১। মাস্টার্স সার্টিফিকেট
২। অনার্স সার্টিফিকেট
৩্ মাস্টার্স মার্কসিট
৪। অনার্স মার্কসিট
৫। এইচএসসি সার্টিফিকেট
৬। এসএসসি সার্টিফিকেট
৭। এইচএসসি মার্কসিট
৮। এসএসসি মার্কসিট
৯। কম্পিউটার সার্টিফিকেট
১০। মাস্টার্স পরীক্ষার প্রবেশপত্র
১১। জাতীয় পরিচয়পত্র
১২। জাতীয় সনদপত্র (চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট)
নিজের জন্য নয়, জনৈক বন্ধুর ডকুমেন্ট এসব। সে এর আগে একবার ডাকযোগে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেইসব ডকুমেন্ট নাকি এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ পায়নি। আজ ন্যাম ভবনে গিয়ে জানতে পারলাম, যাদের ডকুমেন্ট জমা হয়নি এবং পরীক্ষার প্রবেশপত্র পায়নি তারা আগামীকাল (২৫আগস্ট) ১২টার মধ্যে পুনরায় জমা দিতে পারবে।
নিবন্ধন পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে উপর্যুক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়! যদিওবা এর আগে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে অনলাইনে আবেদনও করতে হয়।
আমার বন্ধু থাকে চট্টগ্রাম। বেচারা একরাতের মধ্যে কি করবে? এর আগে ডাকযোগে পাঠানো যে ডকুমেন্ট ২০দিনেও কর্তৃপক্ষ পায়নি, এই একরাতে কিভাবে তা পৌঁছবে? তাই সে আমাকে তার সব ডকুমেন্ট মেইলে পাঠায়। ডাউনলোড করে তা প্রস্তুত করে রাখলাম। আগামীকাল জমা দেয়ার জন্য ন্যাম ভবনে গিয়ে লাইন ধরতে হবে!
এখন কথা হলো, একটি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে কেন এতোগুলো ডকুমেন্ট দরকার হবে? তাছাড়া এটি চাকরি নির্ধারণী কোন পরীক্ষাও নয়।
বাল্যকাল থেকে যৌবনের পুরো সময়জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী সম্ভবত হাজারের বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়। জীবনের অর্ধেকটা সময় মূলত শুধু ডিগ্রি নিতে গিয়েই শেষ হয়ে যায়। তার মাঝে আরো কতো যে পরীক্ষা তাকে দিতে হয় তা মোটামুটি সবারই জানা। এরপরও একটি বেসরকারি কলেজ কিংবা স্কুলে চাকরি নিতে এসব নিবন্ধনের কেন দরকার হবে?
তাছাড়া নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করলেই যে চাকরি হয়ে যাচ্ছে তা নয়। কোন কলেজ কিংবা স্কুলে নিয়োগ পেতে হলে আবারও দিতে হয় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। তবুও হবে না। এরপর ধরনা দিতে হয় কোন মামা-চাচা কিংবা পলিটিক্যাল নেতার কাছে।
মেনে নিলাম নিবন্ধন পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু যে ছাত্রের জীবনের সকল ডিগ্রি অর্জনের সার্টিফিকেট জমা নেয়া হলো, তার আবার সকল মার্কশিট, চেয়ারম্যান সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, কম্পিউটার সনদ, সর্বশেষ কোন পরীক্ষা অংশগ্রহণ করার প্রবেশপত্র নেয়া হবে কোন যুক্তিতে? ডিগ্রি অর্জনের সার্টিফিকেট কিংবা একটি জাতীয় পরিচয়পত্রই কি দেশের একজন নাগরিক পরিচয়ের জন্য যথেষ্ট নয়? যদি তা নয় হয় তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র কিসের জন্য দরকার?
