদুঘর বাদ দেন। পিরামিড দেখলে অবাক লাগে না? এখন ভাবেন, কোন মতে যদি ওই পিরামিডের সাথে আপনার একটা সম্পর্ক তৈরি করে দেওয়া যায়, ধরেন এই মুহুর্তে প্রমাণ হইলো আপনি ফারাও বংশের মানুষ, আপনার প্র প্র প্র নানার কবর হইতেছে পিরামিড, আপনি তাইলে রাতারাতি সেলিব্রেটি হবেন কি না? তখন কি গর্বে আপনার বুক ফুইলা উঠবে না?
এখন দেখেন, পিরামিড এ আপনার বিন্দুমাত্র শ্রম ব্যয় হয় নাই, কিন্তু আপনি সেলিব্রেটি হয়ে গেলেন। ঠিক তেমনি ব্লগ জিনিসটাতে আমার অবদান শুণ্যের কোঠায় থাকলেও, আমি আজকে এখন থেকে ব্লগার। কাজেই রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়ার অনুভূতি আমার হইতেই পারে। নিজেরে রাজা বাদশা আমি ভাবতেই পারি। এ নিয়ে রাজনীতির কিছু নাই।
এখন থাকেন, আমার রাজত্বডা একটু ঘুইরা টুইরা দেখি গিয়া। পথ-ঘাট কিচ্ছু চিনি না। হারায়া গেলে যামু, তা নিয়ে চিন্তার কিছু নাই।
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×