রুয়েটের আড্ডা থেকে
**সাদাত শাহরিয়ার***
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। 1964 সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরবতর্ী সময়ে বিআইটি, রাজশাহী নামে কিছুদিন পথ চলে বর্তমানে রুয়েট হিসেবে এ প্রতিষ্ঠান আগামীর দিকে এগিয়ে চলেছে। ক্যাম্পাস মানেই ক্যান্টিন, ক্যাম্পাস মানেই আড্ডা, ক্যাম্পাস মানেই মাঠে গোল হয়ে বসে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা। ক'জন রুয়েটের আড্ডাবাজ, বসে খোস গল্প করছিল শহীদ লে. সেলিম হলের গেস্টরুমে। এমন সময়েই আমার আগমন। শুধুই কি আগমন, রীতিমতো আড্ডায় হামলা চালিয়ে বসলাম- এই প্রশ্ন, সেই প্রশ্ন। কেন এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছ, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা কী, আগামীতে বিদেশে গেলে আর দেশে ফিরবে কিনা ইত্যাদি, ইত্যাদি। আড্ডাবাজরাও মনের আর্গল খুলে জানিয়ে দিলো তাদের না বলা কথাগুলো। শ্রাবণের এক মেঘলা বিকেলে রুয়েটের সেই প্রাণান- আড্ডার কিছু অংশ তুলে দিলাম যুগান-র ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য। তড়িৎ কৌশল বিভাগের 4র্থ বর্ষের ছাত্র সৈয়দ আশেক আহমেদ। চমৎকার উচ্ছল এই তরুণ জানালেন ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার, অন্যকোনও মাধ্যমের কথা ভাবেননি। তার পরিবার তাকে সমর্থন করায় কোনও সমস্যাতেও পড়তে হয়নি । পাস করে বের হওয়ার পরে একটা ফার্ম দেওয়ার ইচ্ছে আছে তার, নিজের মতো করে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার আগে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে চান। প্রশ্ন রেখেছিলাম বিদেশে গেলে তো কেউ আর দেশে ফিরতে চায়না, স্বাচ্ছন্দ্য আর আধুনিক পরিবেশ ছেড়ে দেশের কথা আর ক'জন মনে রাখে? আশেক দীপ্ত হাসি মুখে জানালেন, আর কারও কথা জানি না, তবে আমি অবশ্যই ফিরব। তা না হলে দেশের মাটিতে ফার্ম হবে কী করে? আমার সব স্বপ্নই আমার দেশকে ঘিরে। আশেকের সহপাঠী মোঃ খাদেমুল ইসলাম বাবার ইচ্ছাকে সার্থক করতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চান । হেসে বললেন আমার সবই ছোট-ছোট আশা, ছোট-ছোট স্বপ্ন। পাস করব। চাকরি করব। এই তো! যেহেতু আমি বিবাহিত (নিজের পছন্দে এবং অবশ্যই লুকিয়ে), তাই চাকরিটাই আমার আগে দরকার, তা না হলে বাসায় তো সব জানাতে পারছি না। ভবিষ্যতে একটু স্থির হয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে আছে; দেশে ফিরবোই একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। ভালো সুযোগ পেলে বিদেশেও থেকে যেতে পারি। আসলে আমার মনে হয় এদেশে বর্তমানে চাকরির বাজারের যা অবস্থা তাতে বিদেশে থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোই ভালো হবে। আর একটা কথা_ ইদানীং চাকরির বিজ্ঞাপনে মাঝে-মাঝে দেখা যায়, কোনও কোনও কোম্পানি একটি বিশেষ প্রকৌশল ভার্সিটি ছাড়া অন্য কোনও জায়গার ইঞ্জিনিয়ার নেবে না বলে উল্লেখ করে। এটা ঠিক না। দেশবাসীর প্রতি এ বৈষম্য দূর করার আবেদন জানাই। কম্পিউটার কৌশল বিভাগের 4র্থ বর্ষের ছাত্র মাহমুদ হাসান। কম্পিউটারের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আসক্তি আর সে থেকেই কম্পিউটার নিয়ে পড়ার আগ্রহ। বললেন, আমি দক্ষ প্রকৌশলী হতে চাই। এছাড়া বর্তমান চাকরির বাজারের কথা ভেবে এমবিএ করার ইচ্ছে আছে। আরও বললেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করি। বিদেশে বেটার অপশন পেলে দেশে কেন আসব? এ ব্যাপারে আমি খাদেমুলের সঙ্গে একমত। তার সহপাঠী মোঃ সারোয়ার হোসেন মজা করে বললেন ভর্তি পরীক্ষায় যেসব জায়গায় চান্স পেয়েছিলাম তার মধ্যে রুয়েটই বেটার ছিল, তাই এখানে আসা। পাস করে ইচ্ছে আছে দেশের বাইরে এমএস করতে যাব। তবে যেখানেই যাই, পড়াশোনা শেষ করে অবশ্যই দেশে ব্যাক করব। আমি দেশের কাজে লাগতে চাই। একই বিভাগের ছাত্র মির্জা নাজমুল হাসান। তিনি রুয়েটের ক্যাম্পাসে এসেছেন মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে। মা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন, তার সব ইচ্ছেগুলো অঙ্কুরিত করতে চাই। না, বিদেশে যাব না। এদেশের কাছে আমি অনেকভাবে ঋণী। ঋণ শোধ করার চেষ্টা করতে চাই।
[প্রকাশ: আজকের দৈনিক যুগান্তর/ক্যাম্পাস/ 27-07-06]
লিংক: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




