somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন আব্দুল কাদের সম্পর্কিত প্রপঞ্চ ও তার সমকালীন সমাজ-রাষ্ট্র-শিক্ষাঙ্গন

০৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বারবার দাবি করা হচ্ছে দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, সুস্থ স্বাভাবিকভাবে চাকরি-বাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে নিরাপদে দিনযাপন করছে। অথচ সকালবেলা কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় চোখ বুলানোর পর কি এই কথার সাথে দেশের একজন সাধারণ নাগরিক তার জীবনকে মেলাতে পারেন? ফলে এই ধরণের বিভিন্ন উক্তিতে জনগণের প্রতিক্রিয়া কি বা তা নিয়ে সরকারের মাথাব্যাথা কতখানি- এরকম বিষয়ে সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্র প্রতিনিয়তই প্রসারিত হচ্ছে। মাত্র কিছুদিন আগেই শবে বরাতের রাতে সাভারে ছয় ছাত্র গণপিটুনিতে নিহত হবার ঘটনার রেশ পার না হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল কাদেরের উপর সম্পূর্ণ অকারণ পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা রাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ভয়ঙ্করভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই ধরণের ঘটনা পুরো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের যে বৈরি মনোভাবে ,তাকেও কি উস্কে দিচ্ছে না? এর দায় কার? অপরাধীদের ধরতে পারুক বা না পারুক, সাধারণ মানুষকে শায়েস্তা করার বিষয়ে পুলিশ-র‍্যাব তাদের অপরিসীম দক্ষতার প্রমাণ নিত্যদিনই দিয়ে যাচ্ছে। আবার অন্যদিক থেকে ভেবে দেখলে প্রশ্ন জাগে, দেশের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজধানীর বুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র আব্দুল কাদেরের উপর নির্যাতণের ঘটনা প্রকাশিত হতে যখন প্রায় সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায় তখন সারাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার কতটুকু জনগণ জানতে পারে। আর জানতে পারলেও কি কিছু করবার সুযোগ আছে? সকল অন্যায় নির্যাতনের ঘটনায় যদি প্রতিপক্ষ বা কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনী দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।বিচারব্যবস্থা নামক প্রহসন চলছে, পাশাপাশি জাতির বিবেককে সাক্ষী রেখেই তো বিচারের বানী গণভবণের দুয়ারে লাঞ্ছিত হচ্ছে।


কি ঘটেছিল ১৫জুলাই দিবাগত রাতে?


গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ইস্কাটনে আত্মীয়ের বাসা থেকে এক পারিবারিক উৎসব শেষে ফজলুল হক হলে ফিরছিল আব্দুল কাদের। কোন যানবাহন না থাকায় হেঁটেই ফিরছিল সে। সেগুনবাগিচায় দূদক কার্যালয়ের সামনে এসে পৌছালে অতর্কিতে কতগুলো ঘটনা ঘটে যায়। পুলিশ এসময় ছিনতাইকারীদের একটি গাড়ী ধাওয়া করে ঐজায়গায় এসে পৌছালে ছিন্তাইকারীরা গাড়ি ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের একজনকে ধরে বেদম মারতে শুরু করে এবং জানতে চায় তার সঙ্গীরা কই গেল? ঐ ছিনতাইকারী মারের হাত থেকে বাঁচবার জন্য আমজনতার মধ্যে থেকে কাদেরকে দেখিয়ে দেয়। এবার পুলিশ কাদেরকে ধরে ছিনতাইকারী সন্দেহে তাকেও পেটাতে শুরু করে।কাদের তখন তাদের বলে, “আমি যদি তার সহকারী হই, তাহলে তাকে আমার নাম বলতে বলেন।” এর উত্তর ওই ছিনতাইকারী দিতে পারেনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেয়ার পর সে আরো রোষানলের স্বীকার হয়। তাকে থানায় নিয়ে ছিনতাইকারী স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য বেধড়ক মারপিট করা হয়। এমনকি খিলগাঁও থানার ওসি হেলাল উদ্দিন কাদেরকে ক্রসফায়ারে দেবার ভয় দেখান।

সকালে খবর পেয়ে তার রুমমেট তাকে দেখতে গেলে তাকেও শাসানো হয়। সে গিয়ে দেখতে পায় যে কাদের-এর গায়ে মারধরের আলামত ছিল কিন্তু বাম পায়ে কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না। সন্ধ্যায় তাকে পুলিশি হেফাযতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার বন্ধুরা তাকে দেখতে যায় এবং তারা কাদের-এর বাম পায়ে জখমের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এরই মধ্যে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কাদের তার বন্ধুদের জানায় পুলিশ চাপাতি দিয়ে তার বাম পায়ে এই জখম করেছে।


কে এই আব্দুল কাদের?


