somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

★শেষমানব★
---------------------

খুব ভোরে উঠে দিম্যান ফড়িং গুনতে শুরু করেছে। ফড়িং গুলো রং বেরঙের। লাল ফড়িঙ এর আধিক্যতা আজও বেশী। লাল রং দিম্যান একটুও সহ্য করতে পারেনা।মানুষের রক্তের রং লাল।তার মনে হচ্ছে ফড়িঙ নয়, রক্তের খেলা জমে উঠেছে। চিৎকার করে শ্যারনকে ডাক দেয় দিম্যান! : শ্যারন!!! হোয়াট দা হেল, হেয়ার!!!? : সরি, দিম্যান আমি বুঝতে পারছিনা আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?? : তুমি কি দেখতে পাওনা, রেড ইজ এভরিহোয়ার। দিস ইস বুলসিট। রিমুভ ইট। : দুঃখিত দিম্যান। ফড়িঙ এর নতুন ঝাঁক এখনও তৈরী হয়নি। আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে দিম্যান। : লিভ দি প্লেস রাইট নাও।(অত্যন্ত চেঁচিয়ে). শ্যারন চলে যায়। দিম্যান বুঝতে পারে এইসব যন্ত্র দিয়ে কিচ্ছু হবেনা। তারা কি আর ফিলিংস বোঝে! তারা শুধু দিম্যানের হুকুমের গোলাম। বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয় টা তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।কিন্তু কার কাছে সে যাবে! কাকে সে মনের কষ্ট তুলে ধরবে! পুরো পৃথিবীতে সেই যে শেষ জীবিত মানব।

সে ছাড়া পৃথিবীতে যা আছে সব যন্ত্র, সব অমানুষ, প্রাণহীন যন্তু। কৃত্রিম গাছ লাগানো আছে সমস্ত শহরের ওলিগলিতে। সেগুলো থেকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন বের হয়। সবখানের অক্সিজেন এর পরিমান সমান। স্বাভাবিক বাষ্পের চেয়ে সামান্য বেশী অক্সিজেনের শতকরা পরিমান,প্রায় শতকরা ২৫ ভাগ। কৃত্রিম ওজন স্তর বানানো হয়েছে।

যখন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ মারা যায় তখন ওজন স্তরের ৫০ভাগই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। হিমালয় ধ্বসে গিয়ে মহাপ্লাবন হয়ে ছিল। রেড ডেভিল নামক এক সাইক্লোনে ৭০০ কোটি মানুষই মারা যায়। বেঁচে ছিল শুধু দিম্যান। কারণ এই মহাদূর্যোগে সে পৃথিবীতে ছিলনা। মহাকাশ গবেষণায় মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সে যাত্রাও খুব একটা সফল হয়নি। দুই জন সঙ্গীর অক্সিজেন ট্যাঙ্কে ফাটল ধরে মারা যায়। দিম্যান কোনমতে পৃথিবীতে বেঁচে ফিরে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। পুরো মরুভূমি হয়ে ছিল সমস্ত পৃথিবী। স্পেসশিপে কাটিয়েছে দিনের পর দিন। কাজ করেছে কিছু প্রাণহীন রোবোর সাথে। তার শহরের বিস্তার এখন ১৪ হাজার কিলোমিটার।

বয়স এখন ৪৫ এর কাছাকাছি হবে। জীবন যৌবনের প্রায় শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে দিম্যান।এ যান্ত্রিক জীবনে তার সঙ্গীর অভাব নেই। রাত হলেই রোবোনারীরা চলে আসে ঘরে। নৃত্য দেখায়। জৈবিক চাহিদা মেটায়। কিন্তু অনুভূতিহীন যন্ত্রগুলো তার মনের চাহিদা মিটাতে পারেনা। আর কতদিন এভাবে? সে পুরো ভেঙ্গে পড়ে। হাতে পটাসিয়াম সায়ানাইড ধরে ভাবে আজকেই শেষ করে ফেলবে সব। কি দরকার তার এই পৃথিবীতে? মাথায় তাজ নিয়ে সে কিসের উল্লাস করবে? হঠাৎ বার্তা আসে তার কম্পিউটারে। : (ধাতব কণ্ঠে) দিম্যান,আপনার জন্য একটি সুসংবাদ আছে। অনুভূতি সম্পন্ন একটি নারীরোবো বানাতে সক্ষম হয়েছেন আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রফেসর রোবো ন্যারাল্ড। আজ রাতে রোবো ন্যারাল্ডের বাসায় আপনার নিমন্ত্রণ। ধন্যবাদ।

