somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরুকাহিনী

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লিকলিকে, হাড় জিরজিরে, পাছা সরু;
কিনেছি রে ভাই এক খানা দেশী গরু।।

ভাবতেছিলাম ছোটখাট দেশী পশু, তেমন জ্বালাবে না। গোল গোল চোখ দিয়া ড্যাব ড্যাবাইয়া তাকাইয়া মায়া বাড়াবে। বাড়ি নিয়া গিয়া - গোসল দিয়া ঘাস পাতা খাওয়াবো। ভুষি মাড় ইত্যাদি দিয়া যত্নআত্তি করবো। খড়বিচুলি মুঠি কইরা নিয়া নিজের হাতে খাওয়ায় দিবো - একটা মহেশ মহেশ ভাব আসবে। গফুরের মতো মনটা আর্দ্র হইয়া উঠলো - নিজের মধ্যে বেশ গফুর গফুর একটা ভাব চইলা আসছিল।

প্রথম কিছুটা পথ গরু সাব বেশ ভালোই ছিলেন। নিতান্ত শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট নিরীহ প্রাণী। অবলা অবলা দৃষ্টিতে তাকায়। তাড়া দেয়া লাগে না, নিজেই সাথে সাথে চইলা আসে। মাঝপথে পেছন থেকে একটা গাড়ির বেমক্কা প্যাপ শুনে এক লাফে গরু নিজেই গাড়ি হইয়া উঠলো।

ভাই রে ভাই! গরু কিনছি না ঘোড়া কিনছি - সেইটা বুঝার আগেই পঙ্খীরাজের গতি লইলো গরু ডা!! নিজেরে সামলামু নাকি গরু সামলামু - লগের লোকজন আগেই পিছায় পড়ছে। কিন্তু হৃদয়ে সদ্য জাগা গফুর হাতের দড়ি ছাড়লো না। (আসল কথাঃ হাতে দড়ি প্যাঁচায় গেছিলো।)

ম্যালা কষ্টে এবং ভারী শরীরের গুণে লিকলিকে গরু তথা পঙ্খীরাজটারে থামাইলাম (জীবনে পরথম এই অধমের বেশি ওজন কুনু কাজে আসিলো!)। ইতিমধ্যে সাথের লোকজন হুড়মুড় কইরা আইসা দড়ি হাত থেকে নিয়া এই ধাওয়া খাওয়া গফুররে রেহাই দিলো।

পিতাজি জ্ঞান দিলেন, "জানের চে গরুর দাম বেশি না রে ব্যাটা!! এমনে গরুর সাথে কেউ দৌড়ায়?!" এখন বাপেরে তো আর বলা যায় না যে গরুর দড়ির আরেক মাথায় প্যাঁচ খাইছিলাম। এমনেই গরু গরু কয়, এরপর কইবো হাটে গেছিলাম একটা গরু আনতে - আনসি এক দড়িতে দুই গরু; একটা মোটা আরেকটা সরু!! ;)

গরুটার জন্য মায়া লাগতেছে, কোন গফুরের আঙ্গিনা - গোয়াল খালি কইরা নিয়া আসলাম কে জানে?! হয়তো সন্তানসম যত্নে পালতো গরুটারে। গরুটারে গোসল দিয়া খাওয়াইলাম। একটু দুষ্ট পোলাপাইনরে মা বাপ ক্যান বেশি ভালবাসে সেইটার এক কণা বুঝলাম। ভালো জ্বালাইছে তো, আবার ঠাণ্ডা হইয়া পাশেও ঘেঁষতেছে। আদর এ পাইবে না তো কুন গরু পাইবে?! ছোটবেলার কথা মনে পড়লো, একসময় গরু দেখলেই মহেশ মহেশ লাগতো। প্রায়ই কোরবানির আগে ভাবতাম, এই গরুটারে কোরবানি না দিলে হয় না?! অনেকদিন পর আবার সে রকম মনে হইলো!!

মহেশ মহেশ ভাবওয়ালা গরুটার পাশে নিজেরে গফুর গফুর লাগতেছে।
তা লাগুক, তবু গৃহীত হউক এই আত্মত্যাগ।


গরুকাহিনী
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাস ডাইরিঃ ২য় পর্ব

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:০৮



স্বপ্ন সত্যি হবার এক বছর।
আগস্ট ২০২২,
গতবছরের এই অগস্ট মাস ছিলো জীবনের কঠিনতম মাস গুলির একটা।
কতটা বিষণ্ণা, মর্মান্তিক, কঠিন ছিলো এই মাস এটা আমি জানি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেদিনও বৃষ্টি ছিল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩৯

ছবিঃ আমার তোলা।

ওরা আসে। হ্যাঁ অবশ্যই আসে।
গভীর রাতে। তখন চারিদিক অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকা সমানে ক্লান্তিহীন ভাবে ডাকতেই থাকে। পাতায় পাতায় ঘষা লেগে মিহি একটা শব্দ হয়। বইতে থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় বেলায় - ২৬

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৪৮

ভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে গিয়ে বেশ কিছু সূর্যাস্তের ছবি আমি তুলেছি আদিতে, এখনো তুলছি সুযোগ পেলেই। সেই সমস্ত সূর্যাস্তের ছবি গুলি বিভিন্ন সময় ফেইসবুকে শেয়ার করেছি। সেখান থেকে ৫টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৮ম শ্রেণি পাশ নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে হিরো আলম কেন এমপি হতে পারবে না?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:০৫


বগুড়া ৪-৬ আসনে নির্বাচন হলো। সম্ভাবনা জাগিয়েও হিরো আলম স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। ওনার অভিযোগ ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। ওনাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওনি বলছেন, ওনার মতো অশিক্ষিত লোককে স্যার সম্ভোধন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্ক্সের অবৈধ সন্তান.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৫১

মার্ক্সের অবৈধ সন্তান.....

শ্রেণি-সংগ্রামের তত্ত্বকথায় যিনি প্রবাদপুরুষ, তিনি বাড়ির পরিচারিকার কাছ থেকে ‘ফায়দা’ নেবেন, চরম শত্তুরেও তা মানতে চাইবে না। কিন্তু ইতিহাসের বড় একটা অংশ বলছে, ঘটনা কতকটা তা-ই। সময়টা ১৮৫০।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×