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অবস্থিত বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগকে অনেকটা নিভৃতাচারী বিভাগ বলা যায়। গবেষণায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ছাড়া বিশেষ কোন খবরে তাদের তেমন দেখা মেলে না। এই নিভৃতচারী বিভাগেরই নিভৃতচারী শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের। আমাদের দেশে পত্র পত্রিকা বা মিডিয়ায় ছাত্র-ছাত্রী সম্পর্কে কোন কিছু বলা হলেই ‘মেধাবী’ বিশেষণ যুক্ত করার যে প্রবণতা বিদ্যমান তা থেকে মুক্ত হয়েই বলা দরকার, কাদের ছাত্র হিসেবে মেধাবী তো বটেই। বিভাগে প্রথম-দ্বিতীয় স্থান অধিকার না করলেও বায়োকেমিস্ট্রির মত কঠিন বিভাগে ভালো ও নিয়মিত ছাত্র হিসেবে তার পরিচিতি আছে। ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র কাদেরের নিভৃতাচারী বৈশিষ্টের কারণেই হলে তার পরিচিতি তেমন নয়। সর্বশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হবার পর আরো ভালো করে প্রস্তুতি নিচ্ছিল কাদের বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করবার স্বপ্ন নিয়ে। সারাবছর ক্লাশে তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত- একথা জানান বিভাগের আধ্যাপিকা ড। লায়লা নূর।


গ্রেপ্তার-নির্যাতনের পরের ঘটনাবলী


সকালে খবর পেয়ে কাদেরের রুমমেট মুক্তাদির যায় খিলগাঁও থানায়। পুলিশ যখন বুঝতে পারে এর সাথে কথা বার্তা বলে অর্থনৈতিকভাবে সিদ্ধিলাভ হবে না তখন তাকেও শাসানো হয়। নিরুপায় হয়ে মুক্তাদির হলে ফিরে তার কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে হলের সাধারণ ছাত্রদের অভিভাবক হল প্রভোস্ট এর সাথে দেখা করতে যায়। প্রভোস্ট ঘটনার দায় দায়িত্ব নিতে পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন প্রক্টরের কাছে যেতে। শুরু হয় এক প্রশাসনিক ছিনিমিনি খেলা। এমনকি একপর্যায়ে আক্ষরিক অর্থেই ভাগিয়ে দেন নিরুপায় ছাত্রদের। হতাশ হয়ে তারা ফিরে যায়।

দুপুরের দিকে ঘটনা সম্পর্কে ভাসা ভাসা জানতে পেরে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা আবু তারেক সোহেল প্রক্টর এর সাথে যোগাযোগ করার পর উদ্ধত ভঙ্গিতে প্রক্ট্রর সাইফুল ইসলাম খান উদ্ধতভাবে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “তোমরা কি আমাকে একটা ছিনতাইকারীর জন্য রিকোয়েস্ট করতে বল নাকি?”

কাদেরের বিভাগের ছাত্ররা দেখা করতে গেলে প্রক্টর বলেন-‘তোমরা এটা নিয়ে কোন ইস্যু তৌরি করতে পারবে না।‘ তিনি দাবি করেন পুলিশ, এন এস আই ডিবি থেকে রিপোর্ট আসছে। তিনি বলেন, “তার লজ্জা লাগছে পুলিশকে ফোন করতে।“

যেহেতু কাদেরের চরিত্র সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না(পুলিশের চরিত্র নিয়ে তার মনে কোন প্রশ্ন নেই!!) সুতরাং হল প্রভোস্টের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কিছু করা যাবে না- এই ধরণের যুক্তির উপস্থাপন করেন তিনি। অথচ পরবর্তীতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ দেখা করতে গেলে চাপের মুখে তিনি বলেন হল প্রভোস্ট তাকে সময়মত জানালে হয়ত কিছু একটা করা যেত। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র গ্রেপ্তার হয়ে ১২ ঘন্টা নির্যাতিত হবার ও ২টি মামলা দেয়া হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত তিনি কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন। অথচ ঘটনার খবর শাহবাগ থানায় সকালেই পাঠানো হয়েছিল। ভাইস চ্যান্সেলর এই পুরো ঘটনার দায় চাপিয়ে দেন প্রক্টর বা তার অধস্তনদের উপর।