ধ্যাৎ। আবার এই সব রোবোনারী। ফিলিংস না কচু থাকবে। মনে মনে ভাবে দিম্যান।

বিকেলে সে বেড়িয়ে পরে। তবে ন্যারাল্ড এর বাড়ির উদ্দেশ্যে নয়। প্রাণের খোঁজে, কোথাও কোন প্রাণ তাকে একমাত্র শান্তি দিতে পারে। তার তৈরীকৃত ব্লাড সেনসিটিভ যন্ত্র হাতে নিয়ে সে খোঁজ করতে লাগল। কারণ সে জানে সে মারা পড়লে সমস্ত মানব সম্প্রদায় বিলীন হয়ে যাবে। কোনো ব্যবস্থা তো তাকেই করতেই হবে। সারাদিন ঘুরে কোন প্রাণের সন্ধান মিললনা। নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরল দিম্যান। এসেই দেখে রেড সিগন্যাল জ্বলছে তার কম্পিউটারে। রিসিভ করাতেই ভেসে উঠল আবার সেই ধাতব স্বর।

: দিম্যান, আপনি কোথায়? আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা কেনো!! সিগন্যাল ছাড়া আপনি কেনো বাহিরে গিয়েছেন? আমাদের নেটওয়ার্ক ডাউন হয়ে গিয়েছে। আপনার চোখ আমাদের পাসওয়ার্ড। আমরা সিস্টেমে ঢুকতে পারছিনা। আপনি অতিসত্তর আপনার ক্যাপসুলে প্রবেশ করুন। লগইন করুন।

সারাদিন বাহিরে ঘুরে দিম্যান অনেক টায়ার্ড। ক্যাপসুলে প্রবেশ না করেই ঘুমিয়ে গেছে। ওদিকে রেড এলার্ম বেঁজেই যাচ্ছে। আজ মডুলেটর দিম্যানকে রঙিন স্বপ্ন দেখাল। এই ২১৫০ সালে একটি লাল শাড়ি পড়া মেয়ে কপালে লাল টিপ দিয়ে বসে আছে বধু বেশে। যেনো দিম্যানের অপেক্ষা করছে সে। দিম্যান এগিয়ে গেলো মেয়েটির কাছে। মেয়েটি লজ্জা পেলো। স্বপ্নের মধ্যেই এক জীবন্ত অনুভূতি তার শরীরে আবেগের ঝড় বয়ে দিল।

: তুমি কে মেয়ে?? [স্বপ্নে দিম্যান বলল] : আমি আপনার কল্পনা, দিম্যান। : তার মানে তুমি সত্য নও? : আমি সত্য আবার সত্য নয়! : এ কেমন কথা? তুমি খুলে বলো। : আমি আপনার প্রাণের সন্ধানের চিন্তা থেকে উদ্ভুত কিছু এলোমেলো কল্পনার সমষ্টি। : আমি কি স্বপ্ন দেখছি? : না আপনি মধ্যাবস্থায় আছেন। : আমি তোমার কথার আগামাথা কিছুই বুঝছিনা। প্লিজ ক্লিয়ার করো। : আমি কে তা জানা এখন জরুরী নয়, আপনি ক্যাপসুলে সাইন ইন করুন। পরিস্থিতি আশংকাজনক। আপনি আসলে অর্ধমৃত মানুষ, আপনাকে রোবো ন্যারাল্ড ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। আপনি যে চলাফেরা করেন তা প্রোগামিং এর মাধ্যমে, আপনি আজ সিগন্যাল এর বাইরে গিয়ে অনেক ভুল করেছেন।আপনাকে বাঁচিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আপনার
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×