[কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম সিলন চা-এর জন্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপণ তৈরির ব্যাপারে গল্প আহবান করেছে creato নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা। আমি অনেক আশা নিয়ে একটা গল্প পাঠালাম। বলা হয়েছিল গল্পটা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী হতে হবে। আমার ধারণা ছিল এই গল্পটা কিছুটা হলেও হৃদয়গ্রাহী। কিন্তু হায়রে বিধিবাম। আমার গল্পটা বিচারকদের হৃদয় এতটুকুও টলাতে পারল না। ওটা নির্বাচিত হল না। আমার মন খারাপ হল। কিছুটা হতাশ হলাম। পরে ভাবলাম, ব্যাপার না ... এই দিন দিন না আরও দিন আছে ... দেখুন তো এটা আসলেই কি ঘোড়ার ডিম মার্কা হয়েছিল?]
সিলন চায়ের জন্য বিজ্ঞাপণ চিত্রের গল্পঃ
### চরিত্রসমূহঃ
টুম্পাঃ ৮ -১০ বছরের পঙ্গু বালিকা যে ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করে।
বাবাঃ ৪০-৪২ বছর বয়সী কর্মজীবী লোক।
মাঃ ৩০-৩৫ বছর বয়সী নারী।
### মূল গল্পঃ
শেষ বিকেল। মা স্কুটারে উঠতে উঠতে টুম্পাকে বললেন, মামনি সাবধানে থেকো। আমি তাড়াতাড়ি চলে আসব। টুম্পা হাসিমুখে হাত নাড়তে নাড়তে দরজা বন্ধ করে। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৬টা। টিভিতে একটা প্রোগ্রাম হচ্ছে। একদল ছেলেমেয়ে গাইছে, আমরা করব জয় একদিন ...। টুম্পা ক্র্যাচে ভর দিয়ে হেঁটে এসে টিভির সামনে বসে। খুব ছোটবেলায় হঠাৎ পোলিওতে সে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকেই ক্র্যাচে ভর করেই তার চলাফেরা।
কলিংবেল বেজে উঠল। টুম্পা দরজা খুলে দিল। সারাদিন পর অফিস থেকে বাবা এসেছেন। বাবা টুম্পাকে বললেন, মারে খুব টায়ার্ড হয়ে গেছি। তোর আম্মুকে বল না এক কাপ চা দিতে ... ।
ক্লান্ত বাবাকে দেখে টুম্পার খুব মায়া হয়। সে আর বলে না যে মা বাইরে গেছেন।
বাবা হাঁসফাঁস করতে করতে সোফার উপর বসলেন। ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে নিলেন। তারপর টিভি দেখতে লাগলেন। টিভিতে তখনও গানটা চলছিল, আমরা করব জয় একদিন ... ।
একহাতে ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটতে আর অন্যহাতে বাবার জন্য চা নিয়ে আসতে ছোট্ট টুম্পার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। কাঁপা কাঁপা হাতে সে বাবার দিকে কাপ বাড়িয়ে দিয়ে বলল, বাবা, ধরো।
কিন্তু বাবা কাপ ধরার আগেই সে তাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে পড়ে গেল। বাবা দৌড়ে এসে ছোট্ট টুম্পাকে কোলে তুলে নেন। আনন্দে যেন কেঁদে ওঠেন, মা, তুই আমার জন্য চা বানাতে গিয়েছিলি! তোর আম্মু কই?
-আম্মু তো বাইরে। বাবা কাপটা তো ভেঙে গেল।
-যাক। লক্ষ্মী মা আমার। চল আমরা এখন দুজনে মিলে চা বানাব।
এরপর দেখা গেল, বাবা ও মেয়ে দুইজনে মিলে চা বানিয়ে খাচ্ছে। সাথে সাথে নেপথ্যকণ্ঠে বলা হবে, সিলন টি ... যেখানে ভালবাসার রেশ সব সময় থেকে যায়!
আলোচিত ব্লগ
Will you remember me in ten years!

উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ

মানুষ আসলে কী?
Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন
শোনো হে রাষ্ট্র শোনো
নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।
আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজব পোশাক

এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন
নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?
ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।