
সবুজ পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সুন্দর একটা গ্রাম। নাম নেফিউ পাড়া। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌছতে হলে এই নেফিউ পাড়া না গিয়ে কোন উপায় নাই। কিন্তু আমরা যেদিকটা দিয়ে নেফিউ পাড়াতে পৌছে ছিলাম ঐ দিককার রাস্তাটা ছিল একটা মরণ ফাঁদের মতো।
প্রত্যেকের পিঠে ট্র্যাভেল ব্যাগ, গলায় ঝুলানো ক্যামেরা, অনেক উঁচু খাড়া সরু পথ, এক পাশে পাহাড়ের খাড়া দেয়াল, অন্য পাশটা নেমে গেছে হাজার ফিট নিচের উপত্যকায়। সেই যাথে ঝুরঝুরে আলগা মাটি, চার হাত পায়ে ভর করে কি যে ভয়ঙ্কর কষ্ট করে আর মৃত্যু আতঙ্ক নিয়ে আমরা এই পাড়ায় ঢুকেছিলাম তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না।
মুরংদের এই গ্রামটাতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যেন আমরা এক লাফে চলে গিয়েছি হাজার বছর আগের সেই আদিম যুগে। পাহাড়ের উপরের এক টুকরো সমতলে মাচার উপর দাড়িয়ে আছে জড়াজির্ণ কয়েকটি কুঁড়ে। অর্ধ উলঙ্গ মহিলারা ইতিউতি কাজকর্ম করে ছলেছে, সেই সাথে এক দঙ্গল উলঙ্গ অর্ধ উলঙ্গ শিশু। বাচ্চাদের কানে মোটা ছিদ্র করে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে গাছের পাতা কিংবা মোটা কাগজ। শুকর আর গয়ালের মলমুত্রে একাকার পুরো এলাকা। কারবারী (গ্রাম প্রধান) আর বয়স্ক দুয়েকজন ছাড়া কেউ বাংলাও বুঝে না।
তবে ওদের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ। আর ওখানে কাটানো রাত্রিটি ছিলো আমার জীবনে সব চেয়ে ভয়াবহ শীতের রাত। সব জামা কাপড় গায়ে দিয়ে স্লিপিং ব্যগের ভেতর ঢুকেও মোটেও কাপাকাপি বন্ধ হয়নি আমাদের টিমের কারোরই।
সাতদিন ক্যামেরা চার্জ দেয়ার কোন সুযোগ না থাকায়, আর আমাদের টিমে কিছু মেয়ে সদস্য থাকায় ছবি তোলায় স্বাচ্ছন্দ ছিলাম না। তবু যেটুকু তুলতে পেরেছি তারই কিছু দিয়ে আজকের পোষ্ট সাজালাম।

(২/৩) দূর্গম পথ পাড়ি দিয়া যখন নেফিউ পাড়ার প্রবেশ করলাম তখনও শরীরের কাপুনি দুর হয়নি। তাই এই খোলা চালার নিচে কেউ বসে কেউবা শুয়ে পড়লাম।


(৪/৫) শিশুগুলো আমাদের দেখছিলো অবাক হয়ে, আর আমরাও এই সময়ে ওদের সবার হাতে যখন চকলেট ধরিয়ে দিলাম।


(৬) গ্রামে ঢুকেই পিপাসার্ত আমরা ওদের বানানো লাউয়ের খোলসের পানি পাত্র হাতে নিয়া ঢক ঢক করে পানি পান করলাম।

(৭) নেফিউ পাড়ার পিছন দিকে পাহাড়ের আর একটু উপরে উঠে ছবি তুললে এই পুরো পাড়াটিকে যেমন দেখায়।

(৮) এই পাড়ার লোকেরা প্রচুর গয়াল পালন করে। দেখতে ভয়ঙ্কর হলেও বাস্তবে খুবই নিরীহ।

(৯/১০) একজন আবার দেখলাম কোন ঝিড়ি থেকে যেনো চিংড়ি মাছ ধরে গ্রামে ফিরছে। পর্বত চুড়ায় চিংড়ি দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না।


(১১) কোন একটা কাজ করছে (টপলেছ মহিলা)।

(১২) কাঁচা বাঁশের ভেতর কিছু একটা রান্না করছে (টপলেছ মহিলা)।

(১৩) গাছের গুড়িতে ধান ভানছে (টপলেছ মহিলা)।

(১৪) ওদের সাথে আমি।

(১৫) কারবারীর ঘরের ভেতর আমাদের রান্না চলছে।

(১৬) কারবারীর পরিবার খেতে বসেছে।

(১৭) কাঠবেড়ালী, এটা পরবর্তিতে উঠবে ওদের খাবারের থালায়।
সময়ের অভাবে এই আদীম গ্রামটাকে খুব বেশী একটা জানতে পারিনি। প্রথম দিন ছিলাম খুবই টায়ার্ড, আর দ্বিতীয় দিন ছিলাম দৌড়ের উপর। তবে নেফিউ পাড়ার আদিমতাকে জানার ইচ্ছেটা আমার প্রবল, আশা করছি আবারো ওখানে যাবো, মিশে যাবো একেবারে ওদের পরিবারের সাথে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


