somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বান্দরবানের শৈলপ্রপাত

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বান্দরবান শহর থেকে থানচি কিংবা রুমার দিকে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের ৮ কিলোমিটার গেলেই পাহাড়ের সবুজের ভেতর থেকে কানে আসবে পাথরের ভেতর দিয়ে ছুটে চলা পানির রিনিঝিনি শব্দ। থমকে দাঁড়িয়ে পথের ডান দিকে তাকালেই দেখা যাবে অবিরাম ছুটে চলা একটা পাহাড়ি স্রোতধারা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে ছুটতে ছুটতে হারিয়ে গেছে চোখের আড়ালে। স্রোতধারার পানিগুলো একাধারে প্রচন্ড ঠান্ডা ও স্বচ্ছ। ওকে একটু ছুয়ে দেখার ইচ্ছে হবেনা এমন মানুষ পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আশে পাশের সবুজ পাহাড়গুলোর দিকে তাকালে উঁকি দিবে আদিবাসীদের ছোট ছোট কুঁড়ে আর তাদের মধ্যে থাকা ছোটখাট অবয়বের সুন্দর আর পরিশ্রমী মুখগুলো। সব মিলিয়ে যায়গাটা সত্যিই অসাধারণ।
আর পথের বাঁমে তাকালে পাহাড়টা আরো উঁচু হয়ে গেছে, আর সেই পাহাড়ের পাদদেশে আদিবাসী নারী-পুরুষেরা তাদের হাতে বোনা চাদর, মাফলার, বেডশীটসহ বেত ও বাশেঁর তৈরী বিভিন্ন আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র আর স্যুভেনিরের পসার নিয়ে বসে আছে। এছাড়া তাদের উৎপাদিত মৌসুমী ফলমূল এখানে সবসময় পাওয়া যায়। হাসিমুখেই ওদের কাছ থেকে দরদাম করে পণ্য কেনা যায়।


(২) আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে বেপরোয়া চান্দের গাড়ি দিয়া চলাটা সত্যিই এক অন্যরকম মজা।


(৩) যাওয়ার পথে রাস্তায় পড়বে আদিবাসী সম্প্রদায়ের এমন কর্মযজ্ঞ।


(৪) বান্দরবান শহরের ৮ কিলোমিটার পরই রাস্তার ডান পাশে দেখা যাবে এই জলস্রোত, যা শৈলপ্রপাত নামে পরিচিত।


(৫/৬) শৈলপ্রপাতটা অন্যান্য ঝর্ণার মতো খাড়া ঝর্ণা না, যেমনটা আমরা দেখি যে, আমাদের বিপরিত পাশের পাহাড় থেকে খাড়া নেমে আসছে ঝর্ণার স্রোতধারা। এটা আসলে স্রোতধারার উপরি অংশটাকেই আমরা দেখতে পাই, যা কিছুটা ঢালু হয়ে নেমে গেছে নিচের দিকে। আবার কখনো বা খারা নেমে গেছে অনেকটা।




(৭) শৈলপ্রপাতে নামাটা বিপদজনক বলে পর্যটন মন্ত্রনালয় ঝর্ণাতে নামার জন্য লম্বা সিড়ি বানিয়ে দিয়াছে, আর সিড়ির যে ঘরটা থেকে নিচে নেমেছে তার উপরে উঠেও ঝর্ণাটাকে সুন্দর ভাবে পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করে দিয়াছে।


(৮) পিচ্ছিল ঝর্ণার উপরিভাগ পার হয়ে যারা বিপরিত যেতে পারে তাদের জন্য ওপারে ও রয়েছে সুন্দর বিশ্রামের যায়গা।


(৯/১০) উপড়ের সড়ক থেকে ঝর্ণায় নামার সিড়ি দুইটা এমন।




(১১) ঝর্ণার বিপরিত পাশের বসার যায়গা থেকে তোলা প্রবেশ পথের দিকের ছবি।


(১২/১৩) ঝর্ণার আশে পাশে রয়েছে এমন সব বুনো ফুল।




(১৪) রয়েছে এমন কিছু প্রজাপতিও।


(১৫) এই ঝর্ণায় সতর্ক না থাকলে যখন তখন হতে পারে বিপদ, ঝর্ণার উপরে কোন অসতর্ক মুহুর্টে ওনার পা পিছলায়, আর উনি অনেকটা পথ পিছলে ঝর্ণার পানি পড়ে গর্ত হয়ে যাওয়া একটা অংশে আটকে পড়ে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে। এমন ভাবে পিছলে ওখানে মৃত্যুর ঘটনাও আছে, তবে উনাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।


(১৬/১৭) উপারের বিশ্রামাগার পার হয়ে আরো অনেকটা নিচে নেমে গিয়েছিলাম ঝর্ণার একটা সুন্দর রূপ দেখতে, কিন্তু এর বেশী পাইনি।




(১৮) বিপরিত পাশের বিশ্রামাগারে বসে আরো একটা ছবি।


(১৯) ঝর্ণাটা রাস্তার ডানে হলেও মূলত এর উৎপত্তি কিন্তু রাস্তার বামে। আর ঝর্ণার উপর দিয়াই তাই এই ব্রীজ ধরে ছুটে যেতে হয় রুমা বা থানচির দিকে।


(২০) উপরে ফিরে এসে আদিবাসীদের এসব দোকান থেকে কিছু না কিনলে আফসোসটা থেকেই যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৫
৪৬টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×