হল ছাত্রলীগের একটাই মাথাব্যাথা-কোন আন্দোলন চলবে না


১৭ জুলাই রাতে হলের সাধারণ ছাত্রেরা প্রভোস্টের সাথে দেখা করতে যায় প্রায় ২০-২৫ জন মিলে। কিন্তু যাবার আগেই হল ছাত্র লীগের মুখোমুখি হতে হয়। তারা তখন বলে আগে ডিপার্টমেন্টে যেতে। কিন্তু পরের দিন মামলা কোর্টে উঠবে এমন খবর পাওয়ার পরে রাত ২টায় সিদ্ধান্ত হয় হল প্রভোস্টের সাথে দেখা করতেই হবে। তখনই প্রভোস্টের বাসভবনের লনে অবস্থান নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও প্রভোস্ট দেখা করেননি সাধারণ ছাত্রদের সাথে। উল্টো তিনি হলের ছাত্র লীগের নেতাদের খবর দিয়ে নিয়ে আসেন।ফজলুল হক হল ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন এসে সাধারণ ছাত্রদ্বের কাছে কৈফেয়ত চান এতো রাতে কেন স্যারকে বিরক্ত করা হচ্ছে? পরের দিন মামলার কথা জানালে সুমন বলেন-‘এরকম একটা সন্দেহভাজন ছাত্রের জন্য তোমরা কি আশা কর?’


বিভাগের শিক্ষকদের নিরবতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক লজ্জাজনক অধ্যায়


১৬ তারিখ সকালেই কাদেরের গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে বিভাগের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে। বিভাগের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ চৌধুরীর সাথে ছাত্ররা যখন পরে এই বিষয়ে আলোচনা করতে যায় তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, ‘এটা বিভাগের বাইরের ঘটনা, আমার কিছুই করার নেই।‘ বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর ইশতিয়াক মাহমুদের সাথে বিভাগের ছাত্ররা দেখা করতে গেলে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পড়াশোনা কর, এগুলা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।‘ পরবর্তীতে দেশে ফিরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড। আনোয়ার হোসেন আইনি পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু তিনি বিভাগের ছাত্রদের আন্দোলন মিছিল-মিটিং করতে সরাসরি নিষেধ করেন। বিক্ষোভে ফেটে পড়া ছাত্রছাত্রীদের তিনি কোন ধরণের স্লোগান উচ্চারণ করতে নিষেধ করেন। তার নির্দেশে কাদেরের মুক্তির দাবিতে বিভাগের দেয়ালে লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়।


গড়ে ওঠে আন্দোলন


একধরণের ঘোলাটে পরিস্থিতির মাঝে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ সপ্তাহব্যাপী লাগাতার মিছিল-সমাবেশ-মানববন্ধন করে একপর্যায়ে পুরো বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উন্মোচন করে। কিন্তু পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও হলে অবাধ দখলদারিত্বের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনে যোগ দিতে পারে না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর সরকারী ছাত্র সংগঠনের স্বার্থগত অবস্থানের কারণেই পরস্পর পরস্পরকে রক্ষা করার সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এই দুষ্টচক্রের শিকার মাত্র।


ব্লগ ও ফেসবুকে নিন্দার ঝড়


কাদেরের ঘটনা দেশের মানুষ এমনকি পাশের হলের ছাত্ররা পর্যন্ত জানতে পারে ২০ তারিখে বা তার পরে ব্লগে বেনামে লেখা কিছু ব্লগারদের মাধ্যমে। ফেসবুকেও এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধনের আগ পর্যন্ত দেশের প্রধাণ মিডিয়াগুলো ছিল আশ্চর্য নিরব।


মুক্তি

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান কাদেরের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। সাস্পেন্ড করা হয় খিলগাঁ থানার ওসি সহ দুই এস আইকে। অবশেষে দুই মামলায় জামিন পেয়ে সে তারিখ মুক্ত হয়।

