গত পরশু রাত ১০টা। কেএফসি (কাদের ফুড কর্নার) মুহসীন হলের মাঠ প্রাঙ্গনে বড় ভাইদের সঙ্গে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম। যেখানে ছিলেন কয়েকজন সদ্য চান্সপ্রাপ্ত পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষা ক্যাডার এবং ছাত্র নেতা। তাদের সাথে আড্ডা শেষে আমি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ছোট ভাই আবু রায়হান ফকিরাপুলের উদ্দেশ্যে রিক্সায় উঠি। আমরা যাবো পরদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
টিএসসি পার হয়ে পারমাণবিক শক্তি কমিশনের কাছাকাছি যেতেই দুইজন বাইক আরোহী আচমকা শকুনের মতো করে আমার ব্যাগটা টান মেরে নিয়ে গেলো। আমি স্ট্যাচু হয়ে গেলাম আর আবু রায়হান ঐ ধর ধর চিৎকার করে কিছুক্ষণ দৌঁড়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলো।
দু:খজনক ব্যাপার হলো আমার ঐ ব্যাগে ছিলো একটি ল্যাপটপ (যেখানে আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, লেখালেখি, ছবি ছিলো), চার্জার, দুটি জিন্স প্যান্ট, আমার সবচেয়ে পছন্দের একটি পাঞ্জাবী, একজোড়া জুতা, দুটি টি-শার্ট, মোবাইলের চার্জার, বডি স্প্রে, ব্রাশ, ক্লোজ আপ এবং দুটি বই।
সেইসাথে ছিলো আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যেটি ছাড়া রাতে ঘুমানো দায়। শান্তির পায়রা, জানাল খ্যাত কাপড়......যার নাম 'লুঙ্গি'।
আমার অতি স্বাদের লুঙ্গিটি ছিল 'এটিএম ব্র্রান্ডের। এভাবে ছিনতাই হয়ে যাবে জানলে লুঙ্গিটি পরেই আমি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতাম! অবশ্য তাতেও যে রেহাই পেতাম কিনা সন্দেহ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন পরনের লুঙ্গি ছিনতাই হলেও কিছু করার থাকবে না!
এখানে দুই টাকার শ্যাম্পু চুরি হয়, এখানে ক্যান্টিনের খাবার চুরি হয়, এখানে রুমের বাইরে রাখা জুতা চুরি হয়, এখানে টয়লেটের ব্যবহৃত গ্লাস চুরি হয়, এখানে ছাত্রদের সাইকেল, বাইক, টাকা, মানি ব্যাগ চুরি হয়, এখানে রেজাল্ট চুরি হয়। এখানে সবই চুরি হয়, সবই ছিনতাই হয়।
আমার ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনার পর দুদিনের মধ্যে কমপক্ষে ১২জন শিক্ষার্থী জানালেন তারাও একইভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। অনেকে এসবের জন্য বহিরাগতের দায় দিয়ে এড়িয়ে যেতে চান। কিন্তু আমার এতে সন্দেহ হয় শাহবাগ থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশের কথা শুনে........" আমরা ছিনতাইকারী ধরে নিয়ে আসি, কিন্তু আপনাদের হল থেকে ছাত্ররা এসে তাদের মুক্ত করে নিয়ে যায়"!
আমার আরো সন্দেহ, এখানে কয়েকটি পক্ষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। এখানে রক্ষকরাই ভক্ষক।
আমি নিশ্চিত, এই ক্যাম্পাসে এমন একটি গ্যাং আছে যারা বাইরের ছিনতাইকারীকে সহায়তা করে এবং কিছু ভাগ নেয়।
আজ প্রক্টর স্যারকে পেয়ে ঘটনাটি বললাম। আগেও বলেছিলাম। তখন বলেছিলেন শাহবাগ থানায় গিয়ে অজ্ঞাতনামা মামলা করতে। আজ পেয়ে মামলার কথাটি জানালাম। তিনি আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন কোন সুসংবাদ আছে কিনা। আমি বললাম না। স্যার হাসি দিলেন। কিসের হাসি জানি না!
আসলে এসব এখানে সাধারণ ব্যাপার। চুরি-ছিনতাই, ইভটিজিং, মারামারি দেখতে দেখতে স্যারদের কাছে সামান্য একটি ল্যাপটপ চুরি কিছুই না! কয়েকটি লাশ পড়লেও এখানে তুচ্ছ ঘটনা, বিচ্ছিন্ন ব্যাপার! কিন্তু আমার ল্যাপটপের ভেতরে যেসব জিনিস ছিলো তা যে আমার জীবনের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা যদি তারা বুঝতেন!!
তাছাড়া ছিনতাই যাওয়া লুঙ্গিটাও কি কম গুরুত্বপূর্ণ??
সবাই যখন কর্মব্যস্ত দিন পার করে রাতে শান্তির ঘুম ঘুমাতে যান তখন কি কেউ এই জিনিসটা থেকে দূরে থাকতে পারেন????
সাবধান, লুঙ্গি পরে ক্যাম্পাসে বের হবেন না; ছিনতাই হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না..............
(এটি একটি ব্যাঙ্গাত্বক লেখা)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



