somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারমাফ্রোডাইট [একটি সত্য গল্প]

১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন মোবাইল কিনেছে জাভেদ। নতুন নতুন সেট নিলে উঠতি তরুণদের যা হয় তারও তা-ই হল_ কাজ না থাকলেই জানা-অজানা নম্বরে মিসকল দেয়া। কেউ কেউ কলব্যাক করে, কেউ বা করে না। মাঝে মধ্যে দু'একজন ঝাড়িও দেয়, 'ওই ব্যাটা মিসকল দিস ক্যান?' প্রথম প্রথম জাভেদ ঝাড়ির জবাব দিতে পারত না- সরি, ভুল হয়েছে ইত্যাদি বলত। এখন পাল্টা জবাব দেয়, 'ভাই ইচ্ছের কেজি লাখ টাকা! ইচ্ছে হল তাই দিলাম। মিসকল পেলেই কলব্যাক করতে হবে এমনকি কোন কথা আছে? নাকি ভাই ভাবছিলেন কোন মেয়ের মিসকল! মেয়েদের সাথে কথা বলার এত শখ ক্যান?' উল্টো ঝাড়ির সময় যত বাড়াতে পারে জাভেদের ততই আনন্দ- বাহ ব্যাটার অনেক টাকা খাইলাম!
আজকে জাভেদ নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে_এক একটা অপরিচিত নম্বরকে মিসকল দিতেই থাকবে যতক্ষণ না সেটা থেকে কেউ কলব্যাক করে। কোন কিছু চিন্তা না করেই জাভেদ মোবাইল বাটন টেপা শুরু করল, 0171867093...। এই তো রিং হচ্ছে। একবার, দুবার, তিনবার- টানা মিসকল দিল। কিন্তু কোন সাড়া নেই। আরেকবার দেই। এবার ব্যাটা বিরক্ত না হয়ে পারবে না। আশ্চর্য! ঘুমাচ্ছে নাকি? কিন্তু এই সন্ধাবেলায় কেউ কি ঘুমায়? দাঁড়া! দেখাচ্ছি মজা! তুমি ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখেছ কিন্তু জাভেদ দেখো নাই! টানা 32 বার মিসকল দিল সে। ইয়েস! এবার কলব্যাক করেছে। তাও আবার নারীকন্ঠ!
-হ্যালো মিসকল দিচ্ছেন কেন?
-ইচ্ছে হল তাই দিলাম।
-ও তাই। বুঝতে পেরেছি নতুন সেট নিয়েছেন, তাই না?
-হঁ্যা। কিন্তু কি করে বুঝলেন?
-এটা না বোঝার কি আছে? একসময় আমারও তো আপনার মত বয়স ছিল। তা কোন ক্লাসে পড়েন? ফার্স্ট ইয়ার?
খাইছে! বয়স্ক কোন আন্টির সাথে ফাজলামি করে ফেললাম নাকি? জাভেদ মিথ্যা বলল না, হঁ্যা। অনার্স ফার্স্ট ইয়ার।
-কোন সাবজেক্ট?
-ইকোনমিক্স।
- ভেরি গুড। কোন ভার্সিটি?
-ঢাকা ভার্সিটি।
-ও তাই। আমিও তো ওখান থেকেই পাশ করেছি।
-তাই নাকি! কবে?
-এই তো 2004 এ।
-আপনি আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র। সরি। সরি। আপু। আমার ভুল হয়ে গেছে।
-না ঠিক আছে। তা তোমার নাম কি?
-জাভেদ।
-দেশের বাড়ি কোথায়?
-বরিশাল।
-বরিশাইল্যা! আমার শ্বশুড়বাড়িও ওখানে। জানো তোমার ভাইকে আমি কি বলে ক্ষেপাই_বরিশাইল্যা মুরগি চোর/ ব্যাড়া ভাইঙ্গা দিল দৌড়! কি রাগ করলে নাকি?
-না না। ব্যাপার না। আপু তা ভাইয়া কি করেন?
-কি আর করবে! রাস্তা সাফ করতে পারে। দোকানদারিও করতে পারে।
-মানে?
