আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা তোলার পদ্ধতিসমূহ
আমরা অনেকেই বিশেষ করে নতুনরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই আপওয়ার্ক থেকে কিভাবে টাকা তুলবো অথবা কোন পদ্ধতিতে টাকা তোলা সহজ এবং লাভজনক। চলুন জেনে নেই আপওয়ার্ক থেকে টাকা তোলার পদ্ধতিগুলো সম্পর্কীয় বিস্তারিত তথ্যগুলোঃ
১। ওয়্যার ট্রান্সফার বা ব্যাংক ট্রান্সফার: আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে তা আপওয়ার্ক এ অ্যাড করে খুব সহজেই আপনার ব্যাংকে টাকা তুলে নিতে পারেন। তবে এই ক্ষেত্রে আপনার আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট নাম এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম একই হতে হবে। এবং অন্যান্য তথ্যগুলো সঠিক হতে হবে। আপওয়ার্ক থেকে ব্যাংকে টাকা তুলতে প্রতিবার আপনাকে $4.99 ফি দিতে হবে। সাধারণত ২-৫ দিনের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট এ এসে টাকা জমা হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সব ব্যাংকেই আপনি টাকা তুলে নিতে পারবেন। ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট দিয়েও টাকা তুলতে পারবেন তবে এক্ষেত্রে খরচ টা সামান্য একটু বেশি হয়ে যায়। যেকোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এড করতে হলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম এবং আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট এর নাম ১০০% একরকম হতে হবে। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার, ব্যাংক সুইফট কোড ( যেমন - যেকোন ডাচ বাংলা ব্যাংক এর ক্ষেত্রে DBBLBDDH, যে কোন ব্র্যাক ব্যাংক এর ক্ষেত্রে BRAKBDDH) এর প্রয়োজন পড়বে। আপনার ব্যাংক এর সুইফট কোড এর জন্য ব্যাংক থেকে জেনে নিন অথবা গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।
২। Skrill স্ক্রিল একটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট মাধ্যম। এই পদ্ধতিতে আপনি আপওয়ার্ক থেকে আপনার $ তুলে স্ক্রিল অ্যাকাউন্ট এ $ হিসেবে রাখতে পারবেন। পরবর্তীতে চাইলে স্ক্রিল থেকে আপনার ব্যাংকে টাকা নিয়ে আসতে পারবেন অথবা অনলাইনে যেখানে স্ক্রিল দিয়ে কেনাকাটা করা যায় সেখানে করতে পারবেন। অথবা অন্য কারো কাছে আপনার $ বিক্রয় করে নগদ টাকা পেতে পারেন। তবে বিশ্বস্ত কারো কাছে বিক্রয় করা ভালো। আর স্ক্রিল অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে অন্য স্ক্রিল এ ট্রান্সফার করতে হলে ১% ফি দিতে হয়।আপওয়ার্ক থেকে স্ক্রিল এ টাকা তুলতে আপনাকে প্রতিবার $1 ফি দিতে হবে।আপনার যদি স্ক্রিল অ্যাকাউন্ট না থাকে তবে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে Skrill - এখানে ক্লিক করুন । তবে অবশ্যই খেয়াল করে USD কারেন্সি তে রেজিস্টার করবেন কেননা আপওয়ার্ক থেকে আপনার স্ক্রিল এ USD হিসেবেই আসবে। অন্য কারেন্সি হলে খরচ টা একটু বেশি পড়ে যাবে। বর্তমানে স্ক্রিল ডলার ব্যাংক এর মাধ্যমে উত্তোলন করা ব্যয় সাপেক্ষ বিধায় সরাসরি বিক্রয় করে দেয়াই ভালো।
৩। Payoneer পেয়নিয়ার অনেকটা স্ক্রিল এর মতই অনলাইন মাধ্যম। তবে পেয়নিয়ার এর বিশেষত্ব হচ্ছে আপনি পেয়নিয়ার অ্যাকাউন্ট এর সাথে একটি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড পাবেন যা দিয়ে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ATM বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন (ফাস্ট ট্র্যাক ব্যতিত)। চাইলে অনলাইনে এই কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করতে পারবেন। অথবা স্ক্রিল এর মতই পেয়নিয়ার $ অন্য কারো কাছে বিক্রয় করে দিতে পারবেন। কার্ডটির একটি বাৎসরিক ফি রয়েছে $29.95 । এছাড়া ATM থেকে টাকা তুলতে প্রতিবার $3.15 করে ফি দিতে হবে। আর রেফেরাল লিঙ্ক দিয়ে পেয়নিয়ার অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করলে আপনি $25 বোনাস পাবেন (প্রথমবার কার্ডে $100 তোলার পর)আর আপওয়ার্ক থেকে পেয়নিয়ার এ টাকা তুলতে $2 ফি দিতে হবে। ৪৮ ঘণ্টা পর আপনার কার্ডে টাকা জমা হবে। অথবা $2.5 এর মতো অতিরিক্ত ফি দিয়ে সাথে সাথে কার্ডে টাকা পেতে পারেন।আপনার পেয়নিয়ার অ্যাকাউন্ট না থাকলে যাকাউন্ট রেজিস্টার করতে Payoneer - এখানে ক্লিক করুন । তবে মনে রাখবেন রেজিস্টার এর সময় আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং অন্যান্য তথ্যাদি আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড/পাসপোর্ট অনুযায়ী করবেন। কেননা এক্ষেত্রে অ্যাপ্রভাল এর প্রয়োজন হয় এবং তার জন্য আপনাকে আইডি কার্ড/ পাসপোর্ট এর স্ক্যান কপি দিতে হবে। এছাড়াও পেয়নিয়ার সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়মগুলো ভালোভাবে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন
৪। Paypal পেপাল স্ক্রিল বা পেয়নিয়ার এর মতই অনলাইনে মাধ্যম। কিন্তু পেপাল কে অল্টারনেট ব্যাংকিং বলা যায়। পেপাল বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়। তবে অন্য কোন দেশ থেকে আপনি অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারেন। অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে Paypal - এখানে ক্লিক করুন । তবে পেপাল অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ। পেপাল দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন না। কিন্তু অনলাইনে বেশিরভাগ ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন অথবা অন্য কারো কাছে পেপাল $ বিক্রয় করে দিতে পারবেন। আপওয়ার্ক থেকে পেপাল এ টাকা তুলতে $1 ফি দিতে হয়।
*** মূলত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এ টাকা নিয়ে আসা টা সবচেয়ে নিরাপদ। তবে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার সবগুলো পেমেন্ট রিসিভ এর পদ্ধতি সমুহে অ্যাকাউন্ট করে রাখা ভালো।
ধন্যবাদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