যে কথা না বললেই নয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে যে ঘটনা গুলো ঘটে যাচ্ছে তার জন্য দায়ী কোন ব্যক্তির কোন শাস্তি তো দূরের কথা গায়ে আঁচড়ও পড়ছে না। এফ. রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলির মাঝে পড়ে নিহত ছাত্র আবু বকরের মৃত্যর দায় কি প্রক্টরের নয়? প্রতিটি হলে অস্ত্রের উপস্থিতি নিরবে সহ্য করার ফলাফল এই ধরণের হত্যাকান্ড। আবার পুলিশকে কি নির্দেশ দিলেন প্রক্টর যে সন্ত্রাসীদের কিছু না হলেও একটা সাধারণ ছেলে মাথায় পুলিশের টিয়ার শেল লেগে (তদন্ত কমিটির রিপোর্ট থেকেও এর চেয়ে বেশি কিছুই জানা যায়নি)নিহত হল? আবু বকর বা আব্দুল কাদেরের ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো নয়ই বরং এগুলো সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় তথা সমাজ-রাষ্ট্রের চরিত্রের প্রধাণ ফ্যাসিবাদি চরিত্রকে চিনহিত করে। কোন তথ্য ছাড়াই প্রক্টর কেন কাদেরকে ছিনতাইকারী বলে ধরে নিলেন? প্রক্টরের সময়মত একটা ফোনই কাদেরকে এই নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারত। প্রভোস্ট হলের ছাত্রদের দায়িত্ব তো নিলেনই বরং জানিয়ে দিলেন তার সত্যিকারের মিত্র কে। এদের দায়িত্বে অবহেলার কি কোন বিচার হবে আদৌ কোনদিন? বিভাগের শিক্ষকগণ চরম ঔদাসিন্য দিয়ে অবমাননা করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের ইতিহাসকে। এই ঘটনায় হয়ত ফৌজদারি মামলা করা যায় না কিন্তু নির্ধারিত হয়ে যায় একজন শিক্ষককে ছাত্র-ছাত্রীরা কি চোখে দেখবে। ক্লাসরুমের বাইরের এক জীবন্ত সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকগণ বড় বিজ্ঞানী-দার্শনিক-সাহিত্যিক হবার স্বপ্ন জাগাতেন শিক্ষার্থীদের মাঝে। বর্তমান ঘটনায় শিক্ষকদের ভূমিকা কি ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে দেয়াল তুলে দেবে না?


চিরায়ত ভূমিকায় ছাত্রলীগ

যখন কাদের নির্দোষ প্রমাণিত হয় তখন হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা রটিয়ে দেয় কাদের শিবির কর্মী সুতরাং তারা কাদেরের জন্য কোন দায়িত্ব নিতে পারবে না। প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অনেক পুরনো কৌশল প্রয়োগ করে তারা।

আবু বকর যে দুই গ্রুপের গোলাগুলির মাঝে পড়ে নিহত হয় তার এক গ্রুপের প্রধাণের শাস্তি হলেও আরেক গ্রুপের প্রধাণ মেহেদী হাসান কিন্তু ঠিকই পুরস্কৃত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। তেল-গ্যাসের আন্দোলন থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসগুলোতে সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে বাধা হিসেবে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লোডশেডিং এর প্রতিবাদে প্রশাসনের মদদে সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভূরি ভূরি নমুনা দিয়ে এই লেখা লম্বা করার কোন দরকার আপাতত নেই।


একটু বিবেচনা করে দেখুন

লিমন যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত তাহলে কি হত বলা কঠিন। তবে যে ছাত্র-গণবিক্ষোভের কিংবা আন্দোলনের মাধ্যমে বিচার আদায় করে নিয়ে আসার কল্পনা সাধারণ ভাবে আমাদের মনে আসে, সেই বাস্তবতা নিয়ে আজ প্রশ্ন তোলাই যায়। এই ধরণের ঘটনায় যে প্রতিক্রিয়া হবার কথা, বলা হচ্ছে তার শতভাগের একভাগও হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মকেন্দ্রীকতার প্রবণতা কি মাত্রায় ঔদাসিন্য সৃষ্টি করেছে তার চাক্ষুশ প্রমাণ দিয়ে গেল আব্দুল কাদেরের ঘটনা। তারপরও জনগনের শেষ ভরসার জায়গা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশে বিরাজমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আলো দেখাবে এমনটাই তো জনগণের আশাবাদ। আরেকজন আব্দুল কাদের বা লিমনের সৃষ্টি ঠেকাতে হলে এখন থেকেই কি একটু সক্রিয় হওয়া দরকার নয়?


[ছবি কালের কণ্ঠের]
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×