somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কীর্তনখোলা ......

১৮ ই জুন, ২০১২ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতীত কালঃ
দক্ষিণ বাংলার অন্যতম গভীর নদী কীর্তনখোলা। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কখনোই এর যৌবন কমে না। একটু পরে বসন্তের নদীর মৃদু উত্তাল বুকে তির তির করে কাঁপতে লাগল রাকিব রূপার ছইওয়ালা নৌকা। নরম বাতাসের আলতো পেষণে নদী তীরের কাশ ফুলগুলো নুয়ে নুয়ে পড়তে লাগল। হঠাৎ নিজের এক গোছা চুল কপালের উপর চলে এলে রূপা তা সরানোর জন্য একটু ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বাঁধা দেয় রাকিব, থাক না ... সুন্দর লাগছে তো। নরম হাতে রূপার চিবুকে আদর করার চেষ্টা করে রাকিব।
- আহ মাঝি দেখছে তো। বাঁধা দেয় রূপা।
- কই দেখছে না তো? ছইওয়ালা নৌকার এই এক বিরাট সুবিধা -- মাঝির দিকের পর্দা ফেলে দিলে এপাশে অবাধ ভালবাসাবাসিতে কোন ঝামেলাই থাকে না!
এই মেয়েটা এত সুন্দর কেন? রূপার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে রাকিব। উহ! তোমার চুলের গন্ধ যে আমাকে পাগল করে দিচ্ছে। কি দাও চুলে তুমি?
-কিছুই না ... রূপার কথা শেষ হবার আগেই রাকিব ওর চুলের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বিলি কাঁটা শুরু করে। এবার রূপা কিছুই বলে না। আসলেই প্রিয় মানুষের ¯পর্শ কার না ভাল লাগে! তাই তো কখন যে ওদের ওষ্ঠ অধর এক হয়ে গিয়েছিল তা ওরা টেরই পায়নি। তবে খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল যে ভালবাসার প্রথম প্রকাশ হয় সুনিবিড় চুম্বনে!

বর্তমান কালঃ
দূরে কি কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে? হিম হিম ঠান্ডা বাতাসের হঠাৎ চুম্বনে আজ বহু বছর পর কীর্তনখোলার ঢেউ গুনতে অসম্ভব ভাল লাগছে। আকাশ জুড়ে মেঘের মাঝে তারার মিছিল ঠিক যেন জোনাকির ঝাঁক। মাঝ নদীতে নৌকাতে জেলের টিমটিমে জ্বলে নিভে হ্যারিকেন বাতি। আওয়াজ তুলে লঞ্চের চলে যাওয়া। এমনটিই দেখেছিলাম আমি প্রায় যুগ আগে। এমনি এক সন্ধ্যা শেষের রাতে তোমার চলে যাওয়া। তুমি ফিরে তাকিয়েছিলে ঠিকই কিন্তু ফিরে আসনি। তাই তো আজ এতটা বছর আমিও আসিনি এখানে ... এই পাড়ে ... ছোট্ট বেলার প্রেম, আমার সে কালো মেম ... কোথায় গেল হারিয়ে ...

ভবিষ্যৎ কালঃ
যাওয়া বলে কিছু নেই, সবই ফিরে ফিরে আসা/ নদী - সেও একদিন ফিরে আসে মেঘ হয়ে/ ভালবাসা ফেরায়/ ফেরাতে পারে -- তাই তো আজও বয়ে চলেছে আমার কীর্তনখোলা ।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

দুইদিন আগে সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের একজন সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত দৃঢ়তা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×