যা হোক এবার আসল কথায় আসি। ড. হুমায়ূণ আজাদ একবার মজা করে বলেছিলেন-ঢাকা শহরে কাক আর কবির অভাব নেই! হতে পারে ওটা ঢাকা শহর বলে কথা। ওখানে অনেক কিছুরই অভাব নেই। সমস্যা আছে আবার সমাধানের রাস্তাও বেশি। কিন্তু আমরা যারা ঢাকার বাইরে থাকি। তাদের রয়েছে যত জ্বালা। নানান জ্বালার ভিড়ে কেবল একটা তুলে ধরছি।
ঢাকার বাইরে বসে যারা লেখালিখি করেন তারা প্রথমত যে ঝামেলায় পড়েন তা হচ্ছে ঢাকার পত্রিকাগুলোর সাথে পরিপূর্ণ যোগাযোগের অভাব। কেননা সরাসরি পত্রিকা অফিসগুলোতে গিয়ে আপনি নিজেকে যতটা প্রকাশ করতে পারবেন। ই-মেল বা সেলে ততটা কি করা সম্ভব? পাশাপাশি একটা উন্নাসিক ধারনাও প্রচলিত আছে-ঢাকার বাইরের লেখক! এ আবার কি জানে!!!
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে প্রকাশিত লেখার বিল সংগ্রহ করা। বেশিরভাগ পত্রিকা/ ম্যাগাজিনের নিয়ম হচ্ছে ঢাকায় গিয়ে অফিস থেকে বিল নিয়ে আসা। আমার দৃষ্টিতে এটা খুবই বিরক্তকর ব্যাপার। কেননা যারা ঢাকার বাইরে থাকেন তারা চাইলেই ঢাকা যেতে পারেন না। কারণ খরচের বিষয়টা তো মাথায় রাখতে হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে কি হতে পারে এ সমস্যার সমাধান? আমার মনে হয় পত্রিকা/ ম্যাগাজিনগুলো এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে পারে। তারা যদি লেখকের ঠিকানায় সময়মত সম্মানী পাঠিয়ে দেয় তাহলে আর সমস্যা থাকে না। অবশ্য এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দু'একটি পত্রিকা এগিয়েও এসেছে। যেমন, জনকন্ঠ। জনকন্ঠ কতর্ৃপ লেখক সম্মানী চেক কুরিয়ার যোগে লেখকের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। এ বিষযে সবচেয়ে ভাল ভূমিকা রাখছে কাজী আনোয়ার হোসেনের রহস্যপত্রিকা। এ পত্রিকা থেকে লেখক তার ইচ্ছে মত উপায়ে সম্মানী পায়। যেমন, কুরিয়ার/ মানি অর্ডার/ স্বশরীরে যেয়ে-লেখকের ইচ্ছের বেশ গুরুত্ব দেয় এরা।
আশা করি সকল পত্রিকা/ ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টা নিয়ে একটু ভাববেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