-মানে ও সাউথ আফ্রিকা থাকে। কি করে তা আমি জানি না।
-আপনি এখানে একা থাকেন?
-না। আমি আর আমার বাবুটা গলাগলি বেঁধে থাকি।
-বাবুটার নাম কি?
-তানিম।
-কোন ক্লাসে পড়ে?
-পড়ে না।
-খুব ছোট। তাই না?
-এই তো পাঁচ বছর হতে চলল।
-এখনো স্কুলে দেননি! এ বয়সে তো বাচ্চারা প্লেগ্রুপ শেষ করে ফেলে।
-কিন্তু আমার বাবুটা কোনদিন পড়তে পারবে না। কোনদিনও না। কি হবে ওর পড়াশুনা করে? কেউ তো ওকে কোনদিন ভালবাসবে না। কোনদিনও না। সবাই শুধু হাসবে। আর হাসবে। বড় হলে ও তো হাসির পাত্র হবে। ওর পড়াশুনা করে কি হবে?
কি ব্যাপার! আপুর কন্ঠ ভেজা মনে হচ্ছে। জাভেদ কিছুটা থতমত খেয়ে গেল, সরি আপু। সরি। আমি আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না।
-পারবে কি করে? তুমি তো কিছুই জান না। জান আমি না জীবনে কোন পাপ করিনি। তাহলে আল্লাহ আমাকে কেন এমন শাস্তি দিলেন? কেন?
জাভেদ কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। তাই সে চুপ করে রইল। একটু থেমে আপু আবার বলল, তুমি আমার কথায় কিছু মনে কর না। আসলে তোমাকে কেন এসব বলছি তা আমি জানি না। তুমি আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই। তাই হয়ত বলছি। আসলে আমার কষ্টগুলো কারও সাথে শেয়ার করা দরকার। আর তোমার ভাইও যেন কেমন হয়ে গেছে। যেদিন ডাক্তার বলল তানিম আর ভাল হবে না সেদিন থেকে ও কেমন যেন দূরে চলে গেছে। ভাল করে আমার সাথে কথা বলে না। আর তানিমের তো খোঁজই নেয় না। জান একবার ও কি বলেছিল-বাবুকে ওর মত লোকদের হাতে তুলে দিতে। ওদের নাকি নিজস্ব থাকার জায়গা আছে। সেখানে নাকি ও ভাল থাকবে। আর আমরা নতুন বাবু নেব। বল এটা কি সম্ভব? বাবুকে ছাড়া আমি বাঁচব কি করে?
-বুঝতে পারছি আপু আপনি খুব কষ্টে আছেন। সরি আপু। আমার খুব খারাপ লাগছে। আচ্ছা আপু আমি কি জানতে পারি তানিমের অসুখটা কি?
-হঁ্যা পারো। He is a hermaphrodite person.

-মানে?
আর কোন কথা শোনা গেল না। ওপাশ থেকে লাইন কেটে দেয়া হল। কিন্তু Hermaphrodite
মানে কি? জাভেদ তাড়াতাড়ি ডিকশনারির পাতা উল্টাতে লাগল। শব্দটার মানে দেখে জাভেদের খুব খারাপ লাগল। হঁ্যা আপু, আমরা ওদের রাস্তায় প্রায়ই দেখি। ওদের নিয়ে হাসাহাসিও করি। কিন্তু একবারও ওদের নিয়ে ভাবি না। ওদের কষ্ট ওদেরই থেকে যায়। আর আমরা শুধু উপহাসই করি। কেননা আমরা যে মানুষ!!!
পরদিন। জাভেদ আবার মোবাইলটা হাতে নিল। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল_ থাক আর অযথা কাউকে মিসকল দেব না।
**************************************************
ই-মেইল: [email protected]

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×