১০ ডিসেম্বর ২০১১
বছরের দ্বিতীয় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ
চন্দ্রগ্রহণের ঘটনাক্রম (বাংলাদেশ সময়ানুযায়ী)-
চাঁদ প্রচ্ছায়া অঞ্চলে প্রবেশ করবে-বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে
আংশিক চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে- সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু- রাত ৮টা ৬মিনিট ১৬ সেকেন্ডে
চূড়ান্ত গ্রহণ সংঘটিত হবে- ৮টা ৩১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে
পূর্ণ গ্রহণ শেষ হবে – রাত ৮টা ৫৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে
আংশিক গ্রহণ শেষ হবে- রাত ১০টা ১৭ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে
প্রচ্ছায়া অঞ্চল থেকে বের হয়ে আসবে- রাত ১১টা ৩০ মিনিটে
আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০১১ সংঘটিত হতে যাচ্ছে বছরের দ্বিতীয় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। গত ১৬ জুন ২০১১ ছিল বছরের প্রথম পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। এবারের চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল থেকে সূর্যাস্তের পর থেকেই।বাংলাদেশের সকল জেলা থেকে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা যাবে (আকাশ মেঘমুক্ত থাকার উপর নির্ভরশীল)।
void(1);
যখন চাঁদ-সূর্য-পৃথিবী একই সরলরেখায় ও একই সমতলে চলে আসে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে চাঁদকে আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তবে সেই ঘটনাকে আমরা বলি চন্দ্রগ্রহণ। যদি চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যায় তবে আমরা তাকে বলি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। চাঁদ যেহেতু শুধুমাত্র রাতের বেলাই দেখা সম্ভব সুতরাং পৃথিবীর যে অংশে রাত কেবল সে অংশ থেকেই এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী থেকে একজন পর্যবেক্ষকের কাছে মনে হতে পারে চাঁদ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেলো এবং কোন কিছুর পেছন থেকে বের হয়ে আসলো।
সাধারনত চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় চাঁদ প্রচ্ছায়া অঞ্চলে প্রবেশের সময়। এই সময় এক ধরণের হালকা ছায়া পড়ে চাঁদের উপর। চাঁদের রুপালী আভা ম্লান হয় কিছুটা। ছবিতে এই অঞ্চলটা দেখানো হয়েছে। ধীরে ধীরে চাঁদ যখন মূল ছায়া অঞ্চলে প্রবেশ করে তখন হালকা লালচে ছটা দেখা যায় চাঁদের এক পাশ থেকে আরেক পাশ পর্যন্ত। এক পর্যায়ে পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায় যখন চাঁদের উপর কোন আলো আর পড়ছে না সেই মুহূর্তে। প্রায় পুরোপুরি মিলিয়ে যায় চাঁদ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালো করে পর্যবেক্ষন করলে আবছা আবছা চাঁদের উপস্থিতি বোঝা যায়। পূর্ণ গ্রহণ এবার সংঘটিত হবে ৫১ মিনিট ৮ সেকেন্ড সময় জুড়ে। তার পরেই আবার চাঁদ বেরিয়ে আসবে পৃথিবীর ছায়া থেকে। কিন্তু ঐ অদ্ভুত লালচে ছটা সবসমই কৌতুহলী করে তুলেছে মানুষকে। প্রশ্ন হল, এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি?
