somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহার

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিবেদনটি দেখতে পাবেন বাংলাভিশন এ ২৩/৪/১৫ ইং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় শ্যামল বাংলা অনুষ্ঠানে

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কৃষকের চাষাবাদ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসায় ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক বালাইনাশকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন চাষীরা। আর মানুষের খাদ্য বিষযুক্ত হতে শুরম্ন করে, যার ফলে মানব দেহে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। মানবদেহে রোগব্যাধি বর্তমানে দেশের জাতীয় একটি সমস্যা আর এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড গ্রাম পর্যায়ের কৃষকদের নিয়ে শুরম্ন করে জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহার নিয়ে নতুন এক কার্যক্রম। উপজেলার পূর্ব বলরামপুর গ্রামের কৃষক ও কৃষানীদের জৈব বালাইনাশক তৈরি করার পদ্ধতি হাতে কলমে শিখিয়ে কৃষি কাজে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করছেন এস এম শাহিন হোসেন। () শুধু পূর্ব বলরামপুর গ্রামে নয় কালিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি গ্রামের কৃষকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্চাসেবী এ প্রতিষ্ঠান হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড। কি ভাবে ফসলকে পোকামাকড় ও কীট পতঙ্গ থেকে মুক্ত রাখা যায় এবং ভাল ও বিষমুক্ত ফসল ঘরে তোলা যায় সেই বিষয়টি সব কৃষকদের পাশাপাশি বাড়ীর মহিলারাও আয়ত্ব করেছেন এবং জৈব বালাইনাশক তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করছেন। () জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করলে ফসলের কোন ড়্গতি হয়না বরং অতিরিক্ত খরচ ছাড়ায় ভাল ফসল উৎপাদন করা যায় ।
জৈব বালাইনাশক তৈরির উপকরণ ঃ
পাতাসহ নিসিন্দা গাছ ১ কেজি।
কালোমেঘ গাছ ১/২ কেজি।
বিষ কাটালী গাছ ১ কেজি।
নিম পাতা ১ কেজি।
নিমের ছাল ১/২ কেজি।
ভাটির পাতা ১ কেজি।
মেহগনির ফল ১ কেজি।
গরম্নর চুনা ১ কেজি।
পানি ৫ কেজি।
জৈব বালাইনাশক তৈরির পদ্ধতি ঃ
উপকরণগুলো কুচি কুচি করে কেটে পর্যায়ক্রমে নিসিন্দা, কালোমেঘ, বিষকাটালী, নিমপাতা ও ছাল, ভাটির পাতা, মেহগনির ফল মাটির পাত্রে ঢুকিয়ে তারপর ১ কেজি গরম্নর চুনা ও ৫ কেজি পানি দিয়ে পলিথিন দিয়ে মুখ বেধে দিতে হবে। এরপর পাত্রটি ছায়া ও ঠান্ডাযুক্ত স'ানে ১৪ দিন রেখে দিতে হবে যাতে করে উপকরণ গুলো ভালভাবে পঁেচ যায়। ১৪ দিন পর প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি জৈব বালাইনাশকটি ব্যবহার উপযোগি হবে।

ব্যবহার বিধিঃ
প্রাকৃতিক গাছপালা দিয়ে তৈরি জৈব বালাইনাশক উপকরণগুলো ১৪ দিন পাত্রে পঁচানোর পর সেটা সংগ্রহ করে ছাকুনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। ছেঁকে নেওয়া রস বা জৈব বালাইনাশক সবজি বা ফসলে ব্যবহার করা যাবে। তবে নিদৃষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। সেড়্গেত্রে কৃষক ভাইয়েরা ৯ লিটার পানির সাথে ১ লিটার জৈব বালাইনাশক মিশিয়ে ফসলে বা সবজি ড়্গেতে ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে একবার স্প্রে করলে সবজি ড়্গেত পোকা মাকড় বা কীট পতঙ্গ থেকে রেহায় পাবে।

