somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটু অন্যরকম পোস্ট

২৭ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রুয়েটের আড্ডা থেকে

**সাদাত শাহরিয়ার***

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। 1964 সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরবতর্ী সময়ে বিআইটি, রাজশাহী নামে কিছুদিন পথ চলে বর্তমানে রুয়েট হিসেবে এ প্রতিষ্ঠান আগামীর দিকে এগিয়ে চলেছে। ক্যাম্পাস মানেই ক্যান্টিন, ক্যাম্পাস মানেই আড্ডা, ক্যাম্পাস মানেই মাঠে গোল হয়ে বসে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা। ক'জন রুয়েটের আড্ডাবাজ, বসে খোস গল্প করছিল শহীদ লে. সেলিম হলের গেস্টরুমে। এমন সময়েই আমার আগমন। শুধুই কি আগমন, রীতিমতো আড্ডায় হামলা চালিয়ে বসলাম- এই প্রশ্ন, সেই প্রশ্ন। কেন এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছ, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা কী, আগামীতে বিদেশে গেলে আর দেশে ফিরবে কিনা ইত্যাদি, ইত্যাদি। আড্ডাবাজরাও মনের আর্গল খুলে জানিয়ে দিলো তাদের না বলা কথাগুলো। শ্রাবণের এক মেঘলা বিকেলে রুয়েটের সেই প্রাণান- আড্ডার কিছু অংশ তুলে দিলাম যুগান-র ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য। তড়িৎ কৌশল বিভাগের 4র্থ বর্ষের ছাত্র সৈয়দ আশেক আহমেদ। চমৎকার উচ্ছল এই তরুণ জানালেন ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার, অন্যকোনও মাধ্যমের কথা ভাবেননি। তার পরিবার তাকে সমর্থন করায় কোনও সমস্যাতেও পড়তে হয়নি । পাস করে বের হওয়ার পরে একটা ফার্ম দেওয়ার ইচ্ছে আছে তার, নিজের মতো করে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার আগে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে চান। প্রশ্ন রেখেছিলাম বিদেশে গেলে তো কেউ আর দেশে ফিরতে চায়না, স্বাচ্ছন্দ্য আর আধুনিক পরিবেশ ছেড়ে দেশের কথা আর ক'জন মনে রাখে? আশেক দীপ্ত হাসি মুখে জানালেন, আর কারও কথা জানি না, তবে আমি অবশ্যই ফিরব। তা না হলে দেশের মাটিতে ফার্ম হবে কী করে? আমার সব স্বপ্নই আমার দেশকে ঘিরে। আশেকের সহপাঠী মোঃ খাদেমুল ইসলাম বাবার ইচ্ছাকে সার্থক করতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চান । হেসে বললেন আমার সবই ছোট-ছোট আশা, ছোট-ছোট স্বপ্ন। পাস করব। চাকরি করব। এই তো! যেহেতু আমি বিবাহিত (নিজের পছন্দে এবং অবশ্যই লুকিয়ে), তাই চাকরিটাই আমার আগে দরকার, তা না হলে বাসায় তো সব জানাতে পারছি না। ভবিষ্যতে একটু স্থির হয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে আছে; দেশে ফিরবোই একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। ভালো সুযোগ পেলে বিদেশেও থেকে যেতে পারি। আসলে আমার মনে হয় এদেশে বর্তমানে চাকরির বাজারের যা অবস্থা তাতে বিদেশে থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোই ভালো হবে। আর একটা কথা_ ইদানীং চাকরির বিজ্ঞাপনে মাঝে-মাঝে দেখা যায়, কোনও কোনও কোম্পানি একটি বিশেষ প্রকৌশল ভার্সিটি ছাড়া অন্য কোনও জায়গার ইঞ্জিনিয়ার নেবে না বলে উল্লেখ করে। এটা ঠিক না। দেশবাসীর প্রতি এ বৈষম্য দূর করার আবেদন জানাই। কম্পিউটার কৌশল বিভাগের 4র্থ বর্ষের ছাত্র মাহমুদ হাসান। কম্পিউটারের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আসক্তি আর সে থেকেই কম্পিউটার নিয়ে পড়ার আগ্রহ। বললেন, আমি দক্ষ প্রকৌশলী হতে চাই। এছাড়া বর্তমান চাকরির বাজারের কথা ভেবে এমবিএ করার ইচ্ছে আছে। আরও বললেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করি। বিদেশে বেটার অপশন পেলে দেশে কেন আসব? এ ব্যাপারে আমি খাদেমুলের সঙ্গে একমত। তার সহপাঠী মোঃ সারোয়ার হোসেন মজা করে বললেন ভর্তি পরীক্ষায় যেসব জায়গায় চান্স পেয়েছিলাম তার মধ্যে রুয়েটই বেটার ছিল, তাই এখানে আসা। পাস করে ইচ্ছে আছে দেশের বাইরে এমএস করতে যাব। তবে যেখানেই যাই, পড়াশোনা শেষ করে অবশ্যই দেশে ব্যাক করব। আমি দেশের কাজে লাগতে চাই। একই বিভাগের ছাত্র মির্জা নাজমুল হাসান। তিনি রুয়েটের ক্যাম্পাসে এসেছেন মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে। মা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন, তার সব ইচ্ছেগুলো অঙ্কুরিত করতে চাই। না, বিদেশে যাব না। এদেশের কাছে আমি অনেকভাবে ঋণী। ঋণ শোধ করার চেষ্টা করতে চাই।
[প্রকাশ: আজকের দৈনিক যুগান্তর/ক্যাম্পাস/ 27-07-06]
লিংক: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১:৫২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×