somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় জ্যোতির্ময়ী অর্চিশা

০৭ ই মে, ২০১৯ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিরকুট:-১১
তারিখ:-২৩ বৈশাখ ১৪২৬ বাংলা
প্রিয় জ্যোতির্ময়ী অর্চিশা,
পত্রের শুরুতে দূর দিগন্তে পাখা মেলানো শঙ্খ চিলের রোদ ছড়ানো হাসির প্লাবনে আমার শূন্য এপিটাফে জন্মানো খানিক তুচ্ছ আবেগ জমানো শুভেচ্ছা।
উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল উওরের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল মাঝ সমুদ্রে জাহাজের সম্মুখপ্রাণে বসে তোমায় লিখছি।
জানি ভালো আছো,আর ভালো আছো বলেই হয়ত আমায় ভুলে গিয়েছো।
আমি রমযান মাসের রহমতে আমার সহ-নাবিকদের নিয়ে খুব ভালো আছি বলেই তোমায় লিখছি নিয়মভাঙা চিরকুটে।
আমাকে না হোক,আমার কলমের চোয়ালের আবেগ মিশ্রিত চিরকুটকের লিখা শব্দগুলো তো তুমি ঠিকই ভালোবাসো,আমি কেবলি সেসব চিরকুটের নামমাত্র প্রেরক। পুরো চিরকুট জুড়েই তো তোমার বসবাস।
আমি বুঝি, ভালবাসা পাওয়ার ভীষণ অযোগ্য?
তোমার ঠিকানায় প্রেরক হয়ে চিরকুট লিখাকে আমি ভালোবাসি,আর তুমি ভালোবাস চিরকুটের প্রাপক হতে,অন্তত একটা জায়গায় তো তুমি আমি এক।মেঘের নাচ দেখতে দেখতে আমার নিরাশায় বাধাঁ ঘর হঠাৎ বাণের জলে ভেসে গেল। লাল নীল সাদা শূন্যতার কথা কাটাকাটি চলছে মনের সংলাপে,মন বলছে তোমায় ভালবাসি আর তুমি বলছো বাসিনা।
বিশাল সমুদ্রের হিম ঝরানো বাতাসের কাম্পিল্যে চুমু একে দিয়ে যাচ্ছে তোমার মনের তস্করে দক্ষিণী জানালায়। অথচ তুমি নাকি অবগত নও,কিছুই নাকি বোঝনা। মনে মেঘ দানবের চমৎকার কিছু দৃশ্য মাধুরী অবলোনে তোমার চোখের আবেদন বেশ মনে পড়ছে।মাতাল আমার মন মাঝে মাঝে বিগড়ে যায় তোমার ঐ চোখের মাদকচক্রে। নিজেকে ভয়ংকর রকমের বেয়াদব মনে হয়।
এ সমুদ্রপথের অতন্দ্রিতা রাতের তারাবাতিতে বিদঘুটে নেশার ডাইরী তোমার চোখ যেন দূর থেকে আমায় ডাকছে। অস্মিতায়ী তুমি কি আজও খোঁজও পথের অন্তরালে আমার পায়ের স্পর্শ,কবে দেখা হবে দুজনার?কবে মেরামত হবে তোমার আমার পারাপারের সেতুবন্ধন। কানের অষ্টপদে হাত রেখে নির্লিপ্তে বলছি, ওগো প্রিয় ভালবাসি তোমায়। তুমি দেয়ালে কান পেতে দেখো শুনতে পাবে।
জানো প্রিয়,আজকাল ধরতে ইচ্ছে করে তোমার এলোকেশ,ইচ্ছে করছে কানের দুলের দোলাচাল দেখতে। দ্রোহের মায়াজালে নিস্তব্ধ শূন্যতার প্রতিশ্রুতিতে কেবলি তুমি। বুকের গহীন নিভৃতে তোমার দেয়া ক্ষত ঘুমায় যত্নে আর আমি একলা জেগে থাকি নীরব রাতে। আমি অন্ধকার,চারদিকে কত আলো সে আলো তোমার মনের রঙের বিছানা বিছিয়ে রেখেছে। ভাঙাচোরা মনের আবার গেরস্হালী তোমার মনের দরজার নির্বাক নিরুত্তর প্রহরী একদিন ঠিক চাকরীটা ছেড়ে দেবে অন্য কারো আগমনে। তোমার মাঝে কি আছে কি নেই সে আমি জানিনে,আমি জানি যে তোমার সলাজ মাদকতাময় হাসিটাই যথেষ্ট। নীলরঙা কাঁচের চুড়ি পড়ে আমার হৃদয়পটে তোমার বিচরণ ঝংকার শুনতে এ মন ব্যাকুল। তোমার হৃদয় রাজ্যে মনোনয়ন চাই যেখানে আমি ছাড়া আর কোনো প্রার্থী থাকবেনা। বাকি গল্পটা তুমি ছাড়া যে বড্ড অসম্পূর্ণ,সে গল্পের মাঝখানে অন্যকেউ আসুক তা আমি চাইনে। গতকাল সমুদ্ররানীর অপরূপ রূপে মোহিত হয়েছি,তবে তুমি থাকলে হয়ত একটু গল্প হতো এক আখিঁপাতে,তোমায় মনে পড়েছিল খুব। আমি শুধু অবেলায় কুড়িয়ে পাওয়া একটু ভালবাসা চেয়েছিলাম তোমার প্রাণে,তুমি না দিয়ে উল্টো অভিযোগের পাহাড় জড়ো করেছো। স্মৃতির ঝাপসা আয়নায় তোমার মুখ নিয়ে বেচেঁ থাকার ব্যর্থ চেষ্টা আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে। শর্ত ভঙ্গের সব কাব্য আধাঁরের মায়ায় নিস্তব্ধ, তুমি ঝুরিঝুরি শব্দের মাল্যমালঞ্চ। কবিতার শব্দ কোঠরে তোমার অস্তিত্বের ঘ্রাণ পায় নীলপরী। রুদ্ধাক্ষত অহমিকার অহমে আমি পুড়ে ধ্বংস হয়েছি, ধ্বংস হয়েছে আমার অনুভূতির দেয়াল। তোমাকে ভালবাসাও যেন আমার মহাপাপ। আজ আর নয়,তোমার জন্য আমি ভালবাসা ছাড়া কোন উপহার কিনতে পারিনি। আমার আবেগ জড়ানো ভালবাসার এ চিরকুট উপহার কেবলি তোমার জন্য রেখেছি। মস্তিকে বন্দি শব্দগুলো ধীরে ধীরে পলায়ন করছে গা ডাকা দিয়ে। তাই আজ এখানেই শেষ করছি,পরবর্তী চিরকুট অন্য কোন নতুন জায়গা হতে লিখার অপেক্ষায় থাকবো।
ভালো থেকো ভাবনার ওপারে অন্তনীড়ের মঞ্চের বিপরীত সহ শিল্পী।
ইতি
তোমার চার পয়সার চিরকুটওয়ালা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৯ রাত ১২:০৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×