void(1);
এই অদ্ভূত লালচে রঙের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মানুষ বহুকাল বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক চিন্তার আস্রয় নিয়েছে। চাঁদ যখন ঘনছায়া(আমব্রা) অঞ্চলে(ছবি-১ দ্রষ্টব্য) প্রবেশ করে তখনও তা পরোপুরি অন্ধকার হয় না কারণ পৃথিবী ঘন বায়ুমন্ডল সূর্যের আলোকে পুরোপুরি শোষণ না করে বরং বিচ্ছুরিত করে। সবচেয়ে বেশি বিচ্ছুরিত করে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে(যেমন বেগুনী) আর কম বিচ্ছুরিত করে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো(যেমন লাল)। ফলে যে আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌছায় তার মাঝে লাল আলো থাকে সর্বোচ্চ পরিমানে( একই কারণে আমরা সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখি)।
এবারে চন্দ্রগ্রহণ এশিয়া, আস্ট্রেলিয়া থেকে পূর্ণাংগরুপে দেখা যাবে। আংশিকভাবে দেখা যাবে পূর্ব ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে। ২০১২ সালের ৪জুন বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে শুরু হবে আরেকটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এটি বাংলাদেশের আকাশ থেকে দেখা যাবে না। ২০১২ সালের আরেকটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ প্রচ্ছায়া অঞ্চলে সংঘটিত হবে ২৮ নভেম্বর রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে শুরু হয়ে। এরপরে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে ২০১৪ সালের এপ্রিলের ১৫ তারিখ ও অক্টোবরের ৮ তারিখ।
একসময় চন্দ্রগ্রহণ-সূর্যগ্রহণ নিয়ে অনেক সংস্কার বা ভীতি ঢালাওভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে লক্ষ্য করা যেত। এসময় জলস্পর্শ না করার রীতি এখনো প্রচলিত রয়েছে । ‘গ্রহণ’ শব্দটার মাঝেই মিশে আছে একধরণের অশুভ অনুভূতি। বর্তমানে টেলিস্কোপ-ইন্টারনেটের সহযলভ্যতার যুগে তা কতটুকু কেটেছে সে কথাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এখনো মানুষ ভাগ্য জানবার জন্য শরনাপন্ন হয় জ্যোতিষ বা গণকের। কপালের লিখন খন্ডানোর জন্য অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিও আঙ্গুলে পাথরের আংটি ব্যবহার করছেন। চাবিজ-কবচ আর ওঝার দৌরাত্ব আজো বিরাজমান। আমরা এই অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমাজ থেকে নির্মূল করতে চাই। প্রাকৃতিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে সেই দৃষ্টিভঙ্গি সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।
একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের তাৎপর্য এখানেই যে প্রকৃতির সকল ঘটনাই একটা নিয়মের অধীন, সভ্যতার অগ্রগতির ফলে মানুষ সেই নিয়মটাকেই ক্রমাগত আয়ত্ব করে চলেছে। চন্দ্রগ্রহণের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে একসময়ে যে মানুষ উন্মাদের মতো আচরণ করতো সেই মানুষই বিজ্ঞানের কল্যাণে নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারে আগামী এক হাজার বছরে এই ঘটনা কবে ঘটবে, কখন ঘটবে বা কতক্ষণ সময় ধরে ঘটবে। সুতরাং কোন অন্ধতা বা পরম শক্তির মুখাপেক্ষী হবার দিন আর নেই। বিজ্ঞানই আমাদের সকল পারিপার্শ্বিক ঘটনার ব্যাখ্যা দিবে।
সারাদেশে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পসমূহ-
জগন্নাথ হল মাঠ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
যোগাযোগ-সাদাত হাসান নিলয় ০১১৯১৮১৫১৫০
ময়মনসিংহ-
ময়মনসিংহ প্রকৌশল কলেজ,
রহমতপুর মোড়, খাগডহর
শুভ মারাক
০১৬৭০৩১৩৪৫৩
বরিশাল-
বেলজ পার্ক,বরিশাল
ইমরান হাবিব রুমন
০১৭১১২২৭৫১১
দিনাজপুর- সবুজ
০১১৯৭১৮৩৩৫৮
চট্টগ্রাম-
সেন্ট প্লাসিড স্কুল মাঠ
সত্যজিৎ বিশ্বাস
০১৮১৯৫৪৫৯৭৫
সিলেট- জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য
০১৭১১৪৪০২৬৫
বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ
যোগাযোগ-০১১৯১৮১৫১৫০
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



