মানুষ শোষণের কারিগরদের বেতন একলাফে দিগুণ বেড়ে গেলো আর মানুষ গড়ার কারিগরদের বেতন-সম্মান দুটোই নষ্ট করা হলো! উপরুন্তু শিক্ষার ওপর আরোপ করা হলো ৭.৫% ভ্যাট!
আজ যারা শিক্ষায় ভ্যাট বসালো এবং শিক্ষকদের বেতন-সম্মান বিনষ্ট করলো একসময় তারাও এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছে। একদিকে তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন নষ্ট করছে, শিক্ষাকে বানাচ্ছে পণ্য এবং জাতি গঠনের কারিগর তথা শিক্ষকদের করছেন নগণ্য-তুচ্ছ-অবহেলা!
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ করেছেন ভালো কথা। তার বোঝা শিক্ষার্থীদের কেন বইতে হবে? তাদের কি অপরাধ? মা-বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে ছেলে-মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করাচ্ছেন এটাই কি তাদের অপরাধ? আমাদের বাবা-মা কি এটিএম বুথ? নাকি কোনো ব্যাংক?
ভ্যাট যদি দিতেই হয় তবে যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে কোটি কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে তারাই দেবে। আপনারা মোটা অংকের বোনাস খেয়ে যাদেরকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন তারা প্রত্যেকে একেকজন বড় বড় ব্যবসায়ী। অনতিবিলম্বে সব ভ্যাটের বোঝা সেইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কাঁধেই চাপান, অসহায় শিক্ষার্থীদের কাঁধে নয়।
তাছাড়া আমি মনে করি, মানুষের মৌলিক অধিকার (অ্ন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বিনোদন) এ কখনো ভ্যাট কিংবা ট্যাক্স বসতে পারে না। মৌলিক অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারই। তার সুষ্ঠু বণ্টন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। প্রত্যেকটি আইনের শাসনের রাষ্ট্রই এই দায়িত্ব পালন করে! যদি তা না করে থাকে তবে তা কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা।
কিন্তু দু:খের বিষয়, আমাদের প্রতিদিন মৌলিক অধিকারগুলোতে ভ্যাট দিতে হয়, ট্যাক্স দিতে হয়। প্রতি বছর ট্যাক্স তোলার মেলা বসে এখানে। কই কখনো তো শুনিনি,মানুষের নিরাপত্তা প্রদানের নিশ্চয়তা মেলা' বসতে? কখনো তো শুনিনি শিক্ষা মেলা বসতে? কখনো তো শুনিনি যে 'আইনের শাসনের মেলা' বসতে, সুশাসনের মেলা বসতে?
এখানে মানুষের জীবনের মূল্যই কোথায়? নিরাপত্তা কোথায়? শিক্ষার মূল্য কোথায়-নিরাপত্তা কোথায়? ভ্যাট-ট্যাক্সের তো ঠিকই মূল্য আছে-নিরাপত্তা আছে!
সাধারণ মানুষের কোনো জিনিস চুরি-ছিনতাই হলে কিংবা কোনো মানুষ গুম হলে কিংবা আক্রান্ত হলে তার সকল দায়দায়িত্ব রাষ্ট্রের-প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসন?? চুরি গেছে? গেছে। ছিনতাই হয়েছে? গেছে। মানুষ গুম হয়েছে? গেছে। খুন হয়েছে? কোন সমস্যা নেই, গেছে! জাস্ট দুয়েকদিন দৌঁড়ঝাপ থাকে, আলোচনা থাকে। তারপর সবকিছুই আড়ালে চলে যায়! তারপর আবরো ঘটে একই ঘটনা......ঘটতেই থাকে........
প্রশাসন তো কারো নিরাপত্তা দিতে পারেই না, অথচ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনে টিয়ারশেল, গুলি ঠিকই ছুড়ছে! এখানে মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে সরকারের বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে নস্যাৎ করে দেয়া হয়! শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতকরণের এই আন্দোলনকেও অনেকে নষ্ট রাজনীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে নস্যাৎ করে দিতে উঠেপড়ে লাগে! লজ্জা হয়, কষ্ট হয়- দু:খ হয়। এই নষ্টামির শেষ কোথায়?
আমার শঙ্কা হয়, এভাবে যদি চলতে থাকে আগামীতে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে দেবে। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ছেড়ে চোর-বাটপার-ছিনতাইকারীর পথ ধরবে!
আমার প্রশ্ন, ২০২১ এবং ২০৪১-এ যে উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে শিক্ষা খাত এবং শিক্ষকদের অবহেলা-অসম্মান করে কি তা বাস্তবায়ন সম্ভব?
আমার প্রশ্ন, বখলম মন্ত্রী-এমপিদের দিয়েই কি তবে এইদেশ এগিয়ে যাবে?? ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ আমলাদের দিয়েই কি আমার দেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে? বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ কি তবে এসব নষ্টরাই গড়তে পারবে??
যদি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন সেইসব ফালতু স্বপ্ন মাথা থেকে দ্রুত মুছে ফেলুন!
শিক্ষা খাতকে অবহেলা করে কোন সভ্যতার অগ্রগতি হয়নি, হবেও না। শিক্ষিত সমাজই পারে একটি সুসভ্য রাষ্ট্র গঠন করতে, নিশ্চিত করতে আইনের শাসন.......
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