নিবন্ধন পরীক্ষার কোন গুরুত্ব আমার কাছে নেই। তারপরও বন্ধু মহলের বিশেষ অনুরোধে অনিচ্ছা সত্বেও একবার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অনলাইনে ফরম পূরণ করে টেলিটক যোগে টাকা পাঠানোর পর যাবতীয় ডকুমেন্ট পাঠানোর সময় যে কখন চলে গেলো তা খেয়াল করিনি। পরবর্তীতে পুনরায় ডকুমেন্ট পাঠানোর সময় দিলে আমি জনৈক বন্ধুর হাতে দিয়ে তা পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
পরীক্ষা সময় ঘনিয়ে আসে। পরীক্ষার দিন ঘটলো বিপত্তি। হলের ঠিকানা তালাশা করতে করতেই এমসিকিউ অংশের সময় শেষ হওয়ার মাত্র ৮মিনিট পূর্বে প্রবেশ করি। ৮মিনিটে কিভাবে ১০০নাম্বার পূরণ করবো? দ্রুত ২৫টির মতো ভরাট করতেই টাইম শেষ। কর্তব্যরত স্যারকে অনুরোধ করলাম কিছু সময় অতিরিক্ত দেওয়ার জন্য। তিনি আমার অনুরোধে ১০মিনিট সময় বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু হঠাৎএকজন দজ্জাল মহিলা প্রবেশ করে আমার খাতাটা কেড়ে নেয়। বলে, কোন অতিরিক্ত টাইম দেয়া হবে না। আমি অবাক হইনি। 'এদেশের অধিকাংশ মহিলাই এমন কমন সেন্সহীন'।
তখন এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা একত্রে নেয়ার নিয়ম ছিল। লিখিত পরীক্ষার খাতা দেয়া হলো আমাকে। এমসিকিউ পূরণ করতে না পারলে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে কোন লাভ নেই। তাই ভাবলাম অংশ নেব না। বসে বসে ভাবছিলাম কি করা যায়। চিন্তা করলাম, এ পরীক্ষার পাশের সার্টিফিকেট কোন কাজে লাগানো হবে না। মনে হলো, নিবন্ধন পরীক্ষা এদেশের ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থায় আর একটি মস্তবড় ত্রুটি। শিক্ষিত তরুণ নির্যাতনের নয়া কৌশল।
সাদা খাতাটি হাতে তোলে নেই। শুরু করলাম লেখা। লিখতে লিখতে পুরো খাতা শেষ করলাম। তারপর চেয়ে নিলাম অতিরিক্ত পেজ। সবগুলো পেজ কালো করে খাতা জমা দিয়ে সবার আগে হল থেকে বেরিয়ে আসি।
সেদিন কি লিখেছিলাম জানেন? ওপরের বক্তব্যের চেয়ে কঠিন ভাষায় বিশাল একটি প্রতিবাদলিপি।
প্রশ্ন করেছিলাম এই পরীক্ষার যৌক্তিকাতা কি? কেন এতোগুলো ডকুমেন্ট একজন শিক্ষার্থীর জমা দিতে হবে? এতোটা বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পরও কেন এই পরীক্ষা? তার ওপর এটি কোন চাকরির পরীক্ষা নয়। তবে কেন প্রতিটি আবেদনের জন্য অর্ধহাজার টাকা ফরম ফি নিতে হবে?
তীব্র ভাষায় জানতে চেয়েছিলাম, এদেশের শিক্ষিত বেকার তরুণদের কি অপরাধ? তাদের ওপর কেন এমন শোষণ? কেন নির্যাতন?
এ নির্যাতন বৃটিশদের নির্যাতনকে হার মানায়। এ শোষণ-বঞ্চনা-বৈষম্য পাকিস্তানি বর্বরদের শোষণ-বঞ্চনা-বৈষম্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়!
বন্ধ হোক বেকারদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় এই ব্যবসা। নিষিদ্ধ হোক শিক্ষিত অসহায় বেকার তরুণ নির্যাতনের আমলতান্ত্রিক এই প্লাটফর্ম।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