প্রিয় কৃষক এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক আরো কিছু জৈব বালাইনাশক তৈরীর পদ্ধতি ও তার ব্যবহার।
ভুয়ো পোকা দমনেঃ
সবজি ড়্গেতে প্রায় দেখা যায় ভুয়ো পোকার আক্রমন। শুধু সবজি ড়্গেতে না, পাট বা অন্যান্য গাছের পাতায়ও ভুয়ো পোকার আক্রমন পরিলড়্গিত হয়। আর এই পাতা খেয়ে ফেলা বা কচি ডগা কেটে দেওয়া ভুয়ো পোকার আক্রমন থেকে রড়্গা পেতে জৈব বালাইনাশক তৈরি করে স্প্রে করলে ভুয়ো পোকার আক্রমন থেকে রড়্গা পাওয়া যায়। সেড়্গেত্রে এই জৈব বালাইনাশকটি তৈরি করতে যা যা লাগবে তা হলো- রয়না বা পিতরাজ গাছের ছাল ১ কেজি, সাজনার ছাল ১ কেজি, গরম্নর চুনা ৫ কেজি, পেয়াজ বাটা বা টুকরা করা ১/২ কেজি এবং ৩০ লিটার পানি। উপকরণ গুলো টুকরো টুকরো করে গরম্নর চুনা ও পানির সাথে একত্রে ২১ দিন রেখে দিতে হবে। () ২১ দিন পর মিশ্রিত উপকরণগুলো ছেকে রস বা জৈব বালাইনাশক ৪ লিটার নিয়ে ১৬ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে সবজি বা ফসলে স্প্রে করলে ভুয়ো পোকার আক্রমন থেকে রড়্গা পাওয়া যাবে।
মাজড়া দমনেঃ
ধান চাষে সবচেয়ে বড় পতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাজড়া পোকা। আর মাজড়া পোকা দমনে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে খুব ভাল ফল পেতে পারেন কৃষকরা। মাজড়া পোকা দমন করতে জৈব বালাইনাশক তৈরি করতে হলে যে উপকরণ গুলো লাগবে তা হলো- ১ কেজি মেহগনির ফলের বীজ, ১ কেজি নিম পাতা, ১/২ কেজি নিম গাছের ছাল, ১ কেজি ভাটির পাতা, ৫ কেজি গরম্নর চুনা ও ৩৫ লিটার পানি। উপকরণগুরো একটি পাত্রে একসাথে মিশিয়ে ২১দিন ছায়াযুক্ত ঠান্ডা স'ানে রেখে দিতে হবে। তারপর ২১ দিন পর এটা ছেকে নিয়ে ধান ড়্গেতে ব্যবহার করা যাবে। মাজড়া দমনে জৈব বালাইনাশক পরিমান মত ব্যবহার করতে হবে। সেড়্গেত্রে ৪ লিটার জৈব বালাইনাশক যুথী ও ১৬ লিটার পানি একত্রে মিশিয়ে ধান ড়্গেতে স্প্রে করলে মাজড়া পোকা আক্রমন করতে পারবে না এবং মাজড়া পোকা যদি ধান ড়্গেতে আক্রমন করে থাকে তবে জৈব বালাইনাশক যুথী ব্যবহার করলে মাজড়া পোকা দমন হবে।
জৈব ভিট বেড়া
আমরা ফসলের ড়্গেতে গরম্ন ছাগলের উপদ্রব থেকে রড়্গা পেতে মজবুত করে বেড়া দিয়ে থাকি। তাতে করে কৃষকের ফসল উৎপাদনে খরচের মাত্রা বেড়ে যায়। ফসল উৎপাদনে খরচ কমাতে এবং গবাদি পশুর উপদ্রব থেকে রড়্গা পেতে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মলিস্নকপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম যুথী উদ্ভাবন করেছেন জৈব পদ্ধতিতে ভিট বেড়া। () অদৃশ্য এই বেড়া তৈরি করা যায় জৈব পদ্ধতিতেই। সেড়্গেত্রে মাছের আশটে ও মাছ ধোয়ার পানি ৭ দিন একটি পাত্রে রেখে ৭দিন পর জমির চারিপাশে ছিটিয়ে দিলে ঐ জমিতে গরম্ন ছাগলের আক্রমন থেকে রড়্গা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড ও কাজ করে যাচ্ছে কৃষকদের সাথে। ()

হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড ইমো নামে আরেকটি বালাইনাশক আবিষ্কার করেছে যেটি ফসলের পাশাপাশি গরম্নর খাদ্য তৈরীতে, মাছের খাদ্য তৈরীতে এবং সর্বোপরি মাছ পরিবহণে ফরমালিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। যার আশানুরম্নপ ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশিস্নষ্টরা দাবি করছেন।

যদি কালিগঞ্জ উপজেলার মত দেশের প্রতিটি অঞ্চলে কৃষকরা জৈব বালাইনাশক তৈরি করে ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করে তাহলে একদিন আমরা পাবো বিষমুক্ত খাদ্য। আর সেই লড়্গ্যে আপনি আমি আমরা সচেতন হয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহারের জন্য। তাহলে সারাদেশে বিষমুক্ত সবজি